নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে ১২ লাখ জাল টাকাসহ রোহিঙ্গা আটক
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:৪৬ অপরাহ্ন

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে ১২ লাখ জাল টাকাসহ রোহিঙ্গা আটক

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে ১২ লাখ জাল টাকাসহ রোহিঙ্গা আটক
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দুর্গম সীমান্ত এলাকা থেকে ১২ লাখ জাল টাকাসহ এক রোহিঙ্গাসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার দোছড়ি ইউনিয়নের কুরিক্ষ্যং লেবুতলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নাইক্ষ্যংছড়ি থানা-পুলিশের একটি বিশেষ দল বিকেলে অভিযানে নামে। মিয়ানমার সীমান্তের অনতিদূরে অতিদুর্গম কুরিক্ষ্যং এলাকায় চোরাকারবারের কাজে ব্যবহারের জন্য জাল টাকাসহ কয়েকজন অবস্থান করছিল—এমন খবরের ভিত্তিতে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে জনৈক মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ (২৭) এবং আরও দুজনসহ মোট তিনজনকে আটক করা হয়, যাদের মধ্যে একজন রোহিঙ্গা নাগরিক।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, ওই রোহিঙ্গা ব্যক্তি গভীর রাতে চোরাচালানের পণ্য কেনাবেচার উদ্দেশ্যে এই জাল টাকা নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলেও আভিযানিক দল তাঁদের হাতেনাতে ধরতে সক্ষম হয়।

নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল বাতেন মৃধা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশি অভিযানে ১২ লাখ জাল টাকাসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সংবাদটি লেখা পর্যন্ত পুলিশের আভিযানিক দলটি দুর্গম পাহাড় থেকে থানা সদরে পৌঁছাতে না পারায় আটক অপর দুই ব্যক্তির বিস্তারিত পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।




নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম বিজিবির অভিযানে ৩৯,৯২৪ পিস ইয়াবাসহ আটক ২

নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম বিজিবির অভিযানে ৩৯,৯২৪ পিস ইয়াবাসহ আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

বিজিবির বিশেষ অভিযানে ২ জন আসামিসহ ৩৯,৯২৪ পিস বার্মিজ ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়েছে। কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি)-এর ঘুমধুম বিওপির টহল দল এক মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ৩৯,৯২৪ পিস বার্মিজ ইয়াবা ট্যাবলেটসহ ২ জন আসামিকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে। কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম, পিবিজিএম, পিএসসি এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

গত ১১ আগস্ট ২০২৬ রাতে কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি)-এর অধীনস্থ ঘুমধুম বিওপির একটি চৌকস আভিযানিক টহল দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সীমান্ত পিলার-৩২ থেকে আনুমানিক ২০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ‘জামালের ঘের’ নামক স্থানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে এফডিএমএন সদস্য কলিমুল্লাহ (২৫), পিতা: কবির আহমেদ, এফডিএমএন ক্যাম্প-০১, ব্লক-বি/১ এবং সিরাজুল মোস্তফা (২৪), পিতা: জাকির আহমেদ, এফডিএমএন ক্যাম্প-০১, ব্লক-বি/২—এদের ৩৯,৯২৪ পিস বার্মিজ ইয়াবাসহ আটক করা হয়।

উল্লেখ্য, আটক আসামিদের বার্মিজ ইয়াবা ট্যাবলেটসহ প্রচলিত আইন অনুযায়ী থানায় মামলা দায়েরপূর্বক পুলিশের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

অধিনায়ক বলেন, “বিজিবি শুধু সীমান্ত পাহারাতেই নয়, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধেও সমানভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

 

 

উল্লেখ্য, কক্সবাজার রিজিয়নের রামু সেক্টরের অধীনস্থ কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত সুরক্ষা এবং মাদকসহ নানা অবৈধ কার্যক্রম দমনে সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আসছে। এসব অভিযানের ফলে সীমান্তবাসীর মধ্যে আস্থা ও স্বস্তি ফিরে এসেছে।

 

 




বিজিবির বিশেষ অভিযানের পাশাপাশি শিক্ষা, জনকল্যাণ ও মানবিক উদ্যোগ

বিজিবির বিশেষ অভিযানের পাশাপাশি শিক্ষা, জনকল্যাণ ও মানবিক উদ্যোগ
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের থানচিতে দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর সমন্বয়ে ৬-১২ আগস্ট পর্যন্ত বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

এরই ধারাবাহিকতায় ক্যচুপাড়া এলাকায় বেইজ ক্যাম্প স্থাপন করে সমন্বিতভাবে আভিযানিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, চলমান বিশেষ অভিযানের কার্যক্রম পরিদর্শন ও দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিতে আজ ক্যচুপাড়া বেইজ ক্যাম্প পরিদর্শন করেন বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ইয়াসির আরাফাত হোসেন, বিপিএমএস, পদাতিক। এ সময় তিনি সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং সর্বোচ্চ পেশাদারত্ব, সতর্কতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সঙ্গে আস্থা, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির সম্পর্ক অটুট রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সীমান্ত রক্ষার পাশাপাশি মানুষের পাশে দাঁড়ানোই বিজিবির অঙ্গীকার। সেই অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে জোন অধিনায়ক ক্যচুপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৫০ জন শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষা-সহায়ক সামগ্রী ও আর্থিক অনুদান বিতরণ করেন। একই সঙ্গে স্থানীয় পাড়াবাসীর মাঝেও শিক্ষা-সহায়ক সামগ্রী ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।

এ সময় শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনা ও বিদ্যালয়ে উপস্থিতির জন্য উৎসাহিত করার পাশাপাশি দুর্গম অঞ্চলের শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে বিজিবির সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। পাড়াবাসীর সঙ্গে মতবিনিময়কালে স্থানীয়দের সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং সীমান্তের নিরাপত্তা থেকে মানুষের কল্যাণ—প্রতিটি প্রয়োজনে বিজিবি পাশে থাকবে বলে আশ্বস্ত করেন।

দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং মানুষের কল্যাণে মানবিক—এই দ্বৈত অঙ্গীকারকে ধারণ করে বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম একসঙ্গে এগিয়ে নিচ্ছে।

নিরাপত্তায় অটুট, মানবিকতায় অগ্রণী—জনগণের আস্থার সঙ্গে এগিয়ে চলছে বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি)।




নাইক্ষ্যংছড়িতে ইজিবাইকসহ ৩০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার

নাইক্ষ্যংছড়িতে ইজিবাইকসহ ৩০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়িতে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ইজিবাইকসহ ৩০ হাজার ১০০ পিস বার্মিজ ইয়াবা উদ্ধার করেছে নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি)। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বেলা আনুমানিক ১১টা ১৫ মিনিটে নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন সদর থেকে প্রায় ৫০০ গজ দূরে আম্মাজান কমিউনিটি সেন্টারের কাছে সেতুসংলগ্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১১ বিজিবির একটি বিশেষ আভিযানিক দল ওই এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় সন্দেহজনক একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইককে ধাওয়া করা হলে চালক ও ইয়াবা বহনকারী ব্যক্তি ইজিবাইক এবং সঙ্গে থাকা ইয়াবা ফেলে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় ইজিবাইকসহ তিন কার্টনে ৩০ হাজার ১০০ পিস বার্মিজ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা ইয়াবা ও ইজিবাইক পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “দেশের সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান ও মানবপাচার প্রতিরোধ, অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং মাদক পাচার প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে বিজিবি কাজ করে যাচ্ছে। সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।”