বাঁশখালীতে প্রবাসীকে ছুরিকাঘাত: দেড় মাসেও গ্রেপ্তার হয়নি ছাত্রলীগ কর্মী শাহাদাত

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে লিবিয়া প্রবাসী মাওলানা নজরুল ইসলামকে (৪৫) ছুরিকাঘাত ও হত্যাচেষ্টা মামলার প্রধান আসামি শাহাদাত হোসেনকে দেড় মাসেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। গত ২৬ নভেম্বর উপজেলার গন্ডামারা ইউনিয়নের পশ্চিম বড়ঘোনা এলাকায় চাঁদা না পেয়ে প্রবাসীকে কুপিয়ে জগত জখম করার এই ঘটনা ঘটলেও অভিযুক্ত ছাত্রলীগ কর্মী ও তার বাবা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লিবিয়া প্রবাসী নজরুল ইসলাম সম্প্রতি দেশে ফেরার পর একই এলাকার ফরিদুল আলমের ছেলে শাহাদাত হোসেন তার কাছে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। গত ২৬ নভেম্বর বুধবার সন্ধ্যায় পশ্চিম বড়ঘোনা নতুন মার্কেটের একটি দোকানে নাস্তা করার সময় শাহাদাতের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী নজরুলের ওপর হামলা চালায়। এসময় তাকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করা হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে গুরুতর অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এ ঘটনায় নজরুলের স্ত্রী ফাতেমা জান্নাত তাজিদা বাদী হয়ে শাহাদাত হোসেন ও তার পিতা ফরিদুল আলমের বিরুদ্ধে বাঁশখালী থানায় মামলা দায়ের করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর শাহাদাত কিছুদিন আত্মগোপনে থাকলেও বর্তমানে এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছেন।
ভুক্তভোগী নজরুল ইসলাম বলেন, "আমি প্রবাসী হওয়ায় শাহাদাত আমার কাছে চাঁদা দাবি করেছিল। তা না দেওয়ায় সে আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করেছে। দেড় মাস পার হলেও পুলিশ তাকে ধরছে না, ফলে আমি ও আমার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।"
অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে বিলম্বের বিষয়ে জানতে চাইলে বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদ সাইফুল্লাহ বলেন, “আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কয়েক দফা অভিযান চালিয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি, দ্রুতই হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনা হবে।”











