পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম বেতন নির্ধারণে মজুরি বোর্ড ঘোষণা
বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:২৮ অপরাহ্ন

পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম বেতন নির্ধারণে মজুরি বোর্ড ঘোষণা

পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম বেতন নির্ধারণে মজুরি বোর্ড ঘোষণা
ছবি সংগৃহীত।

পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম বেতন নির্ধারণে ছয় সদস্যের মজুরি বোর্ড ঘোষণা করেছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। রোববার (১ নভেম্বর) সচিবালয়ে এ ঘোষণা দেন তিনি।

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় রোববার এ বিষয়ে পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, গার্মেন্টস শিল্প খাতে মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) পরিচালক এবিএম সামছুদ্দিন এবং শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতারকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

অন্য প্রজ্ঞাপনে নিরপেক্ষ সদস্য হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোসলেহ উদ্দিন আহমদ, মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের যুগ্ম-মহাসচিব আসিফ আইয়ুব এবং শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ (সংশোধিত ২০২৬)-এর সংশ্লিষ্ট ধারার ক্ষমতাবলে এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে নিম্নতম মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যানকে মালিকপক্ষ, শ্রমিকপক্ষ ও নিরপেক্ষ প্রতিনিধিদের নিয়ে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এর আগে, শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাজধানীর বিজয়নগরে শ্রম ভবনে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন শ্রমমন্ত্রী। ওই বৈঠকশেষে রোববার মজুরি বোর্ড গঠন করার বিষয়টি জানিয়েছিলেন তিনি।

তৈরি পোশাক খাতে ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, শ্রমিকদের কালো তালিকাভুক্তি বন্ধ ও ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের পুনর্নিয়োগের দাবিতে আন্দোলন করছেন শ্রমিকরা। আজ রোববার রাজধানীর মিরপুর এবং গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকরা রাস্তা অবরোধ করেছেন। মিরপুরে সড়ক থেকে শ্রমিকদের সরিয়ে দিতে চেষ্টা চালালে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

গতকাল শনিবারও মিরপুর, সাভার ও গাজীপুরে শ্রমিকদের বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও বিভিন্ন কারখানা-মার্কেটে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ সংঘর্ষে পুলিশসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন।

শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানান, শ্রমিকদের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল নতুন মজুরি বোর্ড গঠন। সরকার ও পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ এ বিষয়ে একমত হয়েছে। শ্রমিক প্রতিনিধিরাও তাদের মনোনীত সদস্যদের নাম জমা দিয়েছেন। আজকের মধ্যেই বোর্ড গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি হবে।




এক মাসের মধ্যেই পোশাকশ্রমিকদের নতুন বেতন কাঠামোর আশা

এক মাসের মধ্যেই পোশাকশ্রমিকদের নতুন বেতন কাঠামোর আশা
ছবি সংগৃহীত।

তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের নতুন নিম্নতম মজুরি নির্ধারণে এক মাসের মধ্যে সুপারিশ প্রণয়নের আশা করছেন নবগঠিত নিম্নতম মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ আজাদ সুবহানী। তিনি বলেন, আগেরবারের মতো দীর্ঘ সময় লাগবে না। শ্রমিকদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে মজুরি নির্ধারণের সুপারিশ করা হবে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় নিম্নতম মজুরি বোর্ডের সভাকক্ষে বোর্ডের প্রথম সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন চেয়ারম্যান।

এর আগে বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে শুরু হওয়া এ সভায় শ্রমিক ও মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তৈরি পোশাকশিল্পে শ্রমিক অসন্তোষ ও অস্থিরতার মধ্যে নতুন মজুরি নির্ধারণের প্রক্রিয়া শুরু হলো এই সভার মধ্য দিয়ে।

সৈয়দ আজাদ সুবহানী বলেন, গত ১ নভেম্বর সরকার তৈরি পোশাকশিল্পের জন্য নিম্নতম মজুরি বোর্ডের সদস্য নিয়োগ দিয়েছে। এর মাত্র তিন দিনের মাথায় বোর্ডের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হলো। সভায় সদস্যদের পরিচিতি পর্বের পাশাপাশি মজুরি নির্ধারণের আইনগত প্রক্রিয়া ও পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

বোর্ডের চেয়ারম্যান বলেন, আমরা আশা করছি, অচিরেই পরবর্তী সভায় মজুরি নির্ধারণের সুপারিশ প্রণয়নের লক্ষ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করতে পারব। মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিরা তাদের অভিজ্ঞতা ও মতামত তুলে ধরেছেন। পরবর্তী সভায় তাদের কাছ থেকে প্রয়োজনে লিখিত প্রস্তাব ও সুপারিশ নেওয়া হবে।

