টেকনাফ সীমান্তে ২০৫ কোটি টাকার মাদক জব্দ, উদ্ধার ৪১৪ ভুক্তভোগী
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০১:২৪ অপরাহ্ন

টেকনাফ সীমান্তে ২০৫ কোটি টাকার মাদক জব্দ, উদ্ধার ৪১৪ ভুক্তভোগী

টেকনাফ সীমান্তে ২০৫ কোটি টাকার মাদক জব্দ, উদ্ধার ৪১৪ ভুক্তভোগী
ফাইল ছবি

মিয়ানমার সীমান্তের অস্থির পরিস্থিতির মধ্যেও গত এক বছরে ২০৫ কোটি টাকার বেশি মূল্যের মাদক ও আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। একই সময়ে সাগরপথে মালয়েশিয়া পাচারের শিকার ৪১৪ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার এবং পাচারকারী চক্রের ৯৮ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আজ সোমবার (৫ জানুয়ারি) টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। বিজিবির বার্ষিক প্রতিবেদনে জানানো হয়, গেল এক বছরে গোয়েন্দা নজরদারি ও ড্রোন প্রযুক্তির সহায়তায় ৫৮ লাখ ১৮ হাজার ৪৬২ পিস ইয়াবা, ৫.২৪ কেজি ক্রিস্টাল মেথ (আইস), ১৬টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৬৯টি হাতবোমা উদ্ধার করা হয়েছে। এসব ঘটনায় আটক করা হয়েছে ১৩০ জন মাদক কারবারিকে।

সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি মানবিক তৎপরতায়ও দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ২ বিজিবি। মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি কর্তৃক অপহৃত ১২৪ জন বাংলাদেশি জেলেকে সফলভাবে দেশে ফিরিয়ে এনেছে তারা। এছাড়া সংঘাতের কারণে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী ও সেনাবাহিনীর ৫১৫ সদস্যকে নিরাপত্তা দিয়ে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

এদিকে, সর্বশেষ অভিযানে রবিবার (৪ জানুয়ারি) ভোররাতে টেকনাফের কচ্ছপিয়া এলাকায় সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া পাচারের প্রাক্কালে তিন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করেছে বিজিবি। মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন একটি ভুট্টাখেত ও পানের বরজ থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। তবে বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারীরা গহীন পাহাড়ে পালিয়ে যায়।

টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিকুর রহমান বলেন, “সীমান্তের এক ইঞ্চি জায়গাও অপরাধীদের জন্য নিরাপদ নয়। সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও আন্তঃরাষ্ট্রীয় অপরাধ দমনে বিজিবি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ও আধুনিক সরঞ্জামাদিতে সজ্জিত। মাদক ও মানব পাচারের বিরুদ্ধে আমাদের 'জিরো টলারেন্স' নীতি অব্যাহত থাকবে।”




দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা

দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা
ছবি সংগৃহীত।

২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে ১৪০০ নম্বরের মধ্যে ১২৯০ পেয়ে জেলায় শীর্ষ স্থান অর্জন করেছেন কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

কৃতী শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা কক্সবাজার শহরের আলীর জাহাল পশ্চিম বড়ুয়া পাড়ার মো. শাহ আলম ও সাজেদা আক্তার সাজুর মেয়ে।

মুনতাহার প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফলের ধারাবাহিকতা:

তাসনিয়া জাহান মুনতাহা এই মাদ্রাসার একজন অনন্য মেধাবী শিক্ষার্থী। সে প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি বার্ষিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে প্রথম বা দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে এসেছে। পুরো শিক্ষাজীবনে সে কখনো তৃতীয় স্থান লাভ করেনি।

সহশিক্ষা কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণ ও সনদের তালিকা:

পড়াশোনার পাশাপাশি জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তাসনিয়া জাহান মুনতাহার অর্জন এবং সনদের সংখ্যা অসামান্য।




ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ

ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ
ছবি সংগৃহীত।

দাখিল পরীক্ষায় চমক দেখাল ইসলামিয়া মহিলা কামিল (অনার্স-মাস্টার্স) মাদ্রাসা, কক্সবাজার।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, মোট ৮৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৫ জন এবং সাধারণ বিভাগে ১ জন।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মোট ১০০০ নম্বরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২৮৪ পেয়ে রেকর্ড গড়ে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে ওয়ার্দা রিহাব। একই বিভাগের তাহমিদা তবচ্ছুম সাওদা গোল্ডেন জিপিএ-৫-সহ কৃতিত্ব দেখিয়েছে। তার প্রাপ্ত নম্বর ১২৩৬।

ফলাফল শিটে দেখা গেছে, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৯ জন ও সাধারণ বিভাগ থেকে ২৮ জনসহ মোট ৩৭ জন পরীক্ষার্থী ‘এ’ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। তা ছাড়া ১৭ জন এ-, ১৫ জন বি, ৭ জন সি এবং ৫ জন এফ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। মোট পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ।

এদিকে জিপিএ-৫-সহ দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা শফিউল হক জিহাদী। তিনি কৃতী ছাত্রীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।




রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক

রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুতে মায়ের হাতে দুই মাসের শিশুপুত্র জবাই হয়ে নির্মমভাবে খুন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদারপাড়ায় এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

নিহত শিশুর নাম রায়ান আহমেদ (বয়স: ২ মাস)। সে মালয়েশিয়াপ্রবাসী আব্দুল মালেকের সন্তান। শিশুর বাবার বাড়ি রাজারকুল সিকদারপাড়ায় হলেও ঘটনাটি ঘটেছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারের (২৩) বাবার বাড়ি চৌকিদারপাড়ায়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রামু থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারকে আটক করে।

এ বিষয়ে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, পরিবারের তথ্যমতে মেয়েটি মানসিক ভারসাম্যহীন এবং পূর্বে তাকে চিকিৎসকও দেখানো হয়েছে।

সকালে শিশুটিকে নিয়ে রান্নাঘরে ঢুকে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। অভিযুক্ত রোমানা আক্তারকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও বলেন, "পরিবার মানসিক সমস্যার কথা বললেও প্রাথমিকভাবে আমরা তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলতে পারি না। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে এবং চিকিৎসাগত পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।"

ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে দেখছে।