টেকনাফ সীমান্তে ২০৫ কোটি টাকার মাদক জব্দ, উদ্ধার ৪১৪ ভুক্তভোগী

মিয়ানমার সীমান্তের অস্থির পরিস্থিতির মধ্যেও গত এক বছরে ২০৫ কোটি টাকার বেশি মূল্যের মাদক ও আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। একই সময়ে সাগরপথে মালয়েশিয়া পাচারের শিকার ৪১৪ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার এবং পাচারকারী চক্রের ৯৮ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আজ সোমবার (৫ জানুয়ারি) টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। বিজিবির বার্ষিক প্রতিবেদনে জানানো হয়, গেল এক বছরে গোয়েন্দা নজরদারি ও ড্রোন প্রযুক্তির সহায়তায় ৫৮ লাখ ১৮ হাজার ৪৬২ পিস ইয়াবা, ৫.২৪ কেজি ক্রিস্টাল মেথ (আইস), ১৬টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৬৯টি হাতবোমা উদ্ধার করা হয়েছে। এসব ঘটনায় আটক করা হয়েছে ১৩০ জন মাদক কারবারিকে।
সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি মানবিক তৎপরতায়ও দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ২ বিজিবি। মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি কর্তৃক অপহৃত ১২৪ জন বাংলাদেশি জেলেকে সফলভাবে দেশে ফিরিয়ে এনেছে তারা। এছাড়া সংঘাতের কারণে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী ও সেনাবাহিনীর ৫১৫ সদস্যকে নিরাপত্তা দিয়ে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, সর্বশেষ অভিযানে রবিবার (৪ জানুয়ারি) ভোররাতে টেকনাফের কচ্ছপিয়া এলাকায় সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া পাচারের প্রাক্কালে তিন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করেছে বিজিবি। মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন একটি ভুট্টাখেত ও পানের বরজ থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। তবে বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারীরা গহীন পাহাড়ে পালিয়ে যায়।
টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিকুর রহমান বলেন, “সীমান্তের এক ইঞ্চি জায়গাও অপরাধীদের জন্য নিরাপদ নয়। সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও আন্তঃরাষ্ট্রীয় অপরাধ দমনে বিজিবি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ও আধুনিক সরঞ্জামাদিতে সজ্জিত। মাদক ও মানব পাচারের বিরুদ্ধে আমাদের 'জিরো টলারেন্স' নীতি অব্যাহত থাকবে।”