আগেরবার মজুরি নির্ধারণে সাতটি সভা করতে হয়েছিল। এবার কতটি সভা লাগতে পারে, এমন প্রশ্নের জবাবে চেয়ারম্যান বলেন, সাধারণত এ ধরনের কাজের জন্য ছয় মাসের সময়সীমা থাকে। তবে বর্তমান সরকার আন্তরিকতার সঙ্গে অল্প সময়ের মধ্যে বোর্ড গঠন করেছে। বোর্ড গঠনের তিন দিনের মধ্যেই প্রথম সভা হয়েছে। তাই এবার আগের মতো দীর্ঘ সময় লাগবে না বলে আশা করছেন তারা।

শ্রমিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বোর্ডের কর্মপরিকল্পনা ও কার্যপদ্ধতি শ্রমিকদের স্বার্থের পক্ষেই রয়েছে। মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরাও সভায় শ্রমিকদের বিষয়ে আন্তরিকতার সঙ্গে কথা বলেছেন। তাই শ্রমিকদের বোর্ডের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

শ্রমিকদের ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি পাওয়ার প্রত্যাশা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমার প্রতিশ্রুতি দেননি। তবে দ্রুত ভালো ফল পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, শ্রমিকদের দেওয়া মজুরির প্রস্তাব এবং মালিকপক্ষের মতামত পাওয়ার পর বোর্ড পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেবে।

বোর্ডের পরবর্তী সভা আগামী সপ্তাহে হতে পারে বলে জানান চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের নিজ নিজ সংগঠন এবং বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রস্তাব তৈরির জন্য কিছুটা সময় প্রয়োজন। তাড়াহুড়া করে সিদ্ধান্ত নিতে গেলে ভালো ফল নাও আসতে পারে। তাই দ্বিতীয় সভার আগে তাদের প্রস্তুতির সুযোগ দেওয়া হবে।




দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য জরুরী নির্দেশনা

দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য জরুরী নির্দেশনা
ছবি সংগৃহীত।

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আগামী ৭ নভেম্বর দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি ভবনেও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের নির্দেশ দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোতেও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে।

রোববার (১ নভেম্বর) এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন উপলক্ষে ৭ নভেম্বর দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি ভবনে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে হবে। বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোতেও পতাকা উত্তোলন করা হবে।

এদিকে, দিবসটি উপলক্ষে ৭ নভেম্বর সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপনসংক্রান্ত পরিপত্রে দিবসটিকে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, গত ৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে এ সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বসংক্রান্ত বিধান অনুসরণ করা হয়েছে।




শ্রমিক অসন্তোষ ঠেকাতে ১২ প্লাটুন বিজিবি, ড্রোনে নজরদারি

শ্রমিক অসন্তোষ ঠেকাতে ১২ প্লাটুন বিজিবি, ড্রোনে নজরদারি
ছবি সংগৃহীত।

শ্রমিক অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জসহ আশপাশের শিল্পাঞ্চলে ১২ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ড্রোন ও বডি ওর্ন ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

সোমবার (৩ নভেম্বর) বিজিবি সদর দপ্তর থেকে জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শিল্পকারখানার কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে মোতায়েন করা বিজিবি সদস্যরা স্থানীয় প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে দায়িত্ব পালন করছেন।

বর্তমানে গাজীপুরের সফিপুর, কালিয়াকৈর ও কোনাবাড়ী এলাকায় ১০ প্লাটুন এবং নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া এলাকায় দুই প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। পাশাপাশি আশুলিয়া ও মিরপুরসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার পরিস্থিতিও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ড্রোন এবং বডি ওর্ন ক্যামেরার মাধ্যমে লাইভ মনিটরিং করছে বিজিবি। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, সংযোগস্থল ও সংবেদনশীল এলাকায় ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হচ্ছে।

একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনরত বিজিবি সদস্যদের বডি ওর্ন ক্যামেরার ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
বিজিবি সদর দপ্তরে স্থাপিত কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল থেকে এসব ড্রোন ও বডি ওর্ন ক্যামেরার লাইভ ফুটেজ সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি তাৎক্ষণিক মূল্যায়ন, সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোর সঙ্গে সমন্বয় এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

বিজিবি জানিয়েছে, জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা, স্বাভাবিক চলাচল ও শিল্পাঞ্চলের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সর্বোচ্চ পেশাদারত্ব, সংযম ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে তারা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত স্থানীয় প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।