বাঁশখালীর জালিয়াখালী বাজারে দোকান ভাঙচুর ও লুটপাট

বাঁশখালীতে বন্যা পরিস্থিতি ও প্রশাসনের ব্যস্ততার সুযোগে একটি দোকানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। জায়গা পাওয়ার দাবি তুলে প্রতিপক্ষের লোকজন বাজারের ঐতিহ্যবাহী ৫০ বছরের পুরোনো নুরুল আমিন স্টোরে হামলা ও লুটপাট চালায়।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) সন্ধ্যায় বাঁশখালী পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ জলদী জালিয়াখালী বাজারে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ব্যবসায়ী নুরুল আমিন বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ দিলেও কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। হামলা ও লুটপাটে ব্যবসায়ীর ৩ লাখ টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
জানা গেছে, জালিয়াখালী বাজারের মৃত গুরা মিয়া সওদাগরের ছেলে নুরুল আমিন সওদাগরের ৫০ বছরের পুরোনো নুরুল আমিন স্টোরের কিছু অংশ নিজেদের মালিকানা দাবি করেন একই এলাকার মৃত বাচা মিয়ার ছেলে জমির উদ্দিন ও শওকত হোসেন। এ নিয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও বাঁশখালী থানায় অভিযোগ দেন জমির ও শওকত। অপরদিকে হুমকির অভিযোগে নুরুল আমিন সওদাগরের পক্ষেও থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়। বিষয়টি উভয় পক্ষকে নিয়ে বসে সুরাহা করার সিদ্ধান্ত হয়।
কিন্তু এর মধ্যেই মৃত বাচা মিয়ার ছেলে জমির উদ্দিন ও শওকত হোসেন, মৃত ফোরক আহমদের ছেলে কামাল হোসেন এবং একরাম আলীর ছেলে হাসানের নেতৃত্বে একদল বহিরাগত দোকানে হামলা চালায়। এ সময় তারা দোকানের তালা ভেঙে ও গ্রিল কেটে নুরুল আমিন স্টোরে প্রবেশ করে মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। হামলাকারীরা নুরুল আমিনের ছেলে পারভেজ ও দোকানের কর্মচারীদের মারধর করে।
ব্যবসায়ী নুরুল আমিন জানান, “তারা কিছুদিন ধরে আমার দোকানের কিছু অংশ পাওয়ার দাবি করে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিল এবং এসিল্যান্ড ও থানায় অভিযোগও দিয়েছিল। কিন্তু প্রশাসনের সিদ্ধান্তের আগেই তারা আমার দোকানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে।” এতে তাঁর ৩ লাখ টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে জানান তিনি।
অভিযুক্ত জমির উদ্দিন জানান, “আমাদের জায়গা দীর্ঘদিন ধরে তারা জবরদখল করে রেখেছে। থানা-পুলিশের সঙ্গে কথা বলেই আমরা দোকান দখলমুক্ত করেছি।”
বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল হক জানান, এ বিষয়ে উভয় পক্ষই থানায় অভিযোগ দিয়েছে। তবে প্রশাসন বিষয়টি সুরাহা করার আগেই তারা নিজেরা নিজেরা দখল-পাল্টাদখল ও বিরোধে জড়িয়ে পড়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় উভয় পক্ষকে শান্ত থাকতে বলা হয়েছে।












