বান্দরবানে জাল স্বাক্ষর ও নথি ব্যবহার করে টাকা উত্তোলনে অভিযোগের উটিংওয়ং মার্মাকে সাময়িক বরখাস্ত
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:০৬ অপরাহ্ন

বান্দরবানে জাল স্বাক্ষর ও নথি ব্যবহার করে টাকা উত্তোলনে অভিযোগের উটিংওয়ং মার্মাকে সাময়িক বরখাস্ত

বান্দরবানে জাল স্বাক্ষর ও নথি ব্যবহার করে টাকা উত্তোলনে অভিযোগের উটিংওয়ং মার্মাকে সাময়িক বরখাস্ত
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানে সরকারি চেক জালিয়াতি করে ৮০ লক্ষ টাকা উত্তোলন করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে কটন ইউনিট অফিসার উটিংওয়াং মার্মাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করে ১০ (দশ) কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব প্রদানের নির্দেশ দেয়া হয়।


বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ কর্তৃক পরিশোধকৃত তুলা উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মাসিক বেতনের চেক জালিয়াতি করে অর্থ উত্তোলন করা হয়। এদিকে চেক জালিয়াতি করে অর্থ আত্মসাতের অপরাধ স্বীকার করে একটি জমাবন্দি প্রদান করেন কটন ইউনিট অফিসার উটিংওয়াং মার্মা।


নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মচারী বলেন, তুলা উন্নয়ন বোর্ডের ব্যাংক একাউন্টে টাকা জমা ও উত্তোলনের সময় অবশ্যই মুঠোফোনে এসএমএস'র মাধ্যমে প্রধান তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা বিষয়টি ব্যাপারে জানার কথা। বিভিন্ন তথ্য সুত্র অনুসারে জানা যায় প্রধান তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন মৃধা যোগসাজশে চেক জালিয়াতি করে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। তিনি এ ঘটনার সাথে সম্পূর্ণ জড়িত ও তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা সজীব সরকার ঘটনার সাথে জড়িত থাকতে পারে। ঘটনার পর থেকে  অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মাসিক বেতন বন্ধ রাখা হয়েছে। মাসিক বেতন না পেয়ে অনেকেই মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বেতন না পেয়ে কেউ কেউ ঋণে জর্জরিত হয়ে পড়েছেন।


তুলা উন্নয়ন বোর্ড অফিসের সূত্রে জানা গেছে, উটিংওয়াং মারমা জোনাল কার্যালয়ে কটন ইউনিট অফিসার হলেও সম্প্রসারণ শাখায় কর্মরত। জনবল সংকটের কারণে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে হিসাব শাখায় ছিলেন। ২০১৮ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত মাঠে সম্প্রসারণ পাশপাশি হিসাব শাখায় প্রায় ৭ বছর দায়িত্বে ছিলেন। তখন বিভিন্ন বিলের টাকা ও ট্রেজারী খরচের কথা বলে বান্দরবান জেলা পরিষদকে ব্যবহার করে চলতো অনিয়ম আদায় করতো পিসি। প্রধান তুলা কর্মকর্তার কাছে অনিয়মের বিষয়টি ধরা পড়লে সাময়িকভাবে হিসাব শাখা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। পরে চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপ-পরিচালক এএইচ কায়কোবাদ সুপারিশে আবার ২০২৫ সালের অক্টোবর মাস থেকে ২০২৬ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত হিসাব শাখায় দায়িত্ব দেওয়া হয়। হিসাব শাখায় ফের দায়িত্ব পাওয়ার পর তুলা উন্নয়ন বোর্ডের জোনাল কার্যালয়ের বিভিন্ন বিল ও কর্মচারীদের বেতন প্রাপ্ত জেলা পরিষদের ট্রেজারী চেক জালিয়াতি করে সরকারী টাকা অর্থ আত্মসাৎ ও অনিয়ম ধরা পড়ে। জেলা পরিষদের ট্রেজারী চেক জালিয়াতি করে পর পর ৪টি চেকের মাধ্যমে ৮০ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করে। পরে পঞ্চম চেকটি গত ০৩ মার্চ কর্মচারীদের বেতন বিলের বিপরীতে ১ লক্ষ ২৩ হাজার টাকা পরিবর্তে ৫১ লক্ষ ২৩ হাজার টাকা চেক জালিয়াতি করতে গিয়ে জেলা হিসাব রক্ষণ কার্যালয়ের এক কর্মকর্তার কাছে ধরা পড়েন। তারপর বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ উটিংওয়াং মারমা জমাবন্দি প্রেক্ষিতে তার বাড়ি থেকে নগদ ৮০ লক্ষ টাকা উদ্ধার করে। যা জেলা পরিষদ সাময়িক বরখাস্ত আদেশে উল্লেখ রয়েছে।


