দেশের বাইরে লামার জিমন্যাস্টিকস কোয়ান্টাদের সাফল্য অব্যাহত
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ১২:১৭ অপরাহ্ন

দেশের বাইরে লামার জিমন্যাস্টিকস কোয়ান্টাদের সাফল্য অব্যাহত

দেশের বাইরে লামার জিমন্যাস্টিকস কোয়ান্টাদের সাফল্য অব্যাহত
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামার খ্যাতনামা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজের ৭ জন উদীয়মান খেলোয়াড় সিঙ্গাপুর ওপেন জিমন্যাস্টিকস চ্যাম্পিয়নশিপস ২০২৬-এর তৃতীয় দিনের খেলায় দারুণ সাফল্য অর্জন করেছেন। এদিন বাংলাদেশের জুনিয়র ও সিনিয়র জিমন্যাস্টরা মোট চারটি পদক জিতে দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনেন। সিঙ্গাপুর ওপেন জিমন্যাস্টিকস চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের ঝুলিতে এদিন যোগ হলো আরও ১টি স্বর্ণ, ২টি রুপা ও ১টি ব্রোঞ্জসহ ৪টি পদক।

জুনিয়র বিভাগে বাংলাদেশ জাতীয় দলের খেলোয়াড় উটিংওয়াং মারমা ভোল্টিং টেবিল ইভেন্টে ১৩.৫০০ পয়েন্ট অর্জন করে স্বর্ণপদক জয় করেন। এই ইভেন্টে তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে শীর্ষস্থান দখল করেন। এর আগে উটিংওয়াং মারমা স্টিল রিংস ইভেন্টেও সোনা জয় করেন।

অন্যদিকে মংচিং প্রু মারমা হরাইজন্টাল বার ইভেন্টে ১১.৭০০ পয়েন্ট পেয়ে রৌপ্যপদক অর্জন করেন। সিনিয়র বিভাগে বাংলাদেশের রাজিব চাকমা ভোল্টিং টেবিল ইভেন্টে ১২.৭০০ পয়েন্ট সংগ্রহ করে রৌপ্যপদক জয় করেন। এছাড়া উহাইমং মারমা হরাইজন্টাল বার ইভেন্টে ১২.১৫০ পয়েন্ট পেয়ে ব্রোঞ্জপদক অর্জন করেন। প্রতিযোগিতায় জিমন্যাস্টরা ব্যক্তিগত ইভেন্টে মোট ৩টি স্বর্ণ, ২টি রৌপ্য ও ২টি ব্রোঞ্জ পদক লাভ করেন। এছাড়াও সিনিয়র ও জুনিয়র উভয় দল দলীয়ভাবে ব্রোঞ্জ পদক লাভ করে।

উল্লেখ্য, প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া বাংলাদেশ জাতীয় জিমন্যাস্টিকস দলের ১০ জনের মধ্যে ৭ জনই কোয়ান্টাম কসমো স্কুলের শিক্ষার্থী (কোয়ান্টা)।

বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে লাল-সবুজের জার্সি গায়ে আরও একবার বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করলেন পাহাড়ের উদীয়মান কৃতী জিমন্যাস্টরা। সিঙ্গাপুরে চলমান মর্যাদাপূর্ণ 'জুনিয়র অ্যান্ড সিনিয়র আর্টিস্টিক জিমন্যাস্টিকস সিঙ্গাপুর ওপেন চ্যাম্পিয়নশিপস (এসজিপি)'-এর ২১তম আসরে দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন লামার কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজের এই ৭ উদীয়মান খেলোয়াড়।

বাংলাদেশ জিমন্যাস্টিকস ফেডারেশন সূত্রে জানা গেছে, ১ জুন থেকে ৮ জুন ২০২৬ পর্যন্ত সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিতব্য এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য কোয়ান্টাম কসমো স্কুলের ৭ জন জিমন্যাস্টকে চূড়ান্তভাবে মনোনীত করা হয়েছিল। মনোনীত ৭ জিমন্যাস্ট হলেন—উহাইমং মারমা, প্রেনথৈ ম্রো, মংচিং প্রু ত্রিপুরা, মেনটন টনি ম্রো, উটিংওয়াং মারমা, রাজীব চাকমা ও ওয়েওয়েসাই মারমা।

সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের কোয়ান্টাম জিমন্যাস্টদের ধারাবাহিক সাফল্য দেশের জিমন্যাস্টিকস অঙ্গনের জন্য বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, সিঙ্গাপুর ওপেনের মতো মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক আসরে বাংলাদেশের এই ধারাবাহিক ও অভূতপূর্ব সাফল্য দেশের জিমন্যাস্টিকস অঙ্গনের জন্য এক বিশাল মাইলফলক। সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা পেলে পাহাড়ের এই উদীয়মান কৃতী সন্তানরা অলিম্পিকের মতো বিশ্বমঞ্চেও দেশের জন্য বড় গৌরব বয়ে আনতে সক্ষম হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।




নাইক্ষ্যংছড়িতে ইজিবাইকসহ ৩০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার

নাইক্ষ্যংছড়িতে ইজিবাইকসহ ৩০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়িতে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ইজিবাইকসহ ৩০ হাজার ১০০ পিস বার্মিজ ইয়াবা উদ্ধার করেছে নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি)। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বেলা আনুমানিক ১১টা ১৫ মিনিটে নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন সদর থেকে প্রায় ৫০০ গজ দূরে আম্মাজান কমিউনিটি সেন্টারের কাছে সেতুসংলগ্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১১ বিজিবির একটি বিশেষ আভিযানিক দল ওই এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় সন্দেহজনক একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইককে ধাওয়া করা হলে চালক ও ইয়াবা বহনকারী ব্যক্তি ইজিবাইক এবং সঙ্গে থাকা ইয়াবা ফেলে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় ইজিবাইকসহ তিন কার্টনে ৩০ হাজার ১০০ পিস বার্মিজ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা ইয়াবা ও ইজিবাইক পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “দেশের সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান ও মানবপাচার প্রতিরোধ, অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং মাদক পাচার প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে বিজিবি কাজ করে যাচ্ছে। সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।”




এসএসসিতে এফসিএইচ-এর বাজিমাত, ভালো ফলাফলে উৎসবের আমেজ

এসএসসিতে এফসিএইচ-এর বাজিমাত, ভালো ফলাফলে উৎসবের আমেজ
ছবি সংগৃহীত।

২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে বান্দরবানের বেসরকারি কোচিং প্রতিষ্ঠান 'ফারুক কোচিং হোম' (এফসিএইচ)-এর শিক্ষার্থীরা ভালো ফলাফল অর্জন করেছে। এবারের পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির অধিকাংশ শিক্ষার্থী কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হওয়ায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে আনন্দ-উচ্ছ্বাস।

এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর এফসিএইচ-এ তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জনের পর অনেক শিক্ষার্থী তাদের প্রিয় শিক্ষকদের সঙ্গে দেখা করে। কেউ কেউ মিষ্টি নিয়ে গিয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে সাফল্যের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যকার আন্তরিক সম্পর্কের চিত্র ফুটে ওঠে।

এফসিএইচ-এর সংশ্লিষ্টরা জানান, শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা, নিয়মিত পড়াশোনার তদারকি এবং এসএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রিক প্রস্তুতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী বাড়তি সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক গোলাম ফারুক বলেন, “একজন শিক্ষক হিসেবে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলের দিনে শিক্ষার্থীদের মুখে হাসি দেখার চেয়ে বড় পাওয়া আর কিছু হতে পারে না। তাদের সাফল্যই আমার সবচেয়ে বড় আনন্দ ও অর্জন। এই সাফল্যের পেছনে শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রম, অভিভাবকদের সহযোগিতা, শিক্ষকদের আন্তরিকতা এবং সর্বোপরি মহান আল্লাহর রহমত রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধু এসএসসি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করানো নয়; শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য যোগ্য, সৎ ও আত্মবিশ্বাসী মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা। তারা জীবনের প্রতিটি পরীক্ষায় যেন সফল হতে পারে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”

