বাজারের মূল্য তারতম্য অনুসন্ধানে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ১২:১৮ অপরাহ্ন

বাজারের মূল্য তারতম্য অনুসন্ধানে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

বাজারের মূল্য তারতম্য অনুসন্ধানে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
ছবি সংগৃহীত।

পাইকারি ও খুচরা বাজারে পণ্যের দামের অযৌক্তিক ব্যবধানের কারণ অনুসন্ধানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

রোববার (১৫ মার্চ) দুপুরে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ পাইকারি বাজারে দ্রব্যমূল্যের পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত: ভোগ্যপণ্য সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি সংক্রান্ত পর্যালোচনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, পাইকারি ও খুচরা বাজারে অনেক ক্ষেত্রে অগ্রহণযোগ্য দামের ব্যবধান দেখা যায়। এই ব্যবধানের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, প্রশাসনের সদস্য এবং প্রয়োজন হলে অন্য পেশাজীবীদের নিয়ে একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হবে।

কমিটি বিষয়টি গভীরভাবে পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান করবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখনো আমদানি নির্ভর দেশ। আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম বৃদ্ধি, ডলারের মূল্যবৃদ্ধি বা পরিবহন ব্যয় বেড়ে গেলে এর প্রভাব দেশের বাজারে পড়া স্বাভাবিক। তবে অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা বা নিয়ন্ত্রণজনিত কোনো কারণে যেন পণ্যের দাম অযৌক্তিকভাবে বৃদ্ধি না পায় সে বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে।

বিদেশি ফল আমদানির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, কিছু ফল রয়েছে যা সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে থাকা প্রয়োজন, যেমন আপেল, আঙুর ও কমলা। এসব ফলের দাম মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে সরকার প্রয়োজনে নীতিগত পদক্ষেপ বিবেচনা করবে।

তবে অত্যধিক দামি বিলাসী ফলের ক্ষেত্রে শুল্ক কমানোর প্রয়োজনীয়তা নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।

মন্ত্রী বলেন, মুক্তবাজার অর্থনীতিতে ব্যবসা-বাণিজ্যের মূল চালিকাশক্তি ব্যবসায়ীরাই।

সরকারের কাজ হলো ব্যবসা ও বিনিয়োগের জন্য অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং বাজার যেন বাধাহীন ও স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হতে পারে তা নিশ্চিত করা। 
একই সঙ্গে বাজার তদারকির সময় ব্যবসায়ীদের যেন অযথা হয়রানির শিকার হতে না হয় সে বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন তিনি।

রমজান মাস উপলক্ষে ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই মাস ত্যাগ ও সংযমের মাস। তাই ব্যবসায়ীরা যদি মানুষের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে ন্যায্যমূল্যে পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করেন, তবে তা সমাজে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।

তিনি জানান, চলতি রমজান মাসে ভোজ্যতেলের বাজার তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে, যা গত কয়েক দশকের তুলনায় ইতিবাচক উদাহরণ।


এজন্য পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

তবে কোথাও কোথাও ভোজ্যতেলের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও সীমিত বিক্রির অজুহাতে অতিরিক্ত দাম নেওয়ার প্রবণতার বিষয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং এ বিষয়ে ব্যবসায়ীদের মতামত শোনার জন্যই তিনি খাতুনগঞ্জে এসেছেন বলে জানান। 
খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান এবং চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

পরে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির চট্টগ্রাম বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় করেন।




গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে শিল্পকারখানা, ঋণের সুদ মওকুফ চায় চট্টগ্রাম চেম্বার

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে শিল্পকারখানা, ঋণের সুদ মওকুফ চায় চট্টগ্রাম চেম্বার
ছবি সংগৃহীত।

গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্নের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হয়ে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়া শিল্পকারখানার ব্যাংক ঋণের সুদ মওকুফ এবং তিন মাসের কিস্তি স্থগিত রাখার দাবি জানিয়েছে দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। একই সঙ্গে গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে ৯০ দিন দেওয়াসহ এ সময়ে কোনো ধরনের জরিমানা না করার দাবি জানানো হয়েছে।

শনিবার (৮ আগস্ট) অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের কাছে পাঠানো পৃথক চিঠিতে এসব দাবি জানানো হয়। চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীকে দেওয়া চিঠিতে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহে সীমাহীন বিঘ্নের কারণে রপ্তানিমুখী পোশাক, বস্ত্র, প্লাস্টিকসহ ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৃহৎ শিল্পকারখানার উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের কারণে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে অথবা অলিখিত ছাঁটাই পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, গ্যাস ও বিদ্যুতের সরবরাহ কমে যাওয়ায় দেশের প্রায় সব কারখানাই উৎপাদন ব্যাহত হয়ে বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় রপ্তানি ও বিক্রয় মারাত্মকভাবে কমেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

