পাশাপাশি দুটি ভাঙলেও অদৃশ্য ইশারায় অক্ষত অবৈধ এসবিএম ইটভাটা
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৪৭ অপরাহ্ন

পাশাপাশি দুটি ভাঙলেও অদৃশ্য ইশারায় অক্ষত অবৈধ এসবিএম ইটভাটা

পাশাপাশি দুটি ভাঙলেও অদৃশ্য ইশারায় অক্ষত অবৈধ এসবিএম ইটভাটা
ছবি সংগৃহীত।

চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নে প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় অবৈধ ইটভাটা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। প্রশাসনের নিয়মিত অভিযানে গত বছর হারবাং ইউনিয়নের দুটি অবৈধ ইটভাটা গুঁড়িয়ে দেওয়া হলেও রহস্যজনকভাবে অক্ষত রয়ে গেছে এসবিএম নামের একটি ইটভাটা। স্থানীয়দের দাবি, অদৃশ্য ইশারায় এই ভাটাটি রক্ষা পাচ্ছে।

জানা গেছে, উপজেলার উত্তর হারবাং এলাকায় লোহাগাড়া গ্রামের শামসুল আলমের মালিকানাধীন এসবিএম (SBM) নামের ইটভাটাটি চট্টগ্রাম বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের অধীন বনভূমির ভেতরে অবস্থিত। আইন অনুযায়ী সংরক্ষিত বনাঞ্চলে কোনো ধরনের ইটভাটা স্থাপন ও পরিচালনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও বছরের পর বছর ধরে ভাটাটি নির্বিঘ্নে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, ভাটাটির মালিক শামসুল আলম একজন প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত। তার নেতৃত্ব ও প্রভাবের কারণে প্রশাসনিক অভিযানের সময় পাশের দুটি ভাটা ভেঙে দেওয়া হলেও এসবিএম ইটভাটার বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এলাকাবাসী আরও জানান, ইটভাটাটির কারণে বনাঞ্চলের গাছ কেটে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে একদিকে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থলও হুমকির মুখে পড়ছে। ধোঁয়া ও কালো ছাইয়ে আশপাশের বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। তাছাড়া পাহাড় কেটে মাটি ব্যবহার করছে ভাটাটি।

এসব ভাটার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বনাঞ্চল ধ্বংসের পাশাপাশি জলবায়ু ও জনস্বাস্থ্যের ওপর ভয়াবহ প্রভাব পড়বে।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার বলেন, "আমি সবেমাত্র চকরিয়ায় যোগদান করেছি। কোনটা বৈধ, কোনটা অবৈধ খোঁজখবর নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

এলাকাবাসী ও পরিবেশ সচেতন মহল দ্রুত এসবিএম ইটভাটা-সহ হারবাং ইউনিয়নের অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদে নিরপেক্ষ ও কার্যকর অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন।




দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা

দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা
ছবি সংগৃহীত।

২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে ১৪০০ নম্বরের মধ্যে ১২৯০ পেয়ে জেলায় শীর্ষ স্থান অর্জন করেছেন কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

কৃতী শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা কক্সবাজার শহরের আলীর জাহাল পশ্চিম বড়ুয়া পাড়ার মো. শাহ আলম ও সাজেদা আক্তার সাজুর মেয়ে।

মুনতাহার প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফলের ধারাবাহিকতা:

তাসনিয়া জাহান মুনতাহা এই মাদ্রাসার একজন অনন্য মেধাবী শিক্ষার্থী। সে প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি বার্ষিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে প্রথম বা দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে এসেছে। পুরো শিক্ষাজীবনে সে কখনো তৃতীয় স্থান লাভ করেনি।

সহশিক্ষা কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণ ও সনদের তালিকা:

পড়াশোনার পাশাপাশি জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তাসনিয়া জাহান মুনতাহার অর্জন এবং সনদের সংখ্যা অসামান্য।




ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ

ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ
ছবি সংগৃহীত।

দাখিল পরীক্ষায় চমক দেখাল ইসলামিয়া মহিলা কামিল (অনার্স-মাস্টার্স) মাদ্রাসা, কক্সবাজার।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, মোট ৮৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৫ জন এবং সাধারণ বিভাগে ১ জন।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মোট ১০০০ নম্বরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২৮৪ পেয়ে রেকর্ড গড়ে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে ওয়ার্দা রিহাব। একই বিভাগের তাহমিদা তবচ্ছুম সাওদা গোল্ডেন জিপিএ-৫-সহ কৃতিত্ব দেখিয়েছে। তার প্রাপ্ত নম্বর ১২৩৬।

ফলাফল শিটে দেখা গেছে, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৯ জন ও সাধারণ বিভাগ থেকে ২৮ জনসহ মোট ৩৭ জন পরীক্ষার্থী ‘এ’ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। তা ছাড়া ১৭ জন এ-, ১৫ জন বি, ৭ জন সি এবং ৫ জন এফ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। মোট পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ।

এদিকে জিপিএ-৫-সহ দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা শফিউল হক জিহাদী। তিনি কৃতী ছাত্রীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।




রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক

রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুতে মায়ের হাতে দুই মাসের শিশুপুত্র জবাই হয়ে নির্মমভাবে খুন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদারপাড়ায় এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

নিহত শিশুর নাম রায়ান আহমেদ (বয়স: ২ মাস)। সে মালয়েশিয়াপ্রবাসী আব্দুল মালেকের সন্তান। শিশুর বাবার বাড়ি রাজারকুল সিকদারপাড়ায় হলেও ঘটনাটি ঘটেছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারের (২৩) বাবার বাড়ি চৌকিদারপাড়ায়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রামু থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারকে আটক করে।

এ বিষয়ে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, পরিবারের তথ্যমতে মেয়েটি মানসিক ভারসাম্যহীন এবং পূর্বে তাকে চিকিৎসকও দেখানো হয়েছে।

সকালে শিশুটিকে নিয়ে রান্নাঘরে ঢুকে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। অভিযুক্ত রোমানা আক্তারকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও বলেন, "পরিবার মানসিক সমস্যার কথা বললেও প্রাথমিকভাবে আমরা তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলতে পারি না। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে এবং চিকিৎসাগত পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।"

ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে দেখছে।