নিলাম জটে স্থবির চট্টগ্রাম বন্দর, কনটেইনারেই পচছে হাজার কোটি টাকার পণ্য
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:২৯ পূর্বাহ্ন

নিলাম জটে স্থবির চট্টগ্রাম বন্দর, কনটেইনারেই পচছে হাজার কোটি টাকার পণ্য

নিলাম জটে স্থবির চট্টগ্রাম বন্দর, কনটেইনারেই পচছে হাজার কোটি টাকার পণ্য
ছবি সংগৃহীত।

বন্দর ইয়ার্ডজুড়ে দাঁড়িয়ে আছে শত শত মরিচা ধরা লোহালক্কড়ের স্তূপ। একেকটি কনটেইনারের গায়ে জমেছে বছরের পর বছর জমা ধূলিবালি ও শ্যাওলার প্রলেপ। ভেতরের তাপদাহে কোনোটিতে পচে গন্ধ বের হচ্ছে আমদানিকৃত ফল ও পচনশীল খাদ্যের, আবার কোনোটিতে আর্দ্রতায় নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান শিল্প কাঁচামাল ও কাপড়। এটি দেশের মূল অর্থনৈতিক প্রবেশদ্বার চট্টগ্রাম বন্দরের ভেতরের চিত্র।

কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষের মধ্যে দীর্ঘ প্রশাসনিক জটিলতা, আমদানিকারকদের মামলা এবং আমলাতান্ত্রিক লালফিতার দৌরাত্ম্যে ভেতরের অন্তত ৯ হাজার ২৭৮টি কনটেইনারই এখন অবরুদ্ধ। ৩০ দিনের মধ্যে পণ্য খালাসের আইন থাকলেও এক থেকে দেড় যুগ ধরে আটকে রয়েছে এসব পণ্য। ফলে বন্দরের মূল্যবান ১৫ থেকে ২০ শতাংশ স্থান দখল করে রাখা এসব কনটেইনার শুধু যে হাজার কোটি টাকার জাতীয় সম্পদ নষ্ট করছে তা নয়, বরং দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য এবং বন্দরের সার্বিক গতিশীলতাকে স্থবির করে দিচ্ছে।

গভীর অনুসন্ধানে চট্টগ্রাম বন্দরের এই ক্রমান্বয়ে ঘনীভূত হতে থাকা মহাবিপর্যয়ের মূল বিন্দুগুলো একে একে স্পষ্ট হয়ে উঠছে:

১. বিশাল অঙ্কের আমদানিকৃত পণ্যের স্থবিরতা

চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টমস হাউসের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে বন্দরের বিভিন্ন টার্মিনাল ও ইয়ার্ডে পড়ে রয়েছে ৯ হাজার ২৭৮টি নিলামযোগ্য কনটেইনার। এর মধ্যে ২ হাজার ৭০০টি ২০ ফুট এবং ৬ হাজার ৫৭৮টি ৪০ ফুট দীর্ঘ কনটেইনার। এসব পাত্রে আটকা পড়ে আছে প্রায় ২ লাখ টন পণ্য। তৎকালীন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় বাজারমূল্য হিসাব করলে এই পণ্যের সমষ্টিগত দর অন্তত কয়েক হাজার কোটি টাকা। অথচ দীর্ঘদিন প্রক্রিয়াকরণের অভাবে এগুলো ইয়ার্ডেই ফেলে রাখা হয়েছে।

২. স্থান সংকটে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক হ্যান্ডলিং

বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের মোট ধারণক্ষমতার প্রায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ জায়গা এককভাবে দখল করে রেখেছে এই নিলামযোগ্য জটের কনটেইনারগুলো। এর ফলে প্রতিদিন বন্দর থেকে নতুন আসা কনটেইনার খালাস, পণ্য জট তৈরি না হওয়া এবং জাহাজ থেকে পণ্য নামানোর স্বাভাবিক গতি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বন্দর সচল রাখতে নতুন নতুন জায়গা খোঁজা হলেও নিজস্ব ভূমির এক-পঞ্চমাংশ এভাবে অব্যবহৃত ও অবরুদ্ধ হয়ে থাকায় সক্ষমতার চরম অপচয় ঘটছে।

৩. পচনশীল ও মূল্যবান দ্রব্যাদির করুণ পরিণতি

নিলামের অপেক্ষায় আটকে থাকা এই হাজার হাজার কনটেইনারের বিপুল অংশ জুড়ে রয়েছে কমলা, মাল্টা, খেজুর, আদা ও পেঁয়াজের মতো দ্রুত পচনশীল খাদ্যদ্রব্য। তা ছাড়া প্রচুর পরিমাণ কেমিক্যাল, শিল্প কাঁচামাল, টেক্সটাইল পণ্য এবং বিলাসবহুল গাড়িও রয়েছে ইয়ার্ডে। বছরের পর বছর প্রচণ্ড তাপদাহ ও লোনা বাতাসে কন্টেইনার ভেতরেই পচে মাটিতে মিশে যাচ্ছে কোটি কোটি টাকার খাদ্যদ্রব্য এবং জমে ক্ষয়ে নষ্ট হচ্ছে রাসায়নিক পদার্থ।