ফলে শিল্পমালিকদের পণ্যের উৎপাদন খরচও উঠে আসছে না। কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, ব্যাংক ঋণের সুদ, ইউটিলিটি বিলসহ দৈনন্দিন ব্যয় বহন করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। আগামী কয়েক মাসও শিল্পোদ্যোক্তাদের এই ক্ষতির ধকল বহন করতে হবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

চট্টগ্রাম চেম্বার বলেছে, শিল্পোদ্যোক্তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা কারণে উৎপাদন ব্যাহত হয়ে বিক্রয় ও রপ্তানি আয় কমে যাওয়ার পরও তাদের ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদের বোঝা বহন করতে হলে তা শিল্প খাতের জন্য বড় ধরনের চাপ হয়ে দাঁড়াবে। একই সঙ্গে এটি দেশে শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করা এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার সরকারি উদ্যোগের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।

এ অবস্থায় গার্মেন্টস ও সব রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য শিল্পকারখানার আর্থিক ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নিতে ব্যাংক ঋণের সুদ মওকুফ এবং তিন মাসের কিস্তি পরিশোধ স্থগিত রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রীকে দেওয়া চিঠিতে গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে ৯০ দিনের বিলম্ব মার্জনা দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে শিল্পকারখানার উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এতে শিল্পমালিকরা বিপুল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। এ ক্ষতির প্রভাব আগামী কয়েক মাসও তাদের বহন করতে হবে।

শিল্পমালিকদের আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার সুযোগ দিতে যে প্রস্তাবগুলো করা হয়েছে– বর্তমানে কোনো কারখানার গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করা; অন্তত আগামী ছয় মাস কোনো ধরনের জরিমানা ছাড়া বিল পরিশোধের সুযোগ দেওয়া; মাসে মাসে গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের প্রচলিত নিয়ম সাময়িকভাবে শিথিল করে জরিমানা ছাড়া বিল পরিশোধের জন্য ৯০ দিনের একটি বিলম্ব মার্জনা বা মোরাটোরিয়াম দেওয়া।

চিঠিতে বলা হয়, এ ধরনের সুযোগ দেওয়া হলে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহজনিত আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার পাশাপাশি শিল্পের নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন কার্যক্রম চালু রাখা সম্ভব হবে।

এ জন্য গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করা, জরিমানা ছাড়া বিল পরিশোধের ৯০ দিনের সুযোগ দেওয়া এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার জন্য বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে চট্টগ্রাম চেম্বার।
 




সীতাকুণ্ডে১৭০ সংগঠনকে ৩০ হাজার চারা বিতরণ করল সমাজকল্যাণ ফেডারেশন

সীতাকুণ্ডে১৭০ সংগঠনকে ৩০ হাজার চারা বিতরণ করল সমাজকল্যাণ ফেডারেশন
ছবি সংগৃহীত।

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ১৭০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক, স্বেচ্ছাসেবী, সমবায়, যুব উন্নয়ন ও নারী কল্যাণ সংগঠনের মাঝে ৩০ হাজার বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে চলতি বছরে উপজেলায় ৫০ হাজার চারা বিতরণ ও রোপণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করেছে সীতাকুণ্ড উপজেলা সমাজকল্যাণ ফেডারেশন।

শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে সীতাকুণ্ড উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

সীতাকুণ্ড উপজেলা সমাজকল্যাণ ফেডারেশন ও মহসিন ফাতেমা সিদ্দিকী সমাজকল্যাণ সংস্থার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের হাতে এসব চারা তুলে দেওয়া হয়।

এর আগে গত ২৫ জুলাই সীতাকুণ্ড উপজেলা সমাজকল্যাণ ফেডারেশনের উদ্যোগে ১৩০টি সামাজিক সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের মাঝে ২০ হাজার চারা বিতরণ করা হয়েছিল। দ্বিতীয় ধাপে শনিবার আরও ৩০ হাজার চারা বিতরণের মধ্য দিয়ে চলতি বছরের মোট ৫০ হাজার চারা বিতরণ ও রোপণের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। একটি গাছ শুধু অক্সিজেনই দেয় না, মাটির ক্ষয়রোধ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তিনি বলেন, জাতীয় পর্যায়ের বৃহৎ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সফল করতে সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে। সীতাকুণ্ড উপজেলা সমাজকল্যাণ ফেডারেশনের ৫০ হাজার চারা বিতরণ ও রোপণের উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তবে শুধু চারা বিতরণ করলেই হবে না, প্রতিটি চারার যথাযথ পরিচর্যা ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে।

