পাহাড় কাটা বন্ধে ৩ দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনকে হাইকোর্টের নির্দেশ

বান্দরবানের লামায় পাহাড় কাটা বন্ধে ৩ দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় প্রশাসনকে এবং প্রশাসনের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার জন্য স্থানীয় আর্মি ক্যাম্প কমান্ডারকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ।
বান্দরবানের লামায় ৪০টি ইটভাটার জন্য পাহাড় কাটার খবর বিভিন্ন স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত হলে জনস্বার্থে পাহাড় কাটা বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা চেয়ে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) গত ৩০ অক্টোবর হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করে।
উক্ত রিট পিটিশনের শুনানি শেষে আজ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি জে বি এম হাসান এবং বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভূঁইয়ার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ চার সপ্তাহের রুল জারি করেন। পাশাপাশি একটি মনিটরিং কমিটি গঠন করে তিন দিনের মধ্যে লামায় পাহাড় কাটা বন্ধের ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
অপর এক আদেশে বিবাদীদের ৭ দিনের মধ্যে পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে পরিবেশ আইনের ১৫ ধারা অনুসারে শাস্তি, অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড প্রয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং ৩০ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শুনানিতে অংশ নেওয়া জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, ‘পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এ পাহাড় কাটা বা ধ্বংস করার ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে। উক্ত আইনের ১৫ ধারায় পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। আইনের কড়াকড়ি প্রয়োগ না হওয়ার কারণে পার্বত্য অঞ্চলে পাহাড় কেটে ইটভাটার মালিকরা পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করছে, যা বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।’ তিনি আরও বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামে ইটভাটার মালিকরা এতটাই বেপরোয়া যে, আদালতের বিভিন্ন নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও তারা ইটভাটা পরিচালনার জন্য পাহাড় কাটছে।’
আদালতের জারি করা রুলে লামা উপজেলায় পাহাড় কাটা বন্ধে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, বান্দরবান জেলার পাহাড় কাটা ও ধ্বংস করা বন্ধে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না এবং কেটে ফেলা পাহাড় পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না—তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
রিট পিটিশনে বাদী ছিলেন এইচআরপিবির পক্ষে আইনজীবী মো. ছারওয়ার আহাদ চৌধুরী ও আইনজীবী রিপন বারোই। বিবাদীরা হলেন পরিবেশসচিব, মহাপরিচালক (ডিজি) ও পরিচালক (পরিবেশ অধিদপ্তর), জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও বান্দরবান আর্মি ক্যাম্প কমান্ডারসহ ১১ জন।
রিটকারীর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। তাঁকে সহায়তা করেন আইনজীবী সঞ্জয় মণ্ডল ও আইনজীবী নাসরিন সুলতানা। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মহিউদ্দিন মো. হানিফ।
লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মঈন উদ্দিন জানান, ‘আমি ছুটিতে আছি। হাইকোর্টের নির্দেশনার কপি পেলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’











