পার্বত্য চট্টগ্রামে ছয় মাসে ২৪০টি মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ: সংবাদ সম্মেলনে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ১২:২০ অপরাহ্ন

পার্বত্য চট্টগ্রামে ছয় মাসে ২৪০টি মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ: সংবাদ সম্মেলনে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ

পার্বত্য চট্টগ্রামে ছয় মাসে ২৪০টি মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ: সংবাদ সম্মেলনে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ
ছবি সংগৃহীত।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন—এই ছয় মাসে পার্বত্য চট্টগ্রামে অন্তত ২৪০টি মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ। সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময়ে অপহরণ, হত্যা, চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, নারী নির্যাতন এবং শিশু-কিশোরদের জোরপূর্বক সংঘাতমুখী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার মতো নানা ঘটনা ঘটেছে, যা পার্বত্য অঞ্চলের সামগ্রিক জননিরাপত্তা পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক করে তুলেছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে বান্দরবান প্রেসক্লাবে "পার্বত্য চট্টগ্রামে মানবাধিকার পরিস্থিতি ও জননিরাপত্তা" শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরে সংগঠনটি।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান কাজী মো. মজিবর রহমান। তিনি বলেন, “পার্বত্য চট্টগ্রামে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, অপহরণ, চাঁদাবাজি, হত্যা, ভূমি দখল এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাহীনতা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই।”

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে পার্বত্য চট্টগ্রামে ৪্য৭টি অপহরণ এবং ১৬টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। একই সঙ্গে ব্যবসায়ী, কৃষক, শ্রমিক, পরিবহনচালক ও শিক্ষার্থীদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের প্রবণতা বেড়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিভিন্ন আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠী ৭০ জনের বেশি শিশু ও তরুণকে জোরপূর্বক তাদের সংঘাতময় কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করেছে। পাশাপাশি অন্তত ১৪ জন নারী অপহরণ, প্রতারণা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়।

সংগঠনটির অভিযোগ, অবৈধ চাঁদাবাজি বর্তমানে কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর অন্যতম আয়ের উৎসে পরিণত হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত এক বছরে পার্বত্য অঞ্চলে প্রায় ১ হাজার ৫২০টি চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটেছে। কাঠব্যবসায়ী, ওষুধ কোম্পানি, পরিবেশক প্রতিষ্ঠান এবং পরিবহন খাতের বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগও তুলে ধরা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনারও উল্লেখ করা হয়। এর মধ্যে রাঙ্গামাটিতে উন্নয়নকাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের মারধর করে চাঁদা দাবি, বান্দরবানে পণ্যবাহী ট্রাক আটকে অর্থ আদায় এবং ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের চেষ্টার অভিযোগ তুলে ধরা হয়। এ ছাড়া ভূমি দখল ও দখলচেষ্টার একাধিক ঘটনা, সীমান্তবর্তী এলাকায় অস্ত্র ও মাদক পাচার, সশস্ত্র প্রশিক্ষণ এবং অন্যান্য অবৈধ কর্মকাণ্ডের অভিযোগও প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, কিছু আঞ্চলিক সংগঠন আন্তর্জাতিক মহলে বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে সহানুভূতি ও সমর্থন অর্জনের চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, অস্ত্র চোরাচালান ও সহিংস কর্মকাণ্ড আড়াল করতে রাষ্ট্র ও নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার কথাও বলা হয়।

পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নিরপেক্ষ তদন্ত, আইনের শাসন নিশ্চিতকরণ, নারী ও শিশুর নিরাপত্তা জোরদার, অবৈধ অস্ত্র ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, ভূমিবিরোধের ন্যায্য সমাধান এবং অংশগ্রহণমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করার দাবি জানায় পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ বান্দরবান জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা আবুল কালাম আযাদ, বান্দরবান জেলা নাগরিক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য মো. নাছির উদ্দিন, পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মো. শাহজালাল, বান্দরবান জেলা ছাত্র পরিষদের সভাপতি মো. আসিফ ইকবাল এবং সাধারণ সম্পাদক মো. তানভির হোসেন ইমন।

