বাঁশখালীতে ছাত্রলীগ নেতা পেলেন ফ্যামিলি কার্ড শুমারির চাকরি! বাদ পড়লেন বিএনপি নেতার ছেলে

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির আবেদনের চূড়ান্ত নিয়োগ পেয়েছেন চট্টগ্রাম সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ও এজিএস মোহাম্মদ ইমরান। ইমরানের বাবা গিয়াস উদ্দিন চাম্বল ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। অন্যদিকে আবেদন ও পরীক্ষা দিয়েও ঘুষ দিতে না পারায় চাম্বল ইউনিয়ন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সাবেক ইউপি সদস্য এস এম আবদুর রশিদের ছেলে এস এম আরিফুল ইসলামের চাকরি হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন স্বয়ং ওই বিএনপি নেতা।
আবদুর রশিদের অভিযোগ, তাঁর ছেলেকে না নিয়ে আওয়ামী পরিবারের সন্তান—যার বাবা একজন আওয়ামী লীগ নেতা, নিজেও ছাত্রলীগ নেতা এবং ৫ আগস্টের পরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সক্রিয় হয়ে নিয়মিত আওয়ামী লীগের পোস্ট শেয়ার ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়কদের নিয়ে কটূক্তি করেন—এমন একজনকে চাকরি দেওয়া হয়েছে। বিএনপি পরিবারের সদস্য হিসেবে বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। এই ঘটনায় বাঁশখালীতে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, বাঁশখালীতে গত আগস্ট মাসে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সে অনুযায়ী বিজ্ঞপ্তি দিয়ে আবেদনপত্র আহ্বান করা হয়। শুরুতেই বিতর্কিত সংগঠনের কেউ যেন নিয়োগ না পায়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা যায়, বেশ কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতা নিয়োগের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। এমনকি বাঁশখালী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে হাম্মাদ বিন সোলাইমান নামে এক ছাত্রলীগ নেতাও এই পদে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হন।
রাজনৈতিক পরিচয় ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কীভাবে নিষিদ্ধ সংগঠনের কর্মীরা ফ্যামিলি কার্ডের মতো সরকারি কর্মসূচির তথ্যসংগ্রহকারী পদে নির্বাচিত হলেন, তা নিয়ে স্থানীয়দের মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক পরিচয় যাচাই করা হয়েছিল কি না এবং বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রুহুল আমিন জানান, এ বিষয়ে এখনো কেউ আনুষ্ঠানিক তথ্য বা অভিযোগ দেয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন জানান, পরীক্ষার পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যক্তির সুপারিশে এই নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে নিষিদ্ধ সংগঠনের কেউ অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে তাকে বাদ দেওয়া হবে।









