বহুতল ভবন নির্মাণে ব্যবসায়ীকে চাঁদার দাবি, অপরাধীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন

হাটহাজারীতে আলোচিত বহুতল ভবন নির্মাণে ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিনের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে হামলা ও ভাঙচুরের দায়ে করা মামলায় ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অন্যান্য অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে স্থানীয়রা মানববন্ধন করেছেন। মানববন্ধনে অভিযোগ করা হয়, ২০ লাখ টাকা দাবি করার পর ভবন মালিক মামলা করলে পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। এরপর আবারও ভবন মালিক জসিমকে হুমকি দিয়ে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। অন্যথায় পরিবারসহ তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেয় অপরাধীরা।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে হাটহাজারী-অক্সিজেন সড়কের বড়দিঘীর পাড় এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। একই দিন বিকেল ৩টার দিকে তিনজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন হাটহাজারী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মোস্তাক আহমেদ চৌধুরী।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—সিরাজগঞ্জ জেলার সদর থানার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হোকসার এলাকার হাশেমের বাড়ির মৃত ইমাম হোসেনের পুত্র মো. আবু তালহা (২৬), বায়েজিদ বোস্তামী থানার ট্যানারি বটতলার হাশেম শাহ মাদ্রাসা রোডের বড় হুজুরের বাড়ির ইউসুফের পুত্র মো. আসিফ (২৫) এবং হাটহাজারী উপজেলার ১ নম্বর দক্ষিণ পাহাড়তলীর আমান বাজার শাহাজী বাড়ির মৃত ফরিদুল আলমের পুত্র সাইদুল ইসলাম প্র. আরিফ (২৪)।
জানা যায়, গতকাল ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন বাদী হয়ে ৮-৯ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নম্বর-২৮। মামলা দায়েরের জেরে এবার ২০ লাখ টাকা চাঁদার পরিবর্তে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও মুঠোফোনে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে আজ মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বেলা ১২টার দিকে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি মহাসড়কের হাটহাজারী উপজেলার চিকনদণ্ডী ইউনিয়নের বড়দিঘীর পাড়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণ।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী একটি মামলা দায়ের করার পর থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের কাছ থেকে বারবার মুঠোফোনে হুমকি পাচ্ছেন। তাঁদের দাবি, প্রথমে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হলেও পরে সেই দাবির পরিমাণ বাড়িয়ে ৫০ লাখ টাকা করা হয়। চাঁদা না দিলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও পরিবারের সদস্যদের ক্ষতির হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, একজন ব্যবসায়ীকে এভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও চাঁদা দাবি করা আইনশৃঙ্খলার জন্য উদ্বেগজনক। তাঁরা অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং ভুক্তভোগী ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
কর্মসূচিতে স্থানীয় ব্যবসায়ী, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও এলাকাবাসী অংশ নেন। তাঁরা ঘটনার দ্রুত বিচার এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেন।
হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মোহাম্মদ তারেক আজিজ এ প্রতিবেদককে জানান, "গতকালের ঘটনায় ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করার পরপরই এই মামলায় এখন পর্যন্ত ৩ জন আসামিকে বায়েজিদ থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা ঘটনায় সরাসরি জড়িত বলে স্বীকার করেছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার করতে অভিযান অব্যাহত আছে।"












