বাঁশখালীতে ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে আলেমকে অপহরণ ও মারধরের অভিযোগ এলাকায় তীব্র ক্ষোভ

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে রায়হানুল কবির শামিম নামে এক ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে মাওলানা মুফতি সৈয়দুল ইসলাম নামে এক আলেমকে অপহরণ, মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ২৮ আগস্ট শুক্রবার রাত ৮টার দিকে চট্টগ্রাম নগরীর রউফাবাদ সংলগ্ন বর্মা কলোনি আমিনমাঠ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ওই এলাকার জাহেদের মাধ্যমে দাওয়াতের কথা বলে ফোন করে মাওলানা সৈয়দুল ইসলামকে পরিকল্পিতভাবে সেখানে নিয়ে যায় ছাত্রলীগ নেতা শামিম। পরে তাঁকে মারধর ও নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার মাওলানা সৈয়দুল ইসলাম বাঁশখালী উপজেলার সরল ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মিনজিরিতলা গ্রামের মরহুম ছাবের আহমদের ছেলে। তিনি হাটহাজারী লালিয়ারহাট হোসাইনিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার শিক্ষক এবং চৌধুরীহাট পাহাড়তলী হাজী সফর আলী জামে মসজিদের খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত বাঁশখালী উপজেলা শাখার মুখপাত্র অধ্যাপক মনিরুল ইসলাম আশরাফীর বড় ভাই। অন্যদিকে অভিযুক্ত রায়হানুল কবির শামিম একই এলাকার মৃত মোহাম্মদ ফেরদৌসের ছেলে। সে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের উপ-তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এবং চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ অসংখ্য মামলা রয়েছে। সে চট্টগ্রাম মহানগরীতে আত্মগোপনে থেকে এখনো নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।
জানা গেছে, বাঁশখালী উপজেলার সরল ইউনিয়নের মিনজিরিতলা গ্রামের মাওলানা মুফতি সৈয়দুল ইসলামের সঙ্গে একই এলাকার ছাত্রলীগ নেতা রায়হানুল কবির শামিমের বিরোধ রয়েছে। বিরোধ ও পূর্বশত্রুতার জের ধরে এর আগেও গ্রামের বাড়িতে নানা জুলুম-অত্যাচার করে ছাত্রলীগ নেতা শামিম। এমনকি আওয়ামী লীগের শাসনামলে প্রভাবশালী নেতা, মন্ত্রী ও মেয়রের ছবি দেখিয়ে মানুষকে নির্যাতন করার পাশাপাশি জমি জবরদখল করে ঘরবাড়ি তৈরি করে শামিম। শামিমের এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সব সময় প্রতিবাদ করতেন মাওলানা সৈয়দুল ইসলাম। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গত শুক্রবার রাতে মাওলানা মুফতি সৈয়দুল ইসলামকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে অপহরণ ও নির্যাতন করা হয়।
মাওলানা মুফতি সৈয়দুল ইসলাম জানান, জাহেদ নামের এক যুবক মুনাজাতের কথা বলে মোবাইল ফোনে তাঁকে দাওয়াত দেয়। বারবার অনুরোধ করার পর সরল বিশ্বাসে সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে তিনি রউফাবাদ পৌঁছালে অন্য একটি গাড়িতে করে আমিন জুট মিল ও বর্মা কলোনি হয়ে আমিন মাঠে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে যাওয়ার পথে মাওলানা সৈয়দুল ইসলামের সন্দেহ হয়। সে সময় তিনি ফিরে আসতে চাইলে সন্ত্রাসীরা তাঁর ওপর হামলা চালায়। শামিমের নেতৃত্বে ৪-৫ জন সন্ত্রাসী তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর ও নির্যাতন করে। এ সময় মাওলানা সৈয়দুল ইসলামের আর্তচিৎকারে এলাকাবাসী এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।
এদিকে মাওলানা মুফতি সৈয়দুল ইসলামের ওপর হামলা, মারধর ও অপহরণের ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।











