বিএনপি নেতাকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ: কক্সবাজার আদালত চত্বরে প্রকাশ্যে দুই পক্ষের অস্ত্রবাজি, আটক ৩
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ১২:১৯ অপরাহ্ন

বিএনপি নেতাকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ: কক্সবাজার আদালত চত্বরে প্রকাশ্যে দুই পক্ষের অস্ত্রবাজি, আটক ৩

বিএনপি নেতাকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ: কক্সবাজার আদালত চত্বরে প্রকাশ্যে দুই পক্ষের অস্ত্রবাজি, আটক ৩
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজার আদালত চত্বরে প্রকাশ্যে গুলি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে একজন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে আদালত এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

আজ রোববার (২৪ মে) বেলা ১১টার দিকে পুলিশ সুপার কার্যালয়-লাগোয়া কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ-২ আদালত প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।

সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী মেম্বারের লোকজনের সঙ্গে তাঁর প্রতিপক্ষের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

এই ঘটনায় জিয়াউল হক জিয়া নামের একজনকে আদালতপাড়া থেকে পুলিশে সোপর্দ করেছে লিয়াকতের লোকজন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ৫-৬ জন লোক মিলে তাঁকে লিয়াকত আলীর নিজস্ব ব্যবহারের সাদা রঙের গাড়িতে জোরজবরদস্তি করে তোলার সময় বেশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলির শব্দ শোনা যায়। তবে হঠাৎ কেন আদালতপাড়ায় প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ঘটনার প্রকৃত রহস্য এখনো উদ্ঘাটিত না হলেও আধিপত্য বিস্তারের রেশ ধরে এই ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্থানীয় অনেকের মতে, মাদক ও সীমান্তে চোরাচালান নিয়ে তৃতীয় একটি পক্ষ এই ঘটনা ঘটিয়েছে। সংঘর্ষে মহিউদ্দিন ও রণি নামে দুই স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাসহ আরও তিনজন আহত হয়েছেন। তাৎক্ষণিকভাবে বাকিদের পরিচয় জানা যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে পুলিশ জানিয়েছে, কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী মেম্বার সহযোগীদের নিয়ে একটি মামলায় হাজিরা দিতে আদালতে আসেন। হাজিরা শেষে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে বের হওয়ার সময় প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় এক যুবককে মারধর করতে করতে একটি সাদা গাড়িতে তুলে নিতে দেখেছেন আদালতে আসা প্রত্যক্ষদর্শীরা। এদিকে আদালত এলাকায় কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দে বিচারপ্রার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

বিএনপি নেতা লিয়াকত আলী মেম্বারের ছোট ভাই যায়েদ আলী জানান, তাঁর ভাই লিয়াকত একটি মামলায় আদালতে হাজিরা দিতে আসেন। হাজিরা শেষে ফেরার পথে আদালত কম্পাউন্ডে দুর্বৃত্তরা হত্যার উদ্দেশ্যে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। অল্পের জন্য তিনি বেঁচে গেলেও তাঁদের সঙ্গে আসা দুজন গুলিবিদ্ধ হন। হামলাকারী একজনকে অস্ত্রসহ আটক করা হলেও অন্য তিনজন পালিয়ে যায়। তাঁর ভাইকে দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী খালেক ও মিজবাহ বাহিনী হত্যা করতে চাচ্ছে।

তবে অনেকের দাবি, বিএনপি নেতা লিয়াকত আলীর প্রতিপক্ষের মামলার সাক্ষীকে আদালত এলাকা থেকে অপহরণের চেষ্টা করা হলে এই ঘটনার সূত্রপাত হয়।

ঘটনার পরপরই পুলিশ ও র‍্যাব আদালত চত্বর ঘিরে ফেলে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে এখন পর্যন্ত তিনজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি দেশীয় তৈরি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। হামলার পেছনের কারণ ও জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।

আদালতের মতো নিরাপদ জায়গায় প্রকাশ্যে অস্ত্রবাজিকে ন্যক্কারজনক ও নিন্দনীয় বলে মন্তব্য করেছেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান। তিনি বলেন, যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের দ্রুত সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।




দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা

দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা
ছবি সংগৃহীত।

২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে ১৪০০ নম্বরের মধ্যে ১২৯০ পেয়ে জেলায় শীর্ষ স্থান অর্জন করেছেন কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

কৃতী শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা কক্সবাজার শহরের আলীর জাহাল পশ্চিম বড়ুয়া পাড়ার মো. শাহ আলম ও সাজেদা আক্তার সাজুর মেয়ে।

মুনতাহার প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফলের ধারাবাহিকতা:

তাসনিয়া জাহান মুনতাহা এই মাদ্রাসার একজন অনন্য মেধাবী শিক্ষার্থী। সে প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি বার্ষিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে প্রথম বা দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে এসেছে। পুরো শিক্ষাজীবনে সে কখনো তৃতীয় স্থান লাভ করেনি।

সহশিক্ষা কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণ ও সনদের তালিকা:

পড়াশোনার পাশাপাশি জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তাসনিয়া জাহান মুনতাহার অর্জন এবং সনদের সংখ্যা অসামান্য।




ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ

ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ
ছবি সংগৃহীত।

দাখিল পরীক্ষায় চমক দেখাল ইসলামিয়া মহিলা কামিল (অনার্স-মাস্টার্স) মাদ্রাসা, কক্সবাজার।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, মোট ৮৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৫ জন এবং সাধারণ বিভাগে ১ জন।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মোট ১০০০ নম্বরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২৮৪ পেয়ে রেকর্ড গড়ে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে ওয়ার্দা রিহাব। একই বিভাগের তাহমিদা তবচ্ছুম সাওদা গোল্ডেন জিপিএ-৫-সহ কৃতিত্ব দেখিয়েছে। তার প্রাপ্ত নম্বর ১২৩৬।

ফলাফল শিটে দেখা গেছে, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৯ জন ও সাধারণ বিভাগ থেকে ২৮ জনসহ মোট ৩৭ জন পরীক্ষার্থী ‘এ’ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। তা ছাড়া ১৭ জন এ-, ১৫ জন বি, ৭ জন সি এবং ৫ জন এফ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। মোট পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ।

এদিকে জিপিএ-৫-সহ দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা শফিউল হক জিহাদী। তিনি কৃতী ছাত্রীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।




রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক

রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুতে মায়ের হাতে দুই মাসের শিশুপুত্র জবাই হয়ে নির্মমভাবে খুন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদারপাড়ায় এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

নিহত শিশুর নাম রায়ান আহমেদ (বয়স: ২ মাস)। সে মালয়েশিয়াপ্রবাসী আব্দুল মালেকের সন্তান। শিশুর বাবার বাড়ি রাজারকুল সিকদারপাড়ায় হলেও ঘটনাটি ঘটেছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারের (২৩) বাবার বাড়ি চৌকিদারপাড়ায়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রামু থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারকে আটক করে।

এ বিষয়ে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, পরিবারের তথ্যমতে মেয়েটি মানসিক ভারসাম্যহীন এবং পূর্বে তাকে চিকিৎসকও দেখানো হয়েছে।

সকালে শিশুটিকে নিয়ে রান্নাঘরে ঢুকে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। অভিযুক্ত রোমানা আক্তারকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও বলেন, "পরিবার মানসিক সমস্যার কথা বললেও প্রাথমিকভাবে আমরা তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলতে পারি না। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে এবং চিকিৎসাগত পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।"

ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে দেখছে।