বান্দরবান বন বিভাগে ডেপুটি রেঞ্জার রাশেদের বিতর্কিত পদায়ন নিয়ে সমালোচনা

উপকূলীয় বন বিভাগ চট্টগ্রাম সদর রেঞ্জ থেকে বান্দরবান বন বিভাগের সদর রেঞ্জের দায়িত্ব নিতে ডেপুটি রেঞ্জার রাশেদ প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে গুঞ্জন ছড়িয়েছে। এ পদায়নকে ঘিরে বন বিভাগে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। অভিযোগ রয়েছে—সিনিয়র সহযোগী রেঞ্জ কর্মকর্তাদের উপেক্ষা করে তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, যা বন বিভাগের প্রচলিত নীতিমালা ও অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক কাঠামোর পরিপন্থী।
জানা যায়, বান্দরবান বন বিভাগ অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকা। বিশেষ করে সাঙ্গু-মাথামুহুরী সংরক্ষিত বনভূমি পাহারা, অবৈধ বনউপাদান পাচার রোধ, চোরাই বৃক্ষ পরিবহন বন্ধে সদর রেঞ্জের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ অবস্থায় অভিজ্ঞ সিনিয়র কর্মকর্তাদের বাদ দিয়ে তুলনামূলক কম অভিজ্ঞ ডেপুটি রেঞ্জার রাশেদকে এখানে পদায়ন করতে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ—যা নিয়ম বহির্ভূত বলেই সংশ্লিষ্টদের দাবি।
এদিকে রাশেদকে ঘিরে উপকূলীয় বন বিভাগের সদর রেঞ্জেও বিভিন্ন অনিয়ম–অভিযোগ বহুদিন ধরেই আলোচিত ছিল। অভিযোগ রয়েছে—কাট্টলী, হালিশহর ও বন্দর বিটের আওতাভুক্ত সুফল প্রকল্পে নির্ধারিত বাগান না করেও কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। এসব অভিযোগ বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় একাধিকবার প্রকাশ হলেও এখনো পর্যন্ত কোনো তদন্ত এগোয়নি। রাশেদের তথাকথিত ‘খুঁটির জোর’কেই এর কারণ হিসেবে দেখছেন বিভাগের অনেক কর্মকর্তা।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সুফল প্রকল্পে বাগান উন্নয়ন, চারা রোপণ, রক্ষণাবেক্ষণসহ নানা ব্যয়ের বিপরীতে কাগজে-কলমে কাজ দেখানো হলেও বাস্তবে অনেক জায়গায় কোনো বাগানই পাওয়া যায়নি। এসব অনিয়মের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও উঠেছিল। তবে কোনো পদক্ষেপই বাস্তবে দেখা যায়নি—ফলে প্রশ্ন উঠছে, এমন বিতর্কিত কর্মকর্তা কীভাবে আবার সংরক্ষিত পাহাড়ি বনাঞ্চলের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে পদায়ন পেতে যাচ্ছেন?
উল্লেখ্য, বন বিভাগের অভ্যন্তরীণ নীতিমালা অনুযায়ী সংরক্ষিত বনভূমির মতো ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নিয়োগ বা পদায়নে অভিজ্ঞতা, পূর্বের কর্মপরিচিতি এবং পারফরম্যান্স মূল্যায়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা। কিন্তু বর্তমান প্রক্রিয়ায় এসব নীতির কোনো প্রতিফলন নেই বলে অভিযোগ উঠেছে কর্মকর্তাদের মাঝেই।
স্থানীয় পরিবেশবাদীরা বলছেন, বনাঞ্চল রক্ষায় দক্ষ ও যোগ্য কর্মকর্তাদের প্রয়োজন। তারা দাবি করছেন—“অভিযোগের পাহাড় রেখে যিনি এক রেঞ্জ থেকে অন্য রেঞ্জে বদলি হন, তার পদায়ন আগে তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।”
সব মিলিয়ে, রাশেদকে ঘিরে চলমান সমালোচনা ও অভিযোগের প্রেক্ষাপটে তার পদায়ন হলে বন বিভাগের অভ্যন্তরীণ প্রশাসন আরও বিতর্কের মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এই বিষয়ে বান্দরবান বিভাগীয় বনকর্মকর্তা তফিকুল ইসলাম বলেন, এই ধরনের ঘটনা আমার জানা নেই। আমি নতুন যোগদান করেছি মাত্র।











