নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারীতে সভাপতি পদে হেরে বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ
বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:২৯ অপরাহ্ন

নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারীতে সভাপতি পদে হেরে বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারীতে সভাপতি পদে হেরে বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী করলিয়ামুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির (ম্যানেজিং কমিটি) সভাপতি পদে পরাজিত প্রার্থী মো. আবদুর রহিম বাবুলের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ ওঠে। তবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। তারা অভিযোগগুলোকে প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা হিসেবে দেখছে।

সভাপতি পদে পরাজিত প্রার্থী আবদুর রহিম বাবুল বিদ্যালয়ের জমি দখল, 'পকেট কমিটি' গঠন, উন্নয়ন তহবিলের অর্থ আত্মসাৎ এবং শিক্ষার্থীদের শৌচাগার (টয়লেট) ব্যবহারে বাধা দেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ করেছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে অভিযোগের পক্ষে তাৎক্ষণিক কোনো দৃশ্যমান প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদান চলছে। শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিক পরিবেশে ক্লাস করছে। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণেও স্বাভাবিক পরিবেশ বিরাজ করছে। কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বললে তারা পড়ালেখা বা শৌচাগার ব্যবহারে কোনো ধরনের সমস্যার কথা জানায়নি।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৫২ সালে কুমপাড়া এলাকায় করলিয়ামুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে ১৯৭৫ সালে বিদ্যালয়টি বর্তমান স্থানে স্থানান্তরিত হয়। স্থানান্তরের সময় হাজী সুলতান আহমদ বিদ্যালয়ের দাতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার মৃত্যুর পর তার বড় ছেলে ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. সামশুল আলম দাতা সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সামশুল আলম বর্তমানে অসুস্থ থাকায় প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তার ছোট ভাই মো. আলম দাতা সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

বিদ্যালয়ের জমি দখলের অভিযোগের বিষয়ে সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের নামে থাকা প্রায় ১ একর ৫৩ শতাংশ জমি বর্তমানে বিদ্যালয়ের দখলেই রয়েছে। জমির কোনো অংশে স্থানীয় কারও দখল রয়েছে—এমন দৃশ্য চোখে পড়েনি। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ও আশপাশের পরিবেশেও এ ধরনের কোনো বিরোধের চিত্র দেখা যায়নি।

বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের জন্য জায়গা দেওয়ার বিষয়ে দাতা সদস্য মো. আলম বিএ জানান, তৎকালীন সভাপতি শফি আলম ও প্রধান শিক্ষক মো. জাফর আলম হেলালী দাতা সদস্যের কাছে জায়গা চাওয়ার পর সেখানে নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়। এ ছাড়া ৩১৫ নম্বর খতিয়ান থেকেও বিদ্যালয়ের জন্য জমি দান করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

গত ৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন পরাজিত প্রার্থী আবদুর রহিম বাবুল। তিনি নির্বাচিত কমিটিকে 'পকেট কমিটি' আখ্যা দিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ করেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

তবে নির্বাচনের পর্যবেক্ষক মো. নুরুল ইসলাম ও মো. করিম উদ্দিন বলেন, "নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয়েছে। ভোটগ্রহণে কোনো ধরনের কারচুপি হয়নি। নির্ধারিত সময়ে ভোটগ্রহণ শুরু ও শেষ হয় এবং ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন।"

দাতা সদস্য মো. আলম বলেন, "আবদুর রহিম বাবুল আমাকে সভাপতি নির্বাচিত করার জন্য অনৈতিক প্রস্তাব দিয়েছিলেন। আমি তাতে রাজি না হওয়ায় এখন আমার বিরুদ্ধে নানা ধরনের কথা বলা হচ্ছে। তার অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।"

তিনি আরও বলেন, "বিদ্যালয়ের জমি দখল কিংবা কমিটি নিয়ে যে অভিযোগ করা হচ্ছে, সেগুলোর সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই। নির্বাচনেও কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি।"

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাফর আলম হেলালী বলেন, "বিদ্যালয়ের সব কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলছে। প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যেই সভাপতি পদে পরাজিত আবদুর রহিম বাবুল ভিত্তিহীন অভিযোগ করছেন বলে আমরা মনে করছি।"

তিনি আরও বলেন, "তিনি নিজেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন। নির্বাচন শেষে নির্বাচিত কমিটির বিরুদ্ধে নানা ধরনের অভিযোগ তোলা কতটা যৌক্তিক, সেটি আমার বোধগম্য নয়। বিদ্যালয়ের জমি দখল, উন্নয়ন তহবিলের টাকা আত্মসাৎ কিংবা শিক্ষার্থীদের শৌচাগার ব্যবহারে বাধা দেওয়ার অভিযোগেরও কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।"

