টেকনাফ নাফ নদ থেকে ৩ নৌকাসহ ১৩ জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০১:২৪ অপরাহ্ন

টেকনাফ নাফ নদ থেকে ৩ নৌকাসহ ১৩ জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি

টেকনাফ নাফ নদ থেকে ৩ নৌকাসহ ১৩ জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার শাহপরীর দ্বীপ সংলগ্ন নাফ নদীর মোহনা থেকে তিনটি মাছ ধরার নৌকাসহ ১৩ বাংলাদেশি জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ)। 

শনিবার সকাল ৭টার দিকে শাহপরীর দ্বীপের ঘোলারচর সংলগ্ন নাইক্ষ্যংদিয়া নামক এলাকায় মাছ শিকারের সময় অস্ত্রের মুখে তাদের অপহরণ করা হয় বলে জানা গেছে। 

​আটক জেলেরা হলেন— মোস্তাফিজুর রহমান, ফরিদ হোসেন, রবিউল হাসান, মো. কালাম, হোসেন আম্মদ, মীর কাশেম আলী, গিয়াস উদ্দিন, সালাউদ্দিন, মহিউদ্দিন, কালু মিয়া, আবু তাহের, আবদুল খালেক ও জাবের মিয়া। তারা সবাই টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের মাঝর পাড়া ও ডাংঙ্গর পাড়া গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

​সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুল মান্নান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সকালে জেলেরা নাফ নদীর মোহনায় মাছ ধরছিলেন। এসময় হঠাৎ আরাকান আর্মির সদস্যরা স্পিডবোট নিয়ে এসে অস্ত্রের মুখে তাদের ধাওয়া করে এবং তিনটি নৌকাসহ ১৩ জন মাঝিমাল্লাকে ধরে নিয়ে যায়। তিনি আরও জানান, আরাকান আর্মির ক্রমাগত এমন দৌরাত্ম্যের কারণে নাফ নদ ও সাগরে মাছ শিকারে যাওয়া এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। প্রতিনিয়ত জেলেদের ধরে নিয়ে যাওয়ার ফলে স্থানীয় জেলে ও নৌকা মালিকদের মাঝে চরম অভাব ও দুর্দিন নেমে আসার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

​শাহপরীর দ্বীপ পশ্চিম পাড়া জেলে সমিতির সভাপতি আব্দুল গফুর জানান, ফিরে আসা অন্য জেলেদের মাধ্যমে তারা বিষয়টি জানতে পেরেছেন। শনিবার ভোর ৪টার দিকে বেশ কিছু ইঞ্জিনচালিত নৌকা মাছ শিকারে বের হয়েছিল। সকাল ৭টার দিকে আরাকান আর্মির সদস্যরা আক্রমণ চালিয়ে ৩টি নৌকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় জেলে পরিবারগুলোর মধ্যে বর্তমানে গভীর উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিষয়টি ইতিমধ্যে বিজিবি ও স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে।

​টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ ইনামুল হাফিজ নাদিম জানান, জেলেদের ধরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তবে নৌকার মালিক বা পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। অপহৃত জেলেদের ফিরিয়ে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রের তথ্যমতে, গত দেড় বছরে সীমানা লঙ্ঘনের দোহাই দিয়ে অন্তত ৪০০ বাংলাদেশি জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি। বিজিবির প্রচেষ্টায় কয়েক দফায় ১৮৯ জন জেলে ও ২৭টি ট্রলার ফেরত আনা সম্ভব হলেও, এখনো ৩২টি ট্রলারসহ ১৭২ জন জেলে রাখাইন রাজ্যের কারাগারে বন্দি রয়েছেন।




দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা

দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা
ছবি সংগৃহীত।

২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে ১৪০০ নম্বরের মধ্যে ১২৯০ পেয়ে জেলায় শীর্ষ স্থান অর্জন করেছেন কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

কৃতী শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা কক্সবাজার শহরের আলীর জাহাল পশ্চিম বড়ুয়া পাড়ার মো. শাহ আলম ও সাজেদা আক্তার সাজুর মেয়ে।

মুনতাহার প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফলের ধারাবাহিকতা:

তাসনিয়া জাহান মুনতাহা এই মাদ্রাসার একজন অনন্য মেধাবী শিক্ষার্থী। সে প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি বার্ষিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে প্রথম বা দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে এসেছে। পুরো শিক্ষাজীবনে সে কখনো তৃতীয় স্থান লাভ করেনি।

সহশিক্ষা কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণ ও সনদের তালিকা:

পড়াশোনার পাশাপাশি জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তাসনিয়া জাহান মুনতাহার অর্জন এবং সনদের সংখ্যা অসামান্য।




ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ

ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ
ছবি সংগৃহীত।

দাখিল পরীক্ষায় চমক দেখাল ইসলামিয়া মহিলা কামিল (অনার্স-মাস্টার্স) মাদ্রাসা, কক্সবাজার।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, মোট ৮৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৫ জন এবং সাধারণ বিভাগে ১ জন।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মোট ১০০০ নম্বরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২৮৪ পেয়ে রেকর্ড গড়ে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে ওয়ার্দা রিহাব। একই বিভাগের তাহমিদা তবচ্ছুম সাওদা গোল্ডেন জিপিএ-৫-সহ কৃতিত্ব দেখিয়েছে। তার প্রাপ্ত নম্বর ১২৩৬।

ফলাফল শিটে দেখা গেছে, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৯ জন ও সাধারণ বিভাগ থেকে ২৮ জনসহ মোট ৩৭ জন পরীক্ষার্থী ‘এ’ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। তা ছাড়া ১৭ জন এ-, ১৫ জন বি, ৭ জন সি এবং ৫ জন এফ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। মোট পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ।

এদিকে জিপিএ-৫-সহ দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা শফিউল হক জিহাদী। তিনি কৃতী ছাত্রীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।




রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক

রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুতে মায়ের হাতে দুই মাসের শিশুপুত্র জবাই হয়ে নির্মমভাবে খুন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদারপাড়ায় এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

নিহত শিশুর নাম রায়ান আহমেদ (বয়স: ২ মাস)। সে মালয়েশিয়াপ্রবাসী আব্দুল মালেকের সন্তান। শিশুর বাবার বাড়ি রাজারকুল সিকদারপাড়ায় হলেও ঘটনাটি ঘটেছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারের (২৩) বাবার বাড়ি চৌকিদারপাড়ায়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রামু থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারকে আটক করে।

এ বিষয়ে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, পরিবারের তথ্যমতে মেয়েটি মানসিক ভারসাম্যহীন এবং পূর্বে তাকে চিকিৎসকও দেখানো হয়েছে।

সকালে শিশুটিকে নিয়ে রান্নাঘরে ঢুকে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। অভিযুক্ত রোমানা আক্তারকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও বলেন, "পরিবার মানসিক সমস্যার কথা বললেও প্রাথমিকভাবে আমরা তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলতে পারি না। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে এবং চিকিৎসাগত পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।"

ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে দেখছে।