পাকিস্তানে মসজিদে বোমা হামলা, নিহত অন্তত ১৬
বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২৫ অপরাহ্ন

পাকিস্তানে মসজিদে বোমা হামলা, নিহত অন্তত ১৬

পাকিস্তানে মসজিদে বোমা হামলা, নিহত অন্তত ১৬
ছবি সংগৃহীত।

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে মসজিদে বোমা হামলায় অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। যারমধ্যে ১১ জন বেসামরিক সাধারণ মানুষ। আর বাকি পাঁচজন পুলিশ সদস্য।

আজ শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) এ বোমা হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পেশোয়ার পুলিশ।

মসজিদটি খাইবার পাখতুনখাওয়ার কোহাত জেলায় অবস্থিত।

হামলাকারীরা বিস্ফোরক বোঝাই একটি গাড়ি নিয়ে মসজিদে ধাক্কা দেয়। এরপর ওই গাড়িটি বিস্ফোরিত হয়ে এত হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, হামলাকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর এখনো গোলাগুলি চলছে। এরমধ্যে এক হামলাকারী পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, নিহতের সংখ্যা বাড়ার শঙ্কার রয়েছে।

সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, কোহাত জেলার পুলিশ সদরদপ্তরের মসজিদের গেটে বিস্ফোরক বোঝাই গাড়ি দিয়ে ধাক্কা দেয় হামলাকারীরা। ওই সময় সাধারণ মানুষ জুম্মার নামাজের জন্য মসজিদটিতে জড়ো হয়েছিলেন। ১৬ জন নিহত হওয়ার পাশাপাশি এ হামলায় আরও অন্তত ৫০জন আহত হয়েছেন।

বার্তাসংস্থা ডিপিএ জানিয়েছে, আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী ওই অঞ্চলের মসজিদে হামলার পর হাসপাতালে ১৫টি মরদেহ এবং আহত অবস্থায় আর প্রায় ৫০ জনকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। স্থানীয় হাসপাতালের চিকিৎসক তাহির শাহ বলেছেন, আহত অবস্থায় যাদের নিয়ে আসা হয়েছে তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা বেশ গুরুতর। এতে করে নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে।

এখন পর্যন্ত কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে সেখানে তেহরিক-ই-তালেবানের উপস্থিতি রয়েছে। যারা প্রায়ই পাকিস্তানের নিরাপত্তাবাহিনীর ওপর হামলা চালায়। অতীতে তারা মসজিদেও বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে।

সূত্র: বিবিবি, আলজাজিরা




হুথিরা অরাজকতা বেছে নিয়েছে, নিজের নিরাপত্তায় ছাড় দেবে না সৌদি: প্রিন্স সালমান

হুথিরা অরাজকতা বেছে নিয়েছে, নিজের নিরাপত্তায় ছাড় দেবে না সৌদি: প্রিন্স সালমান
ছবি সংগৃহীত।

হুথিদের হামলার মুখে সৌদি আরব তার নিজস্ব নিরাপত্তায় কোনো ছাড় দেবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান। তিনি বলেছেন, হুথিরা অরাজকতা ও ধ্বংসকে বেছে নিয়েছে। এরমাধ্যমে ইয়েমেনের সাধারণ মানুষ ও এ অঞ্চলকে তারা ঝুঁকিতে ফেলেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

গতকাল বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সূরা কাউন্সিলে বাদশাহ সালমান বিন আব্দুলআজিজ আল সৌদের পক্ষে কথা বলেন প্রিন্স সালমান।

তিনি বলেন, “সৌদির নিরাপত্তা বিনষ্টকারী কোনো হামলা বা হুমকির জবাব দিতে সৌদি আরব একটুও দ্বিধা করবে না।”

এছাড়া গত আগস্টে পাকিস্তান ও তুরস্কের সঙ্গে হওয়া মক্কা চুক্তি নিয়েও কথা বলেন প্রিন্স সালমান। তিনি বলেন, এই চুক্তির মাধ্যমে সৌদির নেতৃবৃন্দের ইচ্ছার প্রকাশ ঘটেছে। যারা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে শক্তিশালী করতে চান, সৌদিকে উত্তেজনা ও সংঘাতের নেতিবাচক প্রভাব থেকে রক্ষা করতে চান এবং এসব বিষয়ে সমন্বয় করতে চান।

সামরিকভাবে প্রস্তুতি নিলেও সৌদি আরব উত্তেজনা প্রশমনে সব ধরনের চেষ্টা করছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। সালমান বলেন, “উত্তেজনা প্রশমন এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে সমর্থন দিতে সৌদি আরব সব ধরনের চেষ্টা করছে। তবে এক্ষেত্রে নিজেদের নিরাপত্তাকে একটুও ছাড় দেওয়া হচ্ছে না।”

