দীর্ঘদিন নির্বাচন নেই, অনিয়মের অভিযোগে তোপের মুখে কমিটি চকরিয়ার ফুটপাত নির্ভর ফল ব্যবসায়ী সমিতি
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৪০ পূর্বাহ্ন

দীর্ঘদিন নির্বাচন নেই, অনিয়মের অভিযোগে তোপের মুখে কমিটি চকরিয়ার ফুটপাত নির্ভর ফল ব্যবসায়ী সমিতি

দীর্ঘদিন নির্বাচন নেই, অনিয়মের অভিযোগে তোপের মুখে কমিটি চকরিয়ার ফুটপাত নির্ভর ফল ব্যবসায়ী সমিতি
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার চিরিংগা সোসাইটি বহুমুখী ফল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতিতে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও জবাবদিহিতার অভাবের অভিযোগ উঠেছে। এতে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন প্রায় দেড় হাজার সদস্য।

অভিযোগ রয়েছে, মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি বহাল থাকলেও নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচন, মাসিক সভা কিংবা বার্ষিক অডিটের কোনো কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে না। এতে সমিতির আর্থিক স্বচ্ছতা ও কার্যক্রম নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।


সদস্যদের দাবি, সমিতির প্রায় ৪০ লাখ টাকায় কেনা জমি এখনো খতিয়ানভুক্ত করা হয়নি। এতে ভবিষ্যতে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি মরণোত্তর ভাতা, বার্ষিক বোনাসসহ সদস্যকল্যাণমূলক কোনো সুবিধাও বাস্তবায়ন হয়নি।

ফলে সমিতির প্রায় কোটি টাকার সম্পদ ও সদস্যদের কষ্টার্জিত মূলধন নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।


চকরিয়া উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা রমিজ উদ্দিন বলেন, “সমবায় আইনের ১৮(৫) ধারা অনুযায়ী কোনো সদস্য লিখিত আবেদন করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি মাসে সভা, বছরে অডিট এবং প্রতি তিন বছর পর নির্বাচন বাধ্যতামূলক। এসব না মানলে নিবন্ধন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হতে পারে।


তিনি আরও জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করে সমিতির সার্বিক কার্যক্রম পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।


অন্যদিকে, সমিতির প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি আবুল হোসেন গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ তুলে বলেন, “সদস্যদের কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে অর্ধকোটি টাকার জমি কেনা হলেও বর্তমান কমিটি তা এখনো খতিয়ানভুক্ত করেনি। নিয়মিত সভা ও অডিট ছাড়াই বর্তমান সভাপতি পদ আঁকড়ে ধরে আছেন।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, সমিতির অফিস কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম এবং অফিসের আসবাবপত্র ও টিভি বিক্রির ঘটনাও ঘটেছে।


এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, সমবায় কর্মকর্তার নাম ব্যবহার করে এবং রাজনৈতিক নেতাদের জন্য ‘হাদিয়া’ দেওয়ার কথা বলে সদস্য ও ভ্রাম্যমাণ দোকানিদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করে তা আত্মসাৎ করা হয়েছে। যদিও ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের আগে চাঁদা তোলা হলেও পরবর্তীতে তা বন্ধ রয়েছে বলে গণমাধ্যমে স্বীকার করেছেন সভাপতি ফরিদুল ইসলাম।


অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সভাপতি ফরিদুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, “যা ইচ্ছা লিখেন”—এমন মন্তব্য করে বিষয়টি এড়িয়ে যান।

এদিকে, সদস্যদের অভিযোগ—তারা নির্বাচন ও হিসাব চাইলে প্রভাব খাটিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে।


বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে সমিতির নিবন্ধন বাতিলের পাশাপাশি সদস্যদের কোটি টাকার বিনিয়োগ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


সমিতির সদস্যরা দ্রুত নির্বাচন, অডিট ও আর্থিক হিসাব প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তারা।




দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা

দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা
ছবি সংগৃহীত।

২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে ১৪০০ নম্বরের মধ্যে ১২৯০ পেয়ে জেলায় শীর্ষ স্থান অর্জন করেছেন কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

কৃতী শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা কক্সবাজার শহরের আলীর জাহাল পশ্চিম বড়ুয়া পাড়ার মো. শাহ আলম ও সাজেদা আক্তার সাজুর মেয়ে।

মুনতাহার প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফলের ধারাবাহিকতা:

তাসনিয়া জাহান মুনতাহা এই মাদ্রাসার একজন অনন্য মেধাবী শিক্ষার্থী। সে প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি বার্ষিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে প্রথম বা দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে এসেছে। পুরো শিক্ষাজীবনে সে কখনো তৃতীয় স্থান লাভ করেনি।

সহশিক্ষা কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণ ও সনদের তালিকা:

পড়াশোনার পাশাপাশি জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তাসনিয়া জাহান মুনতাহার অর্জন এবং সনদের সংখ্যা অসামান্য।




ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ

ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ
ছবি সংগৃহীত।

দাখিল পরীক্ষায় চমক দেখাল ইসলামিয়া মহিলা কামিল (অনার্স-মাস্টার্স) মাদ্রাসা, কক্সবাজার।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, মোট ৮৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৫ জন এবং সাধারণ বিভাগে ১ জন।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মোট ১০০০ নম্বরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২৮৪ পেয়ে রেকর্ড গড়ে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে ওয়ার্দা রিহাব। একই বিভাগের তাহমিদা তবচ্ছুম সাওদা গোল্ডেন জিপিএ-৫-সহ কৃতিত্ব দেখিয়েছে। তার প্রাপ্ত নম্বর ১২৩৬।

ফলাফল শিটে দেখা গেছে, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৯ জন ও সাধারণ বিভাগ থেকে ২৮ জনসহ মোট ৩৭ জন পরীক্ষার্থী ‘এ’ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। তা ছাড়া ১৭ জন এ-, ১৫ জন বি, ৭ জন সি এবং ৫ জন এফ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। মোট পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ।

এদিকে জিপিএ-৫-সহ দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা শফিউল হক জিহাদী। তিনি কৃতী ছাত্রীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।




রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক

রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুতে মায়ের হাতে দুই মাসের শিশুপুত্র জবাই হয়ে নির্মমভাবে খুন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদারপাড়ায় এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

নিহত শিশুর নাম রায়ান আহমেদ (বয়স: ২ মাস)। সে মালয়েশিয়াপ্রবাসী আব্দুল মালেকের সন্তান। শিশুর বাবার বাড়ি রাজারকুল সিকদারপাড়ায় হলেও ঘটনাটি ঘটেছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারের (২৩) বাবার বাড়ি চৌকিদারপাড়ায়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রামু থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারকে আটক করে।

এ বিষয়ে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, পরিবারের তথ্যমতে মেয়েটি মানসিক ভারসাম্যহীন এবং পূর্বে তাকে চিকিৎসকও দেখানো হয়েছে।

সকালে শিশুটিকে নিয়ে রান্নাঘরে ঢুকে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। অভিযুক্ত রোমানা আক্তারকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও বলেন, "পরিবার মানসিক সমস্যার কথা বললেও প্রাথমিকভাবে আমরা তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলতে পারি না। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে এবং চিকিৎসাগত পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।"

ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে দেখছে।