প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বহালতবিয়তে ইলিশিয়া গরুর হাট, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ১২:২০ অপরাহ্ন

প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বহালতবিয়তে ইলিশিয়া গরুর হাট, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বহালতবিয়তে ইলিশিয়া গরুর হাট, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার ইলিশিয়ায় উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে একবার বন্ধ করে দেওয়া গরুর হাট পুনরায় চালু হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের মাঠে হাট পরিচালনা, সরকারি অনুমোদন ছাড়া অর্থ আদায় এবং সরকারের রাজস্ব ক্ষতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ইলিশিয়া জামিলা বেগম উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন মাঠে গরুর হাট বসেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে নিয়মিত হাট পরিচালনার কারণে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রশাসন সীমিত সময়ের জন্য পশুর হাট পরিচালনার অনুমতি দিলেও পরবর্তীতে হাটটি বন্ধ না করে নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন, পশ্চিম বড় ভেওলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল মজিদের নেতৃত্বে হাটটি পরিচালিত হচ্ছে। তাদের দাবি, সরকারি অনুমোদিত হাসিলের পরিবর্তে বিক্রেতাদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হচ্ছে, ফলে সরকার সম্ভাব্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আব্দুল মুজিদ বলেন, এলাকার জনগণ ও ক্রেতা-বিক্রেতাদের অনুরোধে বাজারটি পরিচালনা করা হচ্ছে। বর্তমানে কোনো সরকারি হাসিল বা রসিদ নেওয়া হচ্ছে না বলেও দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি খাস কালেকশন অনুমতির জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদন করা হয়েছে বলে জানান।

এ বিষয়ে দ্বৈত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার বলেন, ঈদুল আজহা উপলক্ষে সীমিত সময়ের জন্য পশুর হাট বসানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে অবৈধভাবে বাজার পরিচালনার অভিযোগে একবার অভিযান চালিয়ে বাজারটি বন্ধ করা হয়। এরপরও যদি বাজার পরিচালিত হয়ে থাকে, তবে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন, প্রশাসনের নির্দেশে বন্ধ হওয়ার পরও কীভাবে একই স্থানে আবার হাট পরিচালিত হচ্ছে? সরকারি নির্দেশ অমান্য করে বাজার পরিচালনার পেছনে কারা রয়েছে এবং রাজস্ব ক্ষতির অভিযোগের সত্যতা কতটুকু তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।




দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা

দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা
ছবি সংগৃহীত।

২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে ১৪০০ নম্বরের মধ্যে ১২৯০ পেয়ে জেলায় শীর্ষ স্থান অর্জন করেছেন কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

কৃতী শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা কক্সবাজার শহরের আলীর জাহাল পশ্চিম বড়ুয়া পাড়ার মো. শাহ আলম ও সাজেদা আক্তার সাজুর মেয়ে।

মুনতাহার প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফলের ধারাবাহিকতা:

তাসনিয়া জাহান মুনতাহা এই মাদ্রাসার একজন অনন্য মেধাবী শিক্ষার্থী। সে প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি বার্ষিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে প্রথম বা দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে এসেছে। পুরো শিক্ষাজীবনে সে কখনো তৃতীয় স্থান লাভ করেনি।

সহশিক্ষা কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণ ও সনদের তালিকা:

পড়াশোনার পাশাপাশি জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তাসনিয়া জাহান মুনতাহার অর্জন এবং সনদের সংখ্যা অসামান্য।




ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ

ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ
ছবি সংগৃহীত।

দাখিল পরীক্ষায় চমক দেখাল ইসলামিয়া মহিলা কামিল (অনার্স-মাস্টার্স) মাদ্রাসা, কক্সবাজার।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, মোট ৮৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৫ জন এবং সাধারণ বিভাগে ১ জন।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মোট ১০০০ নম্বরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২৮৪ পেয়ে রেকর্ড গড়ে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে ওয়ার্দা রিহাব। একই বিভাগের তাহমিদা তবচ্ছুম সাওদা গোল্ডেন জিপিএ-৫-সহ কৃতিত্ব দেখিয়েছে। তার প্রাপ্ত নম্বর ১২৩৬।

ফলাফল শিটে দেখা গেছে, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৯ জন ও সাধারণ বিভাগ থেকে ২৮ জনসহ মোট ৩৭ জন পরীক্ষার্থী ‘এ’ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। তা ছাড়া ১৭ জন এ-, ১৫ জন বি, ৭ জন সি এবং ৫ জন এফ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। মোট পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ।

এদিকে জিপিএ-৫-সহ দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা শফিউল হক জিহাদী। তিনি কৃতী ছাত্রীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।




রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক

রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুতে মায়ের হাতে দুই মাসের শিশুপুত্র জবাই হয়ে নির্মমভাবে খুন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদারপাড়ায় এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

নিহত শিশুর নাম রায়ান আহমেদ (বয়স: ২ মাস)। সে মালয়েশিয়াপ্রবাসী আব্দুল মালেকের সন্তান। শিশুর বাবার বাড়ি রাজারকুল সিকদারপাড়ায় হলেও ঘটনাটি ঘটেছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারের (২৩) বাবার বাড়ি চৌকিদারপাড়ায়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রামু থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারকে আটক করে।

এ বিষয়ে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, পরিবারের তথ্যমতে মেয়েটি মানসিক ভারসাম্যহীন এবং পূর্বে তাকে চিকিৎসকও দেখানো হয়েছে।

সকালে শিশুটিকে নিয়ে রান্নাঘরে ঢুকে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। অভিযুক্ত রোমানা আক্তারকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও বলেন, "পরিবার মানসিক সমস্যার কথা বললেও প্রাথমিকভাবে আমরা তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলতে পারি না। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে এবং চিকিৎসাগত পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।"

ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে দেখছে।