এসবের সঙ্গে লোহিত সাগরে জাহাজে হুথিদের হামলা ও এগুলো প্রতিরোধে বহুজাতিক প্রতিরক্ষা মেরিটাইম জোটের কথাও বলেন প্রিন্স সালমান। তিনি বলেন, লোহিত সাগর ও বাব এল মান্দেবকে কোনোভাবেই রাজনীতির উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।

এদিকে এক মাসের বেশি সময় ধরে সৌদি আরবের সঙ্গে ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুথিদের লড়াই চলছে। এরমধ্যে হুথিরা সৌদির বিভিন্ন জায়গায় হামলা চালিয়েছে। অপরদিকে সৌদির বিমানবাহিনী শত শত বিমান হামলা চালিয়েছে।

সূত্র: আলজাজিরা




প্রায় ১ হাজার ৫০০ জন রোহিঙ্গা শরণার্থীকে মিয়ানমারে পাঠাল মালয়েশিয়া

প্রায় ১ হাজার ৫০০ জন রোহিঙ্গা শরণার্থীকে মিয়ানমারে পাঠাল মালয়েশিয়া
ছবি সংগৃহীত।

১ হাজার ৪৭৬ জন রোহিঙ্গা শরণার্থীকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠিয়েছে মালয়েশিয়া। গত কাল ২৯ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার মালয়েশিয়ায়ার নৌবাহিনীর উত্তরপশ্চিমাঞ্চলীয় ঘাঁটি লুমুত নাভাল বেইস থেকে মিয়ানমারের নৌবাহিনীর ৩ টি জাহাজে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

মিয়ানমারের নৌবাহিনীর জাহাজগুলোর নাম ইউএমএস মাউত্তামা, ইউএমএস কিং সিন ফিউ শিন এবং ইউএনএস থানলউইন।

মালয়েশিয়ার কেন্দ্রীয় সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ-মহাসচিব মাখজান মাহিউদ্দিন এফপিকে জানিয়েছেন, ১ হাজার ৪৭৬ জন রোহিঙ্গার এই দলটিতে ১ হাজার ৩৭০ জন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ, ৭৯ জন নারী, ২০ জন কিশোর, ৭ জন মেয়েশিশু রয়েছে। এই মেয়েশিশুদের বয়স ৬ থেকে ৮ বছরের মধ্যে।

এক প্রতিবেদন এএফপি জানিয়েছে, মালয়েশিয়ায় রোহিঙ্গাদের ১৪টি শরণার্থী শিবির থেকে এই রোহিঙ্গাদের বাছাই করা হয়েছে। গত কাল তাদের মিয়ানমারের নৌবাহিনীর জাহাজে তুলে দেওয়ার আগে প্রয়োজনীয় অনুষ্ঠানিকতা সম্পূর্ণ করতে লুমুত নৌঘাঁটির কাছে একটি স্টেডিয়ামে আনা হয়েছিল। কড়া পুলিশ প্রহরায় কয়েক ডজন বাসে স্টেডিয়ামে নিয়ে আসা হয়েছিল তাদের। কোনো সংবাদিককে এ সময় স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে কয়েকটি পুলিশ স্টেশন এবং সেনা ছাউনিতে একযোগে বোমা বিস্ফোরণ ঘটে। পরে সেই বিস্ফোরণের দায় স্বীকার করে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী আরসা। আরসার দায় স্বীকারের পর রাখাইনের রোহিঙ্গাদের লক্ষ্য করে ভয়াবহ সামরিক অভিযান শুরু করে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী।

সেনাসদস্যদের হত্যা, ধর্ষণ, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের সামনে টিকতে না পেরে বাড়িঘর ছেড়ে দলে দলে রোহিঙ্গারা দেশান্তরি হতে শুরু করে। এই রোহিঙ্গাদের সবচেয়ে বড় দলটি এসেছে বাংলাদেশে— ২০১৭ সাল থেকে পর্যায়ক্রমে ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা এসেছে বাংলাদেশে।

মালয়েশিয়াতেও আশ্রয় নিয়েছিল রোহিঙ্গারা। কুয়ালালামপুরের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির বিভিন্ন আশ্রয় শিবিরে বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী রয়েছেন।

