পাহাড়ের কৃষকরা ঝুঁকছে এখন তিল চাষে

বাংলাদেশের তিন পার্বত্য অঞ্চলের মধ্যে বান্দরবান জেলায় নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে তিল চাষ। গত কয়েক বছর ধরে পাহাড়ের কৃষকরা ঐতিহ্যগত জুমচাষ বা অন্যান্য ফসলের পরিবর্তে ক্রমেই ঝুঁকছে তিলের দিকে। কম খরচ, কম শ্রম, অনুকূল আবহাওয়া এবং বাজারে তিলের বাড়তি চাহিদা সব মিলিয়ে তিল এখন পাহাড়ি কৃষকদের কাছে লাভজনক ফসল হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠছে।
থোয়াইবতং পাড়ার কৃষক মংসিংগ্য মারমা বলেন, পাহাড়ের ঢালু জমিতে তিল ভালো জন্মায় এবং অন্যান্য ফসলের তুলনায় রোগবালাই কম হয়। ফলে উৎপাদন ব্যয়ও তুলনামূলক কম। তাছাড়া, স্বল্প সময়ে তিল ঘরে তোলা যায় বলে কৃষকরা একই জমিতে বছরে একাধিক ফসল উৎপাদনের সুযোগ পাচ্ছেন।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, বান্দরবানে কৃষি বিভাগও তিল চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করছে। তারা উন্নতমানের বীজ, প্রযুক্তিগত পরামর্শ এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিয়ে সহায়তা করছে। ফলে তিলের উৎপাদন আগের তুলনায় বাড়ছে এবং কৃষকরা পাচ্ছেন ভালো দাম।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় চাহিদার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও তিলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তাই সঠিক পরিকল্পনা এবং সরকারি সহযোগিতা পেলে পাহাড়ের তিল আন্তর্জাতিক বাজারেও জায়গা করে নিতে পারে, যা কৃষকদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বান্দরবানে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবু নঈম মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন বলেন, পাহাড়ি মাটি তিল উৎপাদনের জন্য বেশ অনুকূল। সঠিক জাতের বীজ, আগাছা নিয়ন্ত্রণ এবং সময়মতো ফসল তোলা হলে কৃষকরা সহজেই ভালো ফলন পেতে পারেন। পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে তিল সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণের কর্মসূচি চালু করা হলে এ অঞ্চলের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।
পাহাড়ের কৃষকদের নতুন এই ঝুঁকে পড়া তিল চাষ তাদের জীবিকা, অর্থনীতি এবং সামগ্রিক কৃষি উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার এক দিগন্ত উন্মোচন করছে দেশে ও দেশের বাইরে।