'আমি অপপ্রচার করিনি, গঠনমূলক সমালোচনা করেছি' তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অপপ্রচারের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সভাপতি পদে পরাজিত প্রার্থী মো. আবদুর রহিম বাবুল।

তিনি বলেন, "আমি নির্বাচনে সভাপতি পদে প্রার্থী ছিলাম এবং নিজেই ভোট দিয়েছি। নির্বাচনে আমি তিনটি ভোট পেয়েছি, আর আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী পেয়েছেন আটটি ভোট। ভোটে আমি হেরে গিয়েছি—এটা সত্য। তবে আমাকে যথাযথ মূল্যায়ন করা হচ্ছে না।"

বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "আমি বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে নই। আমি কোনো অপপ্রচার করিনি; গঠনমূলক সমালোচনা করেছি।"

তিনি জানান, বিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তার যে বক্তব্য, সেগুলো তিনি সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্দেশ্যেই তুলে ধরেছেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিষয়ে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে প্রমাণসহ উপস্থাপন করা উচিত। একই সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই করা জরুরি।

তারা মনে করেন, অভিযোগ সত্য হলে তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। আর অভিযোগের সত্যতা না থাকলে যাচাই-বাছাই ছাড়াই প্রচার চালানোর কারণে বিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে অভিযোগগুলোর প্রশাসনিক অবস্থান আরও স্পষ্ট হবে।




মিরিঞ্জা রয়্যাল হিল রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে হামলা ও ভাঙচুরের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

মিরিঞ্জা রয়্যাল হিল রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে হামলা ও ভাঙচুরের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলার মিরিঞ্জা পর্যটন এলাকায় অবস্থিত ‘মিরিঞ্জা রয়্যাল হিল রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট’ জোরপূর্বক দখল, হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও চাঁদাবাজির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) লামার স্থানীয় একটি মিলনায়তনে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রিসোর্টের অংশীদার মো. সুলতান মাহমুদের পক্ষে অপর অংশীদার জাফর মিয়া।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, লামা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কলিঙ্গারবিল এলাকার জাফর মিয়া এবং ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বড় নুনারনবিল পাড়ার বাসিন্দা মো. সুলতান মাহমুদ দীর্ঘদিন ধরে “মিরিঞ্জা রয়্যাল হিল রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট” অংশীদারির ভিত্তিতে পরিচালনা করে আসছিলেন। পূর্বে জমির মূল মালিক দুলাল মিয়ার সঙ্গে জটিলতা নিরসন করে মো. রাসেল চৌধুরী নামক বিবাদী টাকা বুঝে নিয়ে অংশীদারত্ব থেকে সরে যান এবং বাদী শেয়ার বুঝে নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করতে থাকেন। কিন্তু পরবর্তীতে রাসেল চৌধুরীসহ একটি চক্র রিসোর্টের অংশীদারত্ব দাবি করে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও চাঁদা দাবি শুরু করে।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ২৪ সেপ্টেম্বর দুপুর আনুমানিক ২টায মো. রাসেল চৌধুরীর (সাবেক যুবলীগ নেতা) নেতৃত্বে শিশির স্বপন চাকমা, সঞ্জিতা চাকমা, মো. আরিফুল ইসলাম (ছাত্রলীগ নেতা), শাহাব উদ্দিন ও আলা উদ্দিনসহ ২০ থেকে ৩০ জনের একটি সশস্ত্র ও সন্ত্রাসী দল অবৈধভাবে রিসোর্টে প্রবেশ করে। তারা পূর্বে দাবিকৃত ৫,০০,০০০ (পাঁচ লাখ) টাকা চাঁদা না পেয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালায় এবং আনুমানিক ১০,০০,০০০ (দশ লাখ) টাকার ক্ষতিসাধন করে।

হামলায় বাধা দিলে তারা মো. সুলতান মাহমুদ ও জাফর মিয়াকে লাঠি ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। হামলাকারীরা ঘটনাস্থل থেকে একটি স্যামসাং গ্যালাক্সি মোবাইল (মূল্য ৪৫,০০০ টাকা), একটি অপো মোবাইল (মূল্য ৩৫,০০০ টাকা), নগদ ৭৫,০০০ টাকা এবং আধা ভরি ওজনের একটি স্বর্ণের আংটি (মূল্য ১,০৭,০০০ টাকা) লুট করে নিয়ে যায়।

