পার্বত্য ত্রিপুরা সমাজে সংকট: উত্তরণে ঐক্যের ডাক

বান্দরবান পার্বত্য জেলায় বসবাসরত ত্রিপুরা জনগোষ্ঠী বর্তমানে গভীর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অভ্যন্তরীণ কোন্দল, ধর্মীয় বিভাজন এবং ক্রমবর্ধমান মদ্যপানের প্রবণতা এই ঐতিহ্যবাহী সমাজকে দিন দিন প্রান্তিক করে তুলছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সমাজচিন্তকরা।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) থানচি উপজেলার বিভিন্ন পাড়ার বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ধর্মীয় বিশ্বাসের ভিন্নতাকে কেন্দ্র করে ত্রিপুরাদের মধ্যে অসহিষ্ণুতা বাড়ছে। বিশেষ করে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন মণ্ডলীর অনুসারীদের মধ্যে পারস্পরিক দ্বন্দ্ব সামাজিক ঐক্যকে বাধাগ্রস্ত করছে। এছাড়া পাড়া পর্যায়ে কারবারি (পাড়াপ্রধান) নিয়ে দলাদলি ও নেতৃত্বের কোন্দল উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ত্রিপুরা সমাজের উন্নয়নে বাধা হিসেবে শিক্ষায় অনগ্রসরতা ও পেশাগত প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে থাকাকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। চিকিৎসক, প্রকৌশলী ও সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মতো গুরুত্বপূর্ণ পেশায় এ জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব এখনও নগণ্য। এর পাশাপাশি অবাধ ও অনিয়ন্ত্রিত মদ্যপানের ফলে বাড়ছে পারিবারিক সহিংসতা ও নৈতিক অবক্ষয়।
এই সংকট থেকে উত্তরণে ত্রিপুরা সমাজকে পাড়া বা মণ্ডলীর ঊর্ধ্বে উঠে জাতিগত পরিচয়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সামাজিক নেতৃবৃন্দ শিক্ষার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করে তরুণদের মেধা বিকাশে বিনিয়োগ এবং মদ্যপানের বিরুদ্ধে ব্যাপক সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন। তাঁরা মনে করেন, এখনই আত্মসমালোচনা ও পারস্পরিক সহনশীলতার মাধ্যমে একতা নিশ্চিত না করলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে।











