নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে আহত বিজিবি নায়েক আকতারের সামরিক মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন

সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) নায়েক আকতার হোসেনের (নম্বর ৬২১১৬) জানাজা সামরিক মর্যাদায় তাঁর গ্রামের বাড়িতে সম্পন্ন হয়েছে। আকতার হোসেন ভোলার দৌলতখান উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
১২ অক্টোবর ২০২৫, সকালে বান্দরবানের রেজুআমতলী সীমান্তের পেয়ারাবুনিয়া এলাকায় নিয়মিত টহলে ছিলেন নায়েক আকতার ও তাঁর দল। এ সময় মিয়ানমারের সশস্ত্র সংগঠন ‘আরাকান আর্মি (AA)’ কর্তৃক সীমান্তে পুঁতে রাখা মাইন বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হন আকতার।
সহযোদ্ধারা তাঁকে উদ্ধার করে রামু সেনানিবাসের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে ১৩ অক্টোবর তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার সিএমএইচে স্থানান্তর করা হয়। টানা কয়েকদিনের লড়াই শেষে ৩১ অক্টোবর দুপুরে এই নির্ভীক সীমান্তরক্ষী সৈনিক শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
শনিবার (১ নভেম্বর) সকালে সিএমএইচ থেকে বিজিবির হেলিকপ্টারযোগে তাঁর মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে এক শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ভোলার দৌলতখান উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামে তাঁর কফিন নামানো হলে স্বজন ও গ্রামবাসীর কান্নায় আকাশ ভারী হয়ে ওঠে।
এ সময় গ্রামের মাঠে উপস্থিত ছিলেন প্রশাসনের প্রতিনিধি, সেনা-বিজিবি কর্মকর্তারা এবং শত শত গ্রামবাসী। জানাজা শেষে সামরিক মর্যাদায় তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।
মৃত্যুকালে নায়েক আকতার হোসেন স্ত্রী, দশ বছর বয়সী বড় ছেলে এবং এক শিশুকন্যা রেখে গেছেন। বিজিবি সদর দপ্তর জানিয়েছে, নায়েক আকতার হোসেন দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার সুমহান দায়িত্ব পালনকালে জীবন উৎসর্গ করেছেন। তাঁর বীরত্ব ও ত্যাগ জাতির জন্য অনুপ্রেরণার। বিজিবি কর্তৃপক্ষ শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে।