এফসিএইচ-এর শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরাও। তাদের মতে, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পরিচর্যা, শিক্ষকদের আন্তরিকতা এবং অভিভাবকদের সঙ্গে সমন্বয় ভালো ফলাফলের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

এদিকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় এফসিএইচ-এর অধিকাংশ শিক্ষার্থীর ভালো ফলাফল প্রতিষ্ঠানটির প্রতি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আস্থা আরও বাড়িয়েছে। বান্দরবানে শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফল ও একাডেমিক প্রস্তুতির ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

আগামী দিনেও শিক্ষার্থীদের আরও ভালো ফলাফল অর্জন এবং তাদের স্বপ্ন পূরণে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় জানিয়েছে ফারুক কোচিং হোম।




লামায় অভাবনীয় সাফল্য কোয়ান্টাম কসমো স্কুলের, সর্বোচ্চ জিপিএ-৫

লামায় অভাবনীয় সাফল্য কোয়ান্টাম কসমো স্কুলের, সর্বোচ্চ জিপিএ-৫
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় ২০২৬ সালের মাধ্যমিক, দাখিল ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। সারাদেশে ফলাফল বিপর্যয়ের মাঝে প্রতিবারের মতো এবারও নিজেদের মেধার স্বাক্ষর রেখে উপজেলার মধ্যে জিপিএ-৫ এবং পাসের হারে শীর্ষ স্থান বজায় রেখেছে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এসএসসি (মাধ্যমিক) শাখায় কোয়ান্টাম কসমো স্কুল থেকে মোট ৭৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে ৭১ জন শিক্ষার্থী সফলতার সাথে উত্তীর্ণ হয়েছে। জিপিএ-৫ অর্জন করেছে সর্বোচ্চ ১৩ জন শিক্ষার্থী এবং পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৯৪.৬৭ শতাংশ।

পুরো লামা উপজেলায় মাধ্যমিক শাখায় সর্বমোট ২৭ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে, যার মধ্যে প্রায় অর্ধেক (১৩ জন) পেয়েছে একাই কোয়ান্টাম কসমো স্কুল।

এছাড়া এসএসসি ভোকেশনাল ও দাখিল ভোকেশনাল শাখায় কোয়ান্টাম কসমো স্কুল থেকে ৬৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬৫ জন পাস করেছে, যেখানে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮ জন এবং পাসের হার ৯৪.২০ শতাংশ।

উপজেলার সামগ্রিক ফলাফলে দেখা যায়, এসএসসি মাধ্যমিক শাখায় ১,১১৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৫২৫ জন (পাসের হার ৪৭.০৯ শতাংশ), দাখিল শাখায় ১২৩ জনের মধ্যে ৫৮ জন উত্তীর্ণ হয়েছে (পাসের হার ৪৭.১৫ শতাংশ) এবং কারিগরি/ভোকেশনাল শাখায় ১১৬ জনের মধ্যে ৯৬ জন উত্তীর্ণ হয়েছে (পাসের হার ৮২.৭৬ শতাংশ)।

কোয়ান্টাম কসমো স্কুলের এই ধারাবাহিক ও অভাবনীয় ফলাফলে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দের আমেজ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের মতে, দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে আলো ছড়িয়ে লামার সুনাম দেশজুড়ে উজ্জ্বল রাখতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে বিদ্যালয়টি।

অন্যদিকে লামা উপজেলার রূপসীপাড়া ইউনিয়নে অবস্থিত লামা স্বপ্নকানন বিদ্যাপীঠ ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে সন্তোষজনক সাফল্য অর্জন করেছে। নতুন ও পুরোনো মিলিয়ে বিদ্যালয়টির মোট ৩৪ জন শিক্ষার্থী এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে, যার মধ্যে ২৬ জন শিক্ষার্থী কৃতকার্য হয়েছে। বিদ্যালয়টির পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৭৬.৪৭ শতাংশ।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মতে, প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের আন্তরিক প্রচেষ্টা, শিক্ষার্থীদের অধ্যবসায় এবং অভিভাবকদের সহযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এবারের এসএসসি ফলাফল সেই প্রচেষ্টারই একটি ইতিবাচক প্রতিফলন।