গোপন সূত্রে আরও জানা যায়, ১০ তম গ্রেডভুক্ত কর্মকর্তার হয়েও বিগত ৭ বছরে হয়েছেন বিপুল সম্পদের মালিক। ৪২ লক্ষ টাকায় কিনেছেন শহরের উজানি পাড়া এলাকায় ২.৫ শতক জমি ও পুরবী বার্মিজ মার্কেটে তার নামে লক্ষ টাকার দোকানের ৯নং প্লট এবং বিশাল কাপড়ের দোকান। বিভিন্ন সময়ে দোকানের প্লটটি তার ভাইসুর কাস্টম যুগ্ন কমিশনারের বলে এসেছেন।  


বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের পক্ষে মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম এবং প্রধান তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন মৃধা স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি আদেশে এই শাস্তিমূলক পদক্ষেপের কথা জানানো হয়। এই ঘটনার পর সরকারি অর্থ আত্মসাতের বিরুদ্ধে  কঠোর অবস্থান নেওয়ায় স্থানীয় দপ্তরে  চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।


অভিযোগের বিষয়ে উটিংওয়াং মার্মার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তার ব্যবহৃত হোয়াটসঅ্যাপে কয়েকটি প্রশ্ন করা হলেও তিনি কোন উত্তর দেননি।


বান্দরবান জেলা তুলা উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা মো: আলমগীর হোসেন মৃধা অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, প্রাথমিক তদন্তে  চেক জালিয়াতি  প্রমাণিত হয়েছে  তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন তদন্ত শেষে বিস্তারিত বলতে পারব।


এদিকে বিভিন্ন সচেতন মহলের মনে প্রশ্ন, চেক জালিয়াতি করে অর্থ আত্মসাতের পর সরকারী চাকুরী বিধিমালা অনুসারে তাহার চাকুরী থাকার কথা নয়,শুধু মাত্র কারণ দর্শানো নোটিশ ও বিভাগীয় মামলা রজু করে কর্তৃপক্ষ দায়সারা করতে চাচ্ছে। এটি সরকারি টাকা আত্মসাৎ ও আচরণ বিধিমালা অনুসারে ফৌজধারী অপরাধের সামিল।




লামায় শিশু আরাফাত হত্যার ১১ মাস পর প্রধান আসামি পুলিশের জালে

লামায় শিশু আরাফাত হত্যার ১১ মাস পর প্রধান আসামি পুলিশের জালে
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় ৯ বছর বয়সী শিশু আরাফাত হোসেনকে বলাৎকারের পর শ্বাসরোধে হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলার প্রধান আসামি মো. আবদুল কুদ্দুসকে (৩৯) দীর্ঘ ১১ মাস পর গ্রেপ্তার করেছে লামা থানা-পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর থানাধীন চর সামসুদ্দিন এলাকার রফিকগঞ্জ বাজার থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত আবদুল কুদ্দুস লামা উপজেলার ২ নম্বর লামা সদর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বৈক্ষম ঝিরি এলাকার আব্দুর রহিমের ছেলে। তিনি পেশায় একজন অটোরিকশাচালক।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৮ জুলাই দুপুরে লামা থানাধীন বৈল্যারচর এলাকায় বাদীর বসতঘরের সামনে মাচার ঢাসের সঙ্গে গলায় নেটের রশি পেঁচানো অবস্থায় শিশু আরাফাত হোসেনের মরদেহ পাওয়া যায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনায় ৯ জুলাই লামা থানায় প্রথমে একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়।

পরবর্তীকালে ময়নাতদন্ত, ডিএনএ প্রোফাইলিং ও চিকিৎসকদের বিশেষজ্ঞ মতামতে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ডিএনএ পরীক্ষায় শিশুটির অ্যানাল সোয়াবে বীর্যের উপাদানের উপস্থিতি শনাক্ত হয়। চিকিৎসকের মতামত অনুযায়ী, বলাৎকারের পর শ্বাসরোধে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

এরপর চলতি বছরের ১১ জুলাই লামা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি নিয়মিত মামলা করা হয়। মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করেন এসআই মো. সালাহ উদ্দিন। লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কাইছার হামিদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে তদন্তে সহযোগিতা করেন এসআই সত্যজিৎ বড়ুয়া ও এএসআই প্রকাশ ঘোষ।

তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, মামলা হওয়ার বিষয়টি জানতে পেরে আবদুল কুদ্দুস তাঁর ব্যবহৃত অটোরিকশা স্থানীয় একটি গ্যারেজে রেখে পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে আত্মগোপনে চলে যান।

পুলিশের দাবি, তথ্যপ্রযুক্তির আধুনিক ব্যবহার এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ৯ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টার দিকে লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর থানাধীন চর সামসুদ্দিন এলাকার রফিকগঞ্জ বাজারে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাসাবাদে আবদুল কুদ্দুস শিশুটিকে বলাৎকার এবং পরে ঘটনা ধামাচাপা দিতে শ্বাসরোধ করে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