গত জুলাই মাসে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বলেছিলেন, মিয়ানমারের সরকার ৫ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীকে ফেরত নিতে রাজি হয়েছে। মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ-মহাসচিব মাখজান মাহিউদ্দিন জানিয়েছেন, যে ৫ হাজার রোহিঙ্গা ফেরত পাঠানোর কথা হয়েছে মিয়ানমারের সঙ্গে, তার প্রথম দলটিকে পাঠানো হয়েছে ২৯ সেপ্টেম্বর।

“এই রোহিঙ্গাদের সবাই স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরে যেতে চেয়েছিলেন। কোনো প্রকার চাপপ্রয়োগ বা জোর-জবরদস্তি করা হয়নি। মিয়ানমারের সরকারও তাদের নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে”, এএফপিকে বলেছেন মাখজান।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, এই কার্যক্রমে তাদের কোনো ভূমিকা ছিল না। সেই সঙ্গে সতর্কবার্তা দিয়ে সংস্থাটি বলেছে, মিয়ানমারে চলমান সংঘাত ও সহিংসতার কারণে সেখানে শরণার্থীদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের মতো পরিস্থিতি এখনও বিদ্যমান নেই।

ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে ইউএনএইচসিআরের এক কর্মকর্তা বলেছেন, “শরণার্থীদের যেকোনো ধরনের প্রত্যাবর্তন অবশ্যই স্বেচ্ছায় ও সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে হতে হবে এবং তা হতে হবে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে।”

এই রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত আসা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে রাখাইন নিবাসী রোহিঙ্গাদের সংস্থা আরাকান রোহিঙ্গা ন্যাশনাল কাউন্সিলও (এআরএনসি)। সংস্থাটির কো চেয়ারম্যান নায়ে সান লোউইন আলজাজিরাকে বলেছেন, “রাখাইনের বেশিরভাগ এলাকা এখন আর সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে নেই। রাজ্যের অধিকাংশ এলাকায় আরাকান আর্মির সঙ্গে এখনও যুদ্ধ চলছে সেনাবাহিনী। এই অবস্থায় এই রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর মানে হলো সংঘাত পরিস্থিতির দিকে তাদের ঠেলে দেওয়া।”

সূত্র : আলজাজিরা, আনাদোলু এজেন্সি




বাংলাদেশসহ ১৯ দেশের বিশেষ ওষুধে ১০০% শুল্ক ছাড়ের ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

বাংলাদেশসহ ১৯ দেশের বিশেষ ওষুধে ১০০% শুল্ক ছাড়ের ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের
ছবি সংগৃহীত।

বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১৯টি দেশ থেকে আমদানি করা নির্দিষ্ট বিশেষ ওষুধে ১০০ শতাংশ শুল্ক ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ১৯টি দেশ বাদে অন্য দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রে এ ওষুধ বা এগুলোর উপকরণ রপ্তানি করলে মূল্যের অনুপাতে শুল্ক দিতে হবে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এই ১৯ দেশের তালিকা ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশ করেছে। আজ মঙ্গলবার থেকেই এই দেশগুলো বাদে বাকি দেশগুলোর নির্দিষ্ট বিশেষ ওষুধ বা উপকরণের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ কার্যকর হবে।

গত ২ এপ্রিল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি আদেশ জারি করেন। এতে বলা হয় পেটেন্টকৃত ফার্মাসিউটিক্যালস, বায়োলোজিকস এবং এর সংশ্লিষ্ট উপাদানগুলো আমদানি করলে মূল্যের অনুপাতে ১০০ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে। মূলত যুক্তরাষ্ট্রেই এসব ওষুধ উৎপাদনে আগ্রহী করতে তিনি শুল্ক আরোপ করেন।

শুল্কমুক্তযোগ্য ওষুধ পণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে বিরল রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত সব ওষুধ, বন্ধ্যত্বের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ, সেল থেরাপি, জিন থেরাপি, অ্যান্টিবডি ড্রাগ কনজুগেটস এবং প্রাণীদের ওষুধ। এরসঙ্গে এসব ওষুধের উপকরণেও ১৯টি দেশের পণ্য শুল্ক সুবিধা পাবে।

বাংলাদেশসহ এই সুবিধা পাওয়া অন্য দেশগুলো হলো ভারত, আর্জেন্টিনা, কম্বোডিয়া, ইকুয়েডর, এল সালভেদর, ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশ, গুয়েতেমালা, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, জর্ডান, মালয়েশিয়া, উত্তর মেসেডোনিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, সুইজারল্যান্ড, লিশটেনস্টাইন, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, যুক্তরাজ্য এবং ভিয়েতনাম।

মার্কিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, এসব দেশগুলো এই শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে কারণ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের বাণিজ্য ও নিরাপত্তা চুক্তি আছে বা ভবিষ্যতে হবে।

সূত্র: বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড