ঢালাইয়ের পরদিনই ক্ষিরা ফাঁটা: ঠিকাদার-প্রকৌশলীর যোগসাজশে ১০ কোটি টাকার সড়ক নির্মাণে হরিলুট
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ১২:২০ অপরাহ্ন

ঢালাইয়ের পরদিনই ক্ষিরা ফাঁটা: ঠিকাদার-প্রকৌশলীর যোগসাজশে ১০ কোটি টাকার সড়ক নির্মাণে হরিলুট

ঢালাইয়ের পরদিনই ক্ষিরা ফাঁটা: ঠিকাদার-প্রকৌশলীর যোগসাজশে ১০ কোটি টাকার সড়ক নির্মাণে হরিলুট
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা থেকে বালুরচর, ষোলহিচ্চা হয়ে বহলতলী পর্যন্ত এলজিইডি’র ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন আরসিসি (RCC) সড়কে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কাজ শেষ হওয়ার আগেই সড়কের ঢালাইয়ে ফাটল দেখা দেওয়ায় জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুরু থেকেই নির্মাণ কাজে নানা অনিয়ম পরিলক্ষিত হচ্ছিল। গাইড ওয়ালের সিসি ঢালাইয়ে মিঠা পানির পরিবর্তে লোনা পানি ব্যবহার করার অভিযোগ রয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। এতে নির্মাণের স্থায়িত্ব নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন ওঠে।


অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত ১০ ইঞ্চি পুরুত্বের পরিবর্তে মাত্র ৬ থেকে ৮ ইঞ্চি পুরু করে ঢালাই দেওয়া হচ্ছে। ফলে কাজের মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—গত ১২ এপ্রিল ২০২৬ সন্ধ্যায় সড়কের ঢালাই কাজ সম্পন্ন হওয়ার পরদিন, ১৩ এপ্রিলেই বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেয়। ফাটলের মধ্য দিয়ে পানি প্রবেশ করতে দেখা গেছে, যা ভবিষ্যতে সড়কের স্থায়িত্বের জন্য বড় হুমকি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


অভিযোগ উঠেছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাশেম ট্রেডার্স এবং কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী ফরিদুল ইসলামের যোগসাজশে এই প্রকল্পে হরিলুট চলছে।

উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পটির কাজ ২০২৫ সালের ডিসেম্বরেই শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে কর্তৃপক্ষের কাছে সময় বৃদ্ধি চাওয়া হয়।


এ বিষয়ে চকরিয়া এলজিইডি’র উপসহকারী প্রকৌশলী (এসও) ফরিদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন।


উপজেলা প্রকৌশলী সৌরভ দাস বলেন, “তীব্র রোদ ও লবণাক্ত এলাকায় মাঝে মধ্যে এ ধরনের ফাটল দেখা দিতে পারে।


তবে স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত একটি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিম্নমানের কাজ পুনরায় সম্পন্ন করা হোক।
 




দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা

দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা
ছবি সংগৃহীত।

২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে ১৪০০ নম্বরের মধ্যে ১২৯০ পেয়ে জেলায় শীর্ষ স্থান অর্জন করেছেন কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

কৃতী শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা কক্সবাজার শহরের আলীর জাহাল পশ্চিম বড়ুয়া পাড়ার মো. শাহ আলম ও সাজেদা আক্তার সাজুর মেয়ে।

মুনতাহার প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফলের ধারাবাহিকতা:

তাসনিয়া জাহান মুনতাহা এই মাদ্রাসার একজন অনন্য মেধাবী শিক্ষার্থী। সে প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি বার্ষিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে প্রথম বা দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে এসেছে। পুরো শিক্ষাজীবনে সে কখনো তৃতীয় স্থান লাভ করেনি।

সহশিক্ষা কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণ ও সনদের তালিকা:

পড়াশোনার পাশাপাশি জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তাসনিয়া জাহান মুনতাহার অর্জন এবং সনদের সংখ্যা অসামান্য।




ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ

ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ
ছবি সংগৃহীত।

দাখিল পরীক্ষায় চমক দেখাল ইসলামিয়া মহিলা কামিল (অনার্স-মাস্টার্স) মাদ্রাসা, কক্সবাজার।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, মোট ৮৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৫ জন এবং সাধারণ বিভাগে ১ জন।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মোট ১০০০ নম্বরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২৮৪ পেয়ে রেকর্ড গড়ে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে ওয়ার্দা রিহাব। একই বিভাগের তাহমিদা তবচ্ছুম সাওদা গোল্ডেন জিপিএ-৫-সহ কৃতিত্ব দেখিয়েছে। তার প্রাপ্ত নম্বর ১২৩৬।

ফলাফল শিটে দেখা গেছে, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৯ জন ও সাধারণ বিভাগ থেকে ২৮ জনসহ মোট ৩৭ জন পরীক্ষার্থী ‘এ’ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। তা ছাড়া ১৭ জন এ-, ১৫ জন বি, ৭ জন সি এবং ৫ জন এফ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। মোট পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ।

এদিকে জিপিএ-৫-সহ দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা শফিউল হক জিহাদী। তিনি কৃতী ছাত্রীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।




রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক

রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুতে মায়ের হাতে দুই মাসের শিশুপুত্র জবাই হয়ে নির্মমভাবে খুন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদারপাড়ায় এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

নিহত শিশুর নাম রায়ান আহমেদ (বয়স: ২ মাস)। সে মালয়েশিয়াপ্রবাসী আব্দুল মালেকের সন্তান। শিশুর বাবার বাড়ি রাজারকুল সিকদারপাড়ায় হলেও ঘটনাটি ঘটেছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারের (২৩) বাবার বাড়ি চৌকিদারপাড়ায়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রামু থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারকে আটক করে।

এ বিষয়ে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, পরিবারের তথ্যমতে মেয়েটি মানসিক ভারসাম্যহীন এবং পূর্বে তাকে চিকিৎসকও দেখানো হয়েছে।

সকালে শিশুটিকে নিয়ে রান্নাঘরে ঢুকে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। অভিযুক্ত রোমানা আক্তারকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও বলেন, "পরিবার মানসিক সমস্যার কথা বললেও প্রাথমিকভাবে আমরা তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলতে পারি না। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে এবং চিকিৎসাগত পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।"

ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে দেখছে।