বক্তারা বলেন, “পার্বত্য চট্টগ্রামে টেকসই শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সকল নাগরিকের জীবন, সম্পদ ও মানবাধিকার রক্ষার পাশাপাশি আইনের সমান সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে সম্প্রীতি, সহাবস্থান এবং সকল নাগরিকের সমঅধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ প্রয়োজন।”




নাইক্ষ্যংছড়িতে ইজিবাইকসহ ৩০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার

নাইক্ষ্যংছড়িতে ইজিবাইকসহ ৩০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়িতে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ইজিবাইকসহ ৩০ হাজার ১০০ পিস বার্মিজ ইয়াবা উদ্ধার করেছে নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি)। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বেলা আনুমানিক ১১টা ১৫ মিনিটে নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন সদর থেকে প্রায় ৫০০ গজ দূরে আম্মাজান কমিউনিটি সেন্টারের কাছে সেতুসংলগ্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১১ বিজিবির একটি বিশেষ আভিযানিক দল ওই এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় সন্দেহজনক একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইককে ধাওয়া করা হলে চালক ও ইয়াবা বহনকারী ব্যক্তি ইজিবাইক এবং সঙ্গে থাকা ইয়াবা ফেলে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় ইজিবাইকসহ তিন কার্টনে ৩০ হাজার ১০০ পিস বার্মিজ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা ইয়াবা ও ইজিবাইক পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “দেশের সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান ও মানবপাচার প্রতিরোধ, অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং মাদক পাচার প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে বিজিবি কাজ করে যাচ্ছে। সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।”




এসএসসিতে এফসিএইচ-এর বাজিমাত, ভালো ফলাফলে উৎসবের আমেজ

এসএসসিতে এফসিএইচ-এর বাজিমাত, ভালো ফলাফলে উৎসবের আমেজ
ছবি সংগৃহীত।

২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে বান্দরবানের বেসরকারি কোচিং প্রতিষ্ঠান 'ফারুক কোচিং হোম' (এফসিএইচ)-এর শিক্ষার্থীরা ভালো ফলাফল অর্জন করেছে। এবারের পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির অধিকাংশ শিক্ষার্থী কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হওয়ায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে আনন্দ-উচ্ছ্বাস।

এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর এফসিএইচ-এ তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জনের পর অনেক শিক্ষার্থী তাদের প্রিয় শিক্ষকদের সঙ্গে দেখা করে। কেউ কেউ মিষ্টি নিয়ে গিয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে সাফল্যের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যকার আন্তরিক সম্পর্কের চিত্র ফুটে ওঠে।

এফসিএইচ-এর সংশ্লিষ্টরা জানান, শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা, নিয়মিত পড়াশোনার তদারকি এবং এসএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রিক প্রস্তুতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী বাড়তি সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক গোলাম ফারুক বলেন, “একজন শিক্ষক হিসেবে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলের দিনে শিক্ষার্থীদের মুখে হাসি দেখার চেয়ে বড় পাওয়া আর কিছু হতে পারে না। তাদের সাফল্যই আমার সবচেয়ে বড় আনন্দ ও অর্জন। এই সাফল্যের পেছনে শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রম, অভিভাবকদের সহযোগিতা, শিক্ষকদের আন্তরিকতা এবং সর্বোপরি মহান আল্লাহর রহমত রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধু এসএসসি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করানো নয়; শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য যোগ্য, সৎ ও আত্মবিশ্বাসী মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা। তারা জীবনের প্রতিটি পরীক্ষায় যেন সফল হতে পারে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”

এফসিএইচ-এর শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরাও। তাদের মতে, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পরিচর্যা, শিক্ষকদের আন্তরিকতা এবং অভিভাবকদের সঙ্গে সমন্বয় ভালো ফলাফলের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

এদিকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় এফসিএইচ-এর অধিকাংশ শিক্ষার্থীর ভালো ফলাফল প্রতিষ্ঠানটির প্রতি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আস্থা আরও বাড়িয়েছে। বান্দরবানে শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফল ও একাডেমিক প্রস্তুতির ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

আগামী দিনেও শিক্ষার্থীদের আরও ভালো ফলাফল অর্জন এবং তাদের স্বপ্ন পূরণে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় জানিয়েছে ফারুক কোচিং হোম।




লামায় অভাবনীয় সাফল্য কোয়ান্টাম কসমো স্কুলের, সর্বোচ্চ জিপিএ-৫

লামায় অভাবনীয় সাফল্য কোয়ান্টাম কসমো স্কুলের, সর্বোচ্চ জিপিএ-৫
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় ২০২৬ সালের মাধ্যমিক, দাখিল ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। সারাদেশে ফলাফল বিপর্যয়ের মাঝে প্রতিবারের মতো এবারও নিজেদের মেধার স্বাক্ষর রেখে উপজেলার মধ্যে জিপিএ-৫ এবং পাসের হারে শীর্ষ স্থান বজায় রেখেছে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এসএসসি (মাধ্যমিক) শাখায় কোয়ান্টাম কসমো স্কুল থেকে মোট ৭৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে ৭১ জন শিক্ষার্থী সফলতার সাথে উত্তীর্ণ হয়েছে। জিপিএ-৫ অর্জন করেছে সর্বোচ্চ ১৩ জন শিক্ষার্থী এবং পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৯৪.৬৭ শতাংশ।

পুরো লামা উপজেলায় মাধ্যমিক শাখায় সর্বমোট ২৭ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে, যার মধ্যে প্রায় অর্ধেক (১৩ জন) পেয়েছে একাই কোয়ান্টাম কসমো স্কুল।

এছাড়া এসএসসি ভোকেশনাল ও দাখিল ভোকেশনাল শাখায় কোয়ান্টাম কসমো স্কুল থেকে ৬৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬৫ জন পাস করেছে, যেখানে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮ জন এবং পাসের হার ৯৪.২০ শতাংশ।

উপজেলার সামগ্রিক ফলাফলে দেখা যায়, এসএসসি মাধ্যমিক শাখায় ১,১১৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৫২৫ জন (পাসের হার ৪৭.০৯ শতাংশ), দাখিল শাখায় ১২৩ জনের মধ্যে ৫৮ জন উত্তীর্ণ হয়েছে (পাসের হার ৪৭.১৫ শতাংশ) এবং কারিগরি/ভোকেশনাল শাখায় ১১৬ জনের মধ্যে ৯৬ জন উত্তীর্ণ হয়েছে (পাসের হার ৮২.৭৬ শতাংশ)।

কোয়ান্টাম কসমো স্কুলের এই ধারাবাহিক ও অভাবনীয় ফলাফলে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দের আমেজ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের মতে, দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে আলো ছড়িয়ে লামার সুনাম দেশজুড়ে উজ্জ্বল রাখতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে বিদ্যালয়টি।

অন্যদিকে লামা উপজেলার রূপসীপাড়া ইউনিয়নে অবস্থিত লামা স্বপ্নকানন বিদ্যাপীঠ ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে সন্তোষজনক সাফল্য অর্জন করেছে। নতুন ও পুরোনো মিলিয়ে বিদ্যালয়টির মোট ৩৪ জন শিক্ষার্থী এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে, যার মধ্যে ২৬ জন শিক্ষার্থী কৃতকার্য হয়েছে। বিদ্যালয়টির পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৭৬.৪৭ শতাংশ।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মতে, প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের আন্তরিক প্রচেষ্টা, শিক্ষার্থীদের অধ্যবসায় এবং অভিভাবকদের সহযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এবারের এসএসসি ফলাফল সেই প্রচেষ্টারই একটি ইতিবাচক প্রতিফলন।