সীতাকুণ্ড উপজেলা সমাজকল্যাণ ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক লায়ন অ্যাডভোকেট মো. সরোয়ার হোসাইন লাভলু বলেন, পরিবেশ রক্ষা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়তে বৃক্ষরোপণকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে। এ লক্ষ্যেই চলতি বছর সীতাকুণ্ডে ৫০ হাজার চারা বিতরণ ও রোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ২০ হাজার এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে ৩০ হাজার চারা বিতরণ করা হয়েছে।

সভাপতির বক্তব্যে মহসিন ফাতেমা সিদ্দিকী সমাজকল্যাণ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক নাসরিন বলেন, পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়, সমাজের প্রতিটি মানুষের। বেশি বেশি গাছ লাগানোর পাশাপাশি বিদ্যমান গাছ সংরক্ষণ করাও জরুরি। চারা গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনগুলোকে প্রতিটি গাছের যথাযথ পরিচর্যা ও সংরক্ষণের আহ্বান জানান তিনি।

সীতাকুণ্ড উপজেলা সমাজকল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি লায়ন মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, সীতাকুণ্ডের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন। সামাজিক সংগঠনগুলোকে সম্পৃক্ত করে এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখা হবে।

ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক পলাশ চৌধুরী বলেন, একটি গাছ লাগানোর চেয়ে গাছটি বাঁচিয়ে রাখা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই চারা গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়মিত পরিচর্যার দায়িত্ব নিতে হবে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মাস্টার আব্দুল মান্নান, মহসিন ফাতেমা সিদ্দিকী সমাজকল্যাণ সংস্থার সভাপতি কাউছার আহমেদ সরোয়ারী, সাধারণ সম্পাদক তাইছির উদ্দীন, সীতাকুণ্ড উপজেলা সমাজকল্যাণ ফেডারেশনের সহসভাপতি আলহাজ খোরশেদ আলম, মো. মনজুর মোরশেদ চৌধুরী, আলহাজ এ কে এম মসিউদদৌলা, এমওএইচ কাইউম, জেসমিন আকতার, সাংবাদিক কামরুল ইসলাম দুলু, মো. সোহেল, লায়ন ইঞ্জিনিয়ার মো. কামরুদ্দোজা, মো. শাহনেওয়াজ, আলহাজ অধ্যাপক নুরুল গনি চৌধুরী, আবু জাফর মোহাম্মদ ছাদেক, মো. ওমর ফারুক, মো. আবু তাহের, নুর খান ও বখতেয়ার উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে ১৭০টি সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক সংগঠনের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ তিন শতাধিক সমাজকর্মী অংশ নেন।

চারা গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে ফলজ, বনজ ও ঔষধি বিভিন্ন প্রজাতির চারা সীতাকুণ্ড উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় রোপণ করা হবে। বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণকে আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ না রেখে দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে।




নওফেলের বাসভবনে বোমাসদৃশ বস্তু নিক্ষেপ করে আগুন দেওয়ার চেষ্টা

নওফেলের বাসভবনে বোমাসদৃশ বস্তু নিক্ষেপ করে আগুন দেওয়ার চেষ্টা
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের বাসভবনে এবার পেট্রোল বোমাসদৃশ বস্তু নিক্ষেপ করে আগুন দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত এগিয়ে আসায় হামলাকারীরা পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দিনগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে নগরের পাঁচলাইশ থানাধীন চশমা হিল এলাকার মেয়র গলির ওই বাসভবন ঘিরে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, রাতে ৬ থেকে ৭ জনের একটি দল বাসভবন লক্ষ্য করে একটি পেট্রোল বোমাসদৃশ বস্তু নিক্ষেপ করে। এতে আগুনের সূত্রপাত হলে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। এসময় হামলাকারীরা দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যায়।

ঘটনার পর নওফেলের ছোট ভাই বোরহানুল হাসান চৌধুরী সালেহিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় এ ঘটনার নিন্দা জানান। তিনি বলেন, এটি শুধু একটি বাড়িতে হামলা নয়, একটি পরিবারের নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপরও আঘাত। তিনি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহেদুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ৬ থেকে ৭ জনের একটি দল বাসার ভেতরে পেট্রোল বোমাসদৃশ বস্তু নিক্ষেপ করে। আগুন দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে তারা পালিয়ে যায়। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তথ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর গত দুই বছরে চশমা হিলের এই বাসভবনে এ নিয়ে চতুর্থ দফায় হামলার ঘটনা ঘটলো।

২০২৪ সালের ৩ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের একটি মিছিল থেকে প্রথম হামলার অভিযোগ ওঠে। এ দুদিন পর ৫ আগস্ট দ্বিতীয় দফায় হামলা ও লুটপাট এবং গত বছরের ডিসেম্বরে তৃতীয় দফায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল চট্টগ্রামের বর্ষীয়ান আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক সিটি মেয়র প্রয়াত এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর সন্তান।