ফটিকছড়িতে পালক সন্তানের জালিয়াতিতে ওয়ারিশ বিতর্ক
ফটিকছড়ি উপজেলার নাজিরহাট পৌরসভায় পালক সন্তানের অব্যাহত হুমকি-ধমকিতে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন একটি পরিবার। সর্বশেষ জাল ওয়ারিশ সনদের মাধ্যমে অর্থ-সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী। পরিবার।
শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) উপজেলা সদরের একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য মোহাম্মদ রাশেদ।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ২৯ মে আমার জেঠা, পূর্ব ফরহাদাবাদ দারুচ্ছুন্নাহ কাদেরিয়া দাখিল মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা মরহুম মৌলানা আবদুল হালিম মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর ওরশজাত কোনো সন্তান না থাকায় জীবদ্দশায় সাহেদ মোহাম্মদ আরমান নামে এক পুত্র ও সাহেদা খানম রুমি নামে এক কন্যাকে পালক হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু মৃত্যুর পর তারা সুকৌশলে জেঠার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিজেদের করে নেওয়ার অপতৎপরতা শুরু করে।
তিনি আরও বলেন, কথিত সাহেদের প্রকৃত বাড়ি রাউজান উপজেলার ছত্রপাড়া গ্রামের সৈয়দ আমির বাড়ি। আর রুমির পরিচয় অস্পষ্ট। এ বিষয়ে স্থানীয়দের মধ্যে স্পষ্ট ধারণা রয়েছে।
মোহাম্মদ রাশেদ অভিযোগ করে বলেন, ইসলামী ফরায়েজ অনুযায়ী জেঠার সম্পত্তির ওয়ারিশ হবেন তাঁর স্ত্রী রহিমা খাতুন এবং তিন ভ্রাতুষ্পুত্র মোহাম্মদ রাশেদ, মোহাম্মদ মোরশেদ ও মিজানুর রহমান। কিন্তু উক্ত পালক সন্তানরা অর্থের লোভে ২০২৪ সালের ১২ আগস্ট নাজিরহাট পৌরসভা থেকে একটি জাল ওয়ারিশ সনদ তৈরি করে আমাদের হয়রানি করে।
পরিবারটি বিষয়টি পৌরসভাকে অবহিত করলে যাচাই-বাছাই শেষে সনদটি জাল প্রমাণিত হয়। পরে ২০২৫ সালের ২১ মে পৌর কর্তৃপক্ষ তাদের প্রকৃত ওয়ারিশ হিসেবে প্রত্যয়ন প্রদান করে। এ ঘটনা গণমাধ্যমেও প্রকাশ পায়। পরবর্তীতে তদন্তের মাধ্যমে পৌরসভা তাদের প্রকৃত ওয়ারিশ সনদ প্রদান করে।
রাশেদ লিখিত বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন, উক্ত দুই পালক সন্তানের জাতীয় পরিচয়পত্রে ভুল তথ্য থাকার কারণে নির্বাচন কমিশন তাদের তথ্য-ডাটা স্থগিত করেছে এবং প্রকৃত মা-বাবার নাম সংশোধন না করা পর্যন্ত এ প্রক্রিয়া চলমান থাকবে।
মোহাম্মদ রাশেদ বলেন, জেঠা আবদুল হালিমের সাথে তাদের ঔরশজাত কোনো সম্পর্ক নেই। তাই সম্পত্তি স্থানান্তর বা রূপান্তরে তাদের কোনো আইনগত অধিকার নেই। তবুও যদি কেউ তাদের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন করে, প্রকৃত ওয়ারিশ হিসেবে আমরা কোনো দায়ভার নেব না।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, সম্প্রতি তারা আমাদের পথে-ঘাটে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। প্রভাবশালীদের মাধ্যমে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। আমরা ইতিমধ্যে আইনি প্রক্রিয়া নিয়েছি।
সংবাদ সম্মেলনে এ সময় উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ মোরশেদ ও মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন।
অভিযোগের বিষয়ে পালক পুত্র সাহেদ মোহাম্মদ আরমান জানান, এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে চাই না। বিষয়টি আদালতই নিষ্পত্তি করবে।