গ্রেপ্তারের পর মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। সেখানে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তিনি স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাইছার হামিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, তথ্যপ্রযুক্তির আধুনিক ব্যবহার এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।




নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম বিজিবির অভিযানে ৩৯,৯২৪ পিস ইয়াবাসহ আটক ২

নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম বিজিবির অভিযানে ৩৯,৯২৪ পিস ইয়াবাসহ আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

বিজিবির বিশেষ অভিযানে ২ জন আসামিসহ ৩৯,৯২৪ পিস বার্মিজ ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়েছে। কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি)-এর ঘুমধুম বিওপির টহল দল এক মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ৩৯,৯২৪ পিস বার্মিজ ইয়াবা ট্যাবলেটসহ ২ জন আসামিকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে। কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম, পিবিজিএম, পিএসসি এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

গত ১১ আগস্ট ২০২৬ রাতে কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি)-এর অধীনস্থ ঘুমধুম বিওপির একটি চৌকস আভিযানিক টহল দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সীমান্ত পিলার-৩২ থেকে আনুমানিক ২০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ‘জামালের ঘের’ নামক স্থানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে এফডিএমএন সদস্য কলিমুল্লাহ (২৫), পিতা: কবির আহমেদ, এফডিএমএন ক্যাম্প-০১, ব্লক-বি/১ এবং সিরাজুল মোস্তফা (২৪), পিতা: জাকির আহমেদ, এফডিএমএন ক্যাম্প-০১, ব্লক-বি/২—এদের ৩৯,৯২৪ পিস বার্মিজ ইয়াবাসহ আটক করা হয়।

উল্লেখ্য, আটক আসামিদের বার্মিজ ইয়াবা ট্যাবলেটসহ প্রচলিত আইন অনুযায়ী থানায় মামলা দায়েরপূর্বক পুলিশের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

অধিনায়ক বলেন, “বিজিবি শুধু সীমান্ত পাহারাতেই নয়, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধেও সমানভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

 

 

উল্লেখ্য, কক্সবাজার রিজিয়নের রামু সেক্টরের অধীনস্থ কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত সুরক্ষা এবং মাদকসহ নানা অবৈধ কার্যক্রম দমনে সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আসছে। এসব অভিযানের ফলে সীমান্তবাসীর মধ্যে আস্থা ও স্বস্তি ফিরে এসেছে।

 

 




বিজিবির বিশেষ অভিযানের পাশাপাশি শিক্ষা, জনকল্যাণ ও মানবিক উদ্যোগ

বিজিবির বিশেষ অভিযানের পাশাপাশি শিক্ষা, জনকল্যাণ ও মানবিক উদ্যোগ
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের থানচিতে দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর সমন্বয়ে ৬-১২ আগস্ট পর্যন্ত বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

এরই ধারাবাহিকতায় ক্যচুপাড়া এলাকায় বেইজ ক্যাম্প স্থাপন করে সমন্বিতভাবে আভিযানিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, চলমান বিশেষ অভিযানের কার্যক্রম পরিদর্শন ও দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিতে আজ ক্যচুপাড়া বেইজ ক্যাম্প পরিদর্শন করেন বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ইয়াসির আরাফাত হোসেন, বিপিএমএস, পদাতিক। এ সময় তিনি সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং সর্বোচ্চ পেশাদারত্ব, সতর্কতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সঙ্গে আস্থা, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির সম্পর্ক অটুট রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সীমান্ত রক্ষার পাশাপাশি মানুষের পাশে দাঁড়ানোই বিজিবির অঙ্গীকার। সেই অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে জোন অধিনায়ক ক্যচুপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৫০ জন শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষা-সহায়ক সামগ্রী ও আর্থিক অনুদান বিতরণ করেন। একই সঙ্গে স্থানীয় পাড়াবাসীর মাঝেও শিক্ষা-সহায়ক সামগ্রী ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।

এ সময় শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনা ও বিদ্যালয়ে উপস্থিতির জন্য উৎসাহিত করার পাশাপাশি দুর্গম অঞ্চলের শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে বিজিবির সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। পাড়াবাসীর সঙ্গে মতবিনিময়কালে স্থানীয়দের সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং সীমান্তের নিরাপত্তা থেকে মানুষের কল্যাণ—প্রতিটি প্রয়োজনে বিজিবি পাশে থাকবে বলে আশ্বস্ত করেন।

দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং মানুষের কল্যাণে মানবিক—এই দ্বৈত অঙ্গীকারকে ধারণ করে বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম একসঙ্গে এগিয়ে নিচ্ছে।

নিরাপত্তায় অটুট, মানবিকতায় অগ্রণী—জনগণের আস্থার সঙ্গে এগিয়ে চলছে বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি)।