৪. শিপিং এজেন্ট ও শিপ মালিকদের দ্বিমুখী ক্ষতি

আমদানিকারক পণ্য খালাস না করায় শুধু পণ্যই পচছে না, আন্তর্জাতিক বাজারের অত্যন্ত মূল্যবান কনটেইনারগুলোও অকেজো হয়ে যাচ্ছে। শিপিং এজেন্ট ও ফ্রেইট ফরোয়ার্ডারদের হাজার হাজার কনটেইনার বছরের পর বছর ধরে আটকে থাকায় শিপিং কোম্পানিগুলোকে প্রতিদিন গুণতে হচ্ছে অতিরিক্ত ডেমারেজ ও ভাড়া। অন্যদিকে দীর্ঘস্থায়ী লোনা বাতাসের প্রভাবে বহু কনটেইনার কাঠামোগতভাবে ভেঙে চুরমার হয়ে আয়ু হারিয়ে ফেলছে।

৫. কেন পণ্য খালাস নেওয়া থেকে পিছপা আমদানিকারকরা?

অনুসন্ধানে দেখা যায়, পণ্য আমদানির পর তা বন্দর থেকে খালাস না নেওয়ার পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ মুখ্য। প্রথমত, আন্তর্জাতিক বাজারে হঠাৎ দরপতন ঘটলে অসাধু আমদানিকারকরা ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে ইচ্ছে করেই পণ্য গ্রহণ করেন না। দ্বিতীয়ত, আন্ডার-ইনভয়েসিং বা মিথ্যা ঘোষণার অভিযোগে কাস্টমস পণ্য আটকে দিলে বা মোটা অঙ্কের জরিমানা আরোপ করলে আমদানিকারকরা তা ছেড়ে পালিয়ে যান। তৃতীয়ত, প্রয়োজনীয় নথিপত্রের অভাব ও উচ্চ শুল্ক হারের কারণে অনেক ছোট আমদানিকারক খালাসে অসমর্থ হন।

৬. আইনি জটিলতা ও কাস্টমসের ধীরগতির নিলাম

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বিধিমালার তোয়াক্কা না করে গতিহীনভাবে চলছে নিলাম প্রক্রিয়া। বর্তমানে ২,৬৯৭টি কনটেইনার নিলাম তালিকায় তোলা হলেও চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে মাত্র ১,৬১৯টি। ম্যানুয়াল নিলামে মাইকিং করে প্রতি মাসে সর্বোচ্চ ২০ থেকে ৩০টি কনটেইনারের নিষ্পত্তি করা যায়, যা মহাসাগরে এক ফোটা জলের মতো। অপরদিকে ই-অকশন বা ডিজিটাল নিলাম প্রক্রিয়াও কচ্ছপগতির শিকার। গত দেড় বছরে ৯৮৮টি কনটেইনার নিষ্পত্তি করা সম্ভব হলেও ওই একই সময়ে কাস্টমসের তালিকায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে আরও কয়েকশো কনটেইনার।

৭. কাস্টমস বনাম বন্দর কর্তৃপক্ষ: প্রশাসনিক দ্বন্দ্বে এনবিআর

আইন অনুযায়ী, জাহাজ থেকে পণ্য ইয়ার্ডে নামার ৩০ দিনের মধ্যে আমদানিকারক তা গ্রহণ না করলে কাস্টমস হাউসকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ। কাস্টমস তখন আমদানিকারককে ১৫ দিনের নোটিশ দিয়ে পণ্য নিলাম বা ধ্বংসের আইনি এখতিয়ার লাভ করে। কিন্তু বাস্তব চিত্রে দেখা গেছে, গত এক দশকে বন্দর থেকে ৮০টিরও বেশি চিঠি দেওয়া হলেও কাস্টমসের তরফ থেকে দ্রুত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে দেখা গেছে চরম উদাসীনতা ও প্রশাসনিক অলসতা।

৮. শিপিং খাতের শীর্ষ প্রতিনিধিদের ক্ষোভ

বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক পরিচালক ও বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সহসভাপতি খায়রুল আলম সুজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “নিলাম কার্যক্রম গতিশীল না হওয়ার কারণে বছরের পর বছর শত শত কনটেইনার এবং ভেতরের পণ্য চিরতরে নষ্ট হচ্ছে। আমরা বারবার সভা-সেমিনারে ও লিখিত চিঠিতে কাস্টমসকে সতর্ক করেছি। কাস্টমসের এই ঢিলেঢালা মনোভাবের মাশুল গুনছেন শিপিং এজেন্ট ও সাধারণ ব্যবসায়ীরা।”

