পানিতে তলিয়ে আছে দীঘিনালার কয়েকটি গ্রাম, লংগদুর সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ১২:১৯ অপরাহ্ন

পানিতে তলিয়ে আছে দীঘিনালার কয়েকটি গ্রাম, লংগদুর সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ

পানিতে তলিয়ে আছে দীঘিনালার কয়েকটি গ্রাম, লংগদুর সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ
ছবি সংগৃহীত।



খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার মেরুং ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম এখনো টানা বৃষ্টিপাতের কারণে সৃষ্ট বন্যার পানিতে তলিয়ে আছে। মাইনী নদীর পানি হঠাৎ বৃদ্ধি পাওয়ায় ছোট মেরুং বাজার এলাকা, সোবহানপুর, চিটাগাং পাড়া, কবাখালীসহ আশপাশের গ্রামগুলো এখনো প্লাবিত অবস্থায় রয়েছে।


বন্যার কারণে দীঘিনালা-লংগদু সড়কের স্টিলব্রিজ এলাকায় সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় গত দুই দিন ধরে রাঙামাটির লংগদুর সাথে দীঘিনালার সড়ক যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ ও যাত্রীরা।

বন্যাকবলিত এলাকায় ক্ষতিগ্রস্তদের আশ্রয়ের জন্য ছোট মেরুং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। বর্তমানে ৩৪টি পরিবার এখানে অবস্থান করছেন। তাদের জন্য শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করেছে দীঘিনালা উপজেলা প্রশাসন।
ছোট মেরুং বাজার এলাকার বাসিন্দা জয়নব বেগম জানান, হঠাৎ পানি বেড়ে যাওয়ায় তিনি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তার বসতঘরটি পানির তোরে ভেঙে গেছে। কীভাবে নতুন করে ঘর তুলবেন তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন তিনি।


আশ্রয়কেন্দ্রে আসা জয়নব বিবি বলেন, বন্যার পানিতে তার গৃহপালিত ছাগল ও হাঁস-মুরগির বড় ক্ষতি হয়েছে। ইতিমধ্যেই দুটি ছাগল ও অনেকগুলো মুরগির বাচ্চা পানিতে মারা গেছে।

আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা আরেক বাসিন্দা মনোয়ারা বেগম জানান, বন্যার পানিতে তার ঘরের অধিকাংশ জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে গেছে। তারও একটি ঘর পানির তোড়ে ভেঙে গেছে।

তবে বুধবার রাত থেকে বৃষ্টি বন্ধ থাকায় চেঙ্গি নদীর পানি কিছুটা কমতে শুরু করেছে। ফলে খাগড়াছড়ি সদরের নিচু এলাকা থেকে বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে।

কবাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জ্ঞান চাকমা জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সরকারি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত রাখা হবে।

দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সুজন চন্দ্র রায় বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। 
তিনি জানান, আশ্রয়কেন্দ্রে শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।




লামায় মুরগীর খাদ্য বোঝাই গাড়ি উল্টে চালকের মৃত্যু

লামায় মুরগীর খাদ্য বোঝাই গাড়ি উল্টে চালকের মৃত্যু
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামায় মুরগীর খাদ্য বোঝাই পিকআপ গাড়ি উল্টে  চালক মোস্তফা কামাল নিহত হয়েছেন। 

বুধবার দিনগত রাত ১০টার দিকে উপজেলার লামা-ফাঁসিয়াখালী সড়কের লাইনঝিরি এলাকায় এ দূর্ঘটনা ঘটে।  

নিহত গাড়ি চালক মোস্তফা কামাল কক্সবাজারের চকরিয়া পশ্চিম বড় ভেওলা ইউনিয়নের দরবেশকাটা পাড়ার বাসিন্দা সিরাজুল হকের ছেলে।  

স্থানীয় সূত্র জানায়, মুরগীর খাদ্য বোঝাই করে ফ্রেশ কোম্পানির একটি গাড়ি (ঢাকা মেট্রো ড ১৪-৭৬২৬) চকরিয়া উপজেলা থেকে লামা উপজেলায় যাচ্ছিল। এসময় গাড়িটি সড়কের পশ্চিম লাইনঝিরি এলাকায় পৌঁছলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়।  

খবর পেয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা দূর্ঘটনায় পতিত গাড়ি থেকে চালককে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক চিকিৎসক চালক মোস্তফা কামালকে মৃত ঘোষণা করেন।  

লামা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মো. তোফাজ্জল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।  
 