পরবর্তীতে বিবাদী রাসেল চৌধুরী রিসোর্টের ক্যাবল কেটে গলায় পেঁচিয়ে সুলতান মাহমুদকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালান। পরে স্থানীয় লোকজন এসে তাঁদের মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে সন্ত্রাসী বাহিনী দ্বিতীয় দফায় পুনরায় রিসোর্টে হামলা চালিয়ে তা জোরপূর্বক দখল করে নেয় এবং হুমকি দেয় যে চাঁদার টাকা না দিলে রিসোর্ট ফেরত দেওয়া হবে না।

সংবাদ সম্মেলনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ৩টি দাবি জানানো হয়:

  • এজাহারভুক্ত প্রধান বিবাদী মো. রাসেল চৌধুরী ও শিশির স্বপন চাকমাসহ সব সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা।

  • জোরপূর্বক দখলকৃত ‘মিরিঞ্জা রয়্যাল হিল রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট’ উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের নিকট হস্তান্তর করা।

  • ভুক্তভোগী ও তাঁদের সহযোগীদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা জানান, এ ঘটনায় ইতোমধ্যে মো. রাসেল চৌধুরী (৩৫), শিশির স্বপন চাকমা (৫০) ও সঞ্জিতা চাকমাসহ (৪৫) ১২ জনের নাম উল্লেখ করে লামা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও রিসোর্টটি পুনরুদ্ধারে প্রশাসন ও সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন।

অভিযোগের বিষয়ে লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কাউছার হামিদ জানান, দোষী ও অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।




নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুমে ১০ হাজার ইয়াবা ও টমটমসহ ১ জন আটক

নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুমে ১০ হাজার ইয়াবা ও টমটমসহ ১ জন আটক
ছবি সংগৃহীত।

১ অক্টোবর বৃহস্পতিবার দুপুরে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বড়ুয়াপাড়া এলাকায় (ঘুমধুম পুলিশ তদন্তকেন্দ্র সংলগ্ন তিন রাস্তার মোড়) মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ১০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক রোহিঙ্গা নাগরিককে আটক করেছে পুলিশ।

অভিযানকালে একটি সন্দেহজনক ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা তল্লাশি করে বিশেষ কৌশলে লুকানো ১০ হাজার পিস বার্মিজ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয় এবং ঘটনাস্থল থেকে ১ জনকে আটক করা হয়।

আটক ব্যক্তি: কামাল উদ্দিন (৩০), পিতা: মৃত জাহেদ হোসেন, ঠিকানা: ক্যাম্প-২/ইস্ট, ব্লক-বি, এফসিএম-১৪১৯৪৬, উখিয়া, কুতুপালং, কক্সবাজার।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আটক ব্যক্তি সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ইয়াবার চালান সংগ্রহ করে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাযোগে কক্সবাজার ও রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকার দিকে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় পুলিশের তল্লাশিতে তিনি আটক হন।

এ ঘটনায় আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে।




গুইমারা রামসু বাজারের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে সেনাবাহিনী

গুইমারা রামসু বাজারের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে সেনাবাহিনী
ছবি সংগৃহীত।

খাগড়াছড়ি জেলার গুইমারা উপজেলার রামসু বাজারে সাম্প্রতিক ভয়াবহ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। গুইমারা রিজিয়নের সার্বিক সহায়তায় এবং সিন্দুকছড়ি জোনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত মাসব্যাপী যৌথ চিকিৎসাসেবা ও বহুমুখী উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের আজ সফল সমাপ্তি ঘটেছে।

এ উপলক্ষে আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি-২৯৮ নম্বর আসনের সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত, পুলিশ সুপার মো. মোরতোজা আলী, গুইমারা রিজিয়নের আওতাধীন সব জোন কমান্ডার এবং সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও আত্মনির্ভরশীল করার লক্ষ্য নিয়ে প্রধান অতিথি চারজন ব্যবসায়ীকে নতুন তৈরি দোকানঘর হস্তান্তর করেন। পাশাপাশি রামসু বাজারের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত এক রোগীকে দোকানসামগ্রী ও চলাচলের সুবিধার্থে একটি হুইলচেয়ার প্রদান করা হয়। এর পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার সুবিধার্থে নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়।

শিক্ষার প্রসারে এলাকার শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ এবং শিক্ষার মানোন্নয়ন নিশ্চিতে গুইমারা ও মানিকছড়ি উপজেলার কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এ ছাড়া এলাকার সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থার উন্নয়নে সোলার ল্যাম্পপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে।

যুবসমাজকে কর্মমুখী করার প্রয়াসে বেকার যুবকদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির ব্যবস্থা করাসহ মাসব্যাপী অনুষ্ঠিত বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে এলাকার প্রায় ১,২০০ জন সাধারণ মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই মানবিক ও সর্বাত্মক পুনর্বাসন কার্যক্রম স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করেছে এবং দ্রুত স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরতে বিশেষ অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।