৯. কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য

সমস্যার সার্বিক গুরুত্ব স্বীকার করে বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (মেরিন অ্যান্ড হারবার) কমোডর আমিন আহমেদ আবদুল্লাহ বলেন, “বন্দরের বর্তমান ক্ষমতার ১৫ থেকে ২০ শতাংশ স্থান এই নিলামযোগ্য কনটেইনার দখল করে আছে। এটি যদি দ্রুত নিষ্পত্তি করে অপসারণ করা যায়, তবে আমরা বিশাল এলাকা ফাঁকা পাব। যা নতুন আন্তর্জাতিক আমদানি-রপ্তানি হ্যান্ডলিং সহজ করতে এক যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।”

অন্যদিকে কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার শরীফ মো. আল আমিন সরকারি বিধিমালার জটিলতার কথা উল্লেখ করে বলেন, “নিলামে কনটেইনারের পণ্য বিক্রির একটি সুনির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে। কাস্টমস আইনের সব বিধিবিধান পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসরণ করতে গিয়েই কিছুটা সময় বেশি লাগছে। তবে আমরা সার্বিক নিলাম প্রক্রিয়ায় গতিশীলতা আনতে নিরবচ্ছিন্ন কাজ করে যাচ্ছি।”




চাকরি যাচ্ছে বিপ্লব কুমারসহ ৫ পুলিশ কর্মকর্তার, শিগগিরই প্রজ্ঞাপন

চাকরি যাচ্ছে বিপ্লব কুমারসহ ৫ পুলিশ কর্মকর্তার, শিগগিরই প্রজ্ঞাপন
ছবি সংগৃহীত।

কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকারসহ পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন শিগগিরই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

বরখাস্ত হতে যাওয়া পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তা হলেন— বিপ্লব কুমার সরকার, মো. গোলাম রুহানী, সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রাজন কুমার দাস ও মো. ইকবাল হোসাইন।

সংশ্লিষ্ট নথির তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ কর্মকর্তার মধ্যে ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার সাময়িক বরখাস্ত হয়ে বরিশালে রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত রয়েছেন। মো. গোলাম রুহানী (সাবেক ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর ছোট ভাই) বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত ও পলাতক। সুদীপ কুমার চক্রবর্তী সাময়িক বরখাস্ত হয়ে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত রয়েছেন। রাজন কুমার দাস সাময়িক বরখাস্ত ও পলাতক। মো. ইকবাল হোসাইন সাময়িক বরখাস্ত হয়ে খুলনা রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত রয়েছেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কর্মস্থলে অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত থাকা এবং পলায়নের অভিযোগে বিভাগীয় মামলা করা হয়। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর তাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করার গুরুদণ্ড দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।




২৭ আগস্ট বসছে সংসদের তৃতীয় অধিবেশন

২৭ আগস্ট বসছে সংসদের তৃতীয় অধিবেশন
ছবি সংগৃহীত।

আগামী ২৭ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন আহ্বান করেছেন রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ অধিশাখা-১-এর পরিচালক মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের প্রদত্ত ক্ষমতাবলে মহামান্য রাষ্ট্রপতি আগামী ২৭ আগস্ট বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের এ অধিবেশন আহ্বান করেছেন। এটি চলতি সংসদের তৃতীয় অধিবেশন হতে যাচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, রাষ্ট্রপতি বলেছেন, "গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে আমি, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, হাফিজ উদ্দিন আহমদ ২৭ আগস্ট বিকেল ৩টায় ঢাকার শেরে বাংলা নগরে অবস্থিত জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় (২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের ৩য়) অধিবেশন আহ্বান করছি।’’




অতীতে ভারতের ভূমিকা নিয়ে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে প্রশ্ন ও সন্দেহ রয়েছে: তথ্য উপদেষ্টা

অতীতে ভারতের ভূমিকা নিয়ে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে প্রশ্ন ও সন্দেহ রয়েছে: তথ্য উপদেষ্টা
ছবি সংগৃহীত।

অতীতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও একটি নির্দিষ্ট সরকারের ক্ষমতায় টিকে থাকার ক্ষেত্রে ভারতের ভূমিকা নিয়ে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রশ্ন ও সন্দেহ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকের এক প্রশ্নে জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক প্রসঙ্গে সরকারের অবস্থান নিয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া ব্রিফিং এবং সরকারের প্রকাশ্য বক্তব্য থেকে বাংলাদেশ বিষয়টি অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে ভারতের কাছে উপস্থাপন করেছে।

বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারতের দিক থেকে একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরির প্রয়োজনীয়তা আছে বলে মনে করেন তথ্য উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি, তার বক্তব্যের পর বাংলাদেশের দেওয়া বিবৃতিতেও বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছিল।

তথ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, ভারতের পক্ষ থেকে পরবর্তীতে ওই ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই– এমন বক্তব্য দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও বাংলাদেশের দৃষ্টিতে বিষয়টির সঙ্গে ভারতের কোনো না কোনো পর্যায়ের সংশ্লিষ্টতা বা সমর্থনের প্রশ্ন রয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা সরকারের সঙ্গে নয়, বরং বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে হওয়া উচিত। ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক নতুনভাবে বিন্যাস বা ‘রিঅ্যালাইনমেন্ট’-এর প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন সরকারের তথ্য উপদেষ্টা।