বাঁশখালীতে জনকন্ঠ সংবাদদাতা গ্রেপ্তার

বাঁশখালীতে জনকন্ঠ সংবাদদাতা গ্রেপ্তার
ছবি সংগৃহীত।

বাঁশখালীতে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ছাত্রদের উপর হামলা ও চাম্বলে বেসরকারি জেনারেল হাসপাতাল ভাঙচুরসহ একাধিক মামলার আসামি দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকার বাঁশখালী সংবাদদাতা জোবাইর চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার (১৯ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার পূর্ব চাম্বল নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়। সে চাম্বল ইউনিয়নের পূর্ব চাম্বল এলাকার নুরুল ইসলাম লেডুর ছেলে। জোবাইর চৌধুরী সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও সাবেক এমপি মোস্তাফিজুর রহমানের বিশ্বস্ত সহযোগী ছিলেন।
পুলিশ জানায়, গতকাল শনিবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তার অবস্থান জানতে পেরে এসআই গোলাম ছরওয়ারের নেতৃত্বে একদল পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। তার বিরুদ্ধে বাঁশখালী থানায় ৩টি মামলাসহ অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। 
বাঁশখালী থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জোবাইর চৌধুরীকে আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, রবিবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।




সব ধরনের ফ্যাসিবাদ মোকাবিলা করতে হবে : ফরহাদ মজহার

সব ধরনের ফ্যাসিবাদ মোকাবিলা করতে হবে : ফরহাদ মজহার
ছবি সংগৃহীত।


কবি ও রাষ্ট্রচিন্তক ফরহাদ মজহার বলেছেন, অনেক ধরনের ফ্যাসিবাদ আছে, ধর্ম নিরপেক্ষতার ফ্যাসিবাদ, ধর্মান্ধতার ফ্যাসিবাদ। সব ফ্যাসিবাদ মোকাবিলা করতে হবে। একইসঙ্গে ফ্যাসিবাদের আগ্রাসন থেকে গণতন্ত্রকে রক্ষা করে জনগণের নিজস্ব গঠনতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে


শনিবার (১৯ জুলাই) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণের প্রথম প্রয়োজন একটি গণমুখী গঠনতন্ত্র। জনগণকে বোঝাতে হবে গঠনতন্ত্র কী এবং কেন তা প্রয়োজন। যাতে দেশে আর কখনও ফ্যাসিবাদ ফিরে না আসে-সেই লক্ষ্যে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।
চট্টগ্রামের গুরুত্ব ও বন্দরের নিরাপত্তা তুলে ধরে ফরহাদ মজহার বলেন, চট্টগ্রাম হলো দেশের অর্থনীতির হৃদয়, যেখানে বন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও বাণিজ্যিক স্থাপনা রয়েছে। এ শহরের ক্ষতি মানে দেশের মারাত্মক ক্ষতি। এ কারণেই চট্টগ্রামের রাজনৈতিক ও আধ্যাত্মিক শক্তি বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরা প্রয়োজন। বন্দরকে দুর্নীতির হাত থেকে রক্ষা করতে হলে কাস্টমস থেকে আলাদা করতে হবে। দুর্নীতি করার জন্য পণ্য দিনের পর দিন বন্দরে রেখে দেয় কাস্টমস কর্মকর্তারা। খেয়াল রাখতে হবে বন্দর যাতে বিদেশি স্বার্থে ব্যবহৃত না হয়।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম হলো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য উদাহরণ। হাটহাজারীর মতো অঞ্চলে মসজিদ ও মন্দির পাশাপাশি অবস্থিত, যেখানে দুই সম্প্রদায়ের মানুষ যুগ যুগ ধরে সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে ধর্মীয় এবং সামাজিক আচারে অংশ নিচ্ছেন। এই ঐতিহ্য যেন অক্ষুণ্ন থাকে, সে বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরি


ফরহাদ মজহার বলেন, গঠনতন্ত্র ও সংবিধান এক নয়। সংবিধান একটি আইনি কাঠামো মাত্র, যেখানে গঠনতন্ত্র হচ্ছে রাষ্ট্র ও সংগঠন পরিচালনার মূল দর্শন। ড. কামাল হোসেন সংবিধানকে রাষ্ট্রচিন্তার কেন্দ্রবিন্দু বানিয়েছেন, যা জাতির জন্য বিভ্রান্তিকর।

জামায়াতে ইসলামীর ঢাকার সমাবেশের সফলতা কামনা করে তিনি বলেন, আইডিএল (ইসলামিক ডেমোক্রেটিক লিগ) বিলুপ্ত করে জামায়াতে ইসলামী নামে রাজনীতিতে পুনরায় আত্মপ্রকাশ রাজনৈতিক দুরদর্শিতার ঘাটতি প্রকাশ করে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সম্মান জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীকে নাম পরিবর্তন করার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।

মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান শহীদুল হক, অধ্যাপক আর রাজী ও সহকারী অধ্যাপক সাইমা আলম।