বিরোধী দলের আপত্তিতেও র‍্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি গঠনে বিল পাস
বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২৫ অপরাহ্ন

বিরোধী দলের আপত্তিতেও র‍্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি গঠনে বিল পাস

বিরোধী দলের আপত্তিতেও র‍্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি গঠনে বিল পাস
ছবি সংগৃহীত।

বিরোধী দলের নানা আপত্তি ও সমালোচনার মুখেই বহুল আলোচিত ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) বিলুপ্ত করে বাংলাদেশ পুলিশের আওতাধীন ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি) নামে একটি নতুন বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের বিধান রেখে বিলটি পাস করা হয়।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিলটি কণ্ঠভোটে দিলে সেটি পাস হয়।

এর আগে গত ৩ সেপ্টেম্বর বিলটি সংসদে উত্থাপন করা হয় এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য তা সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়। বুধবার কমিটির প্রতিবেদন সংসদে উত্থাপিত হলেও সেখানে বিলটির বিভিন্ন ধারার ওপর বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সাতটি বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট বা আপত্তি জানানো হয়। তবে সংসদীয় কমিটির সুপারিশসহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি পাসের জন্য উত্থাপন করলে বিরোধী দলীয় নেতাসহ অন্যান্য বিরোধী সদস্যরা এর তীব্র বিরোধিতা করেন। বিরোধী দলীয় নেতা তার বক্তব্যে বলেন, র‌্যাব বিলুপ্ত করে কেবল নতুন নামে একই ধাঁচের বাহিনী গঠন জনগণ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রত্যাশা পূরণ করবে না। তাই কোনো অবস্থাতেই এই আইন পাস করা উচিত নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বিরোধী দলের সদস্যরা তাদের আপত্তিতে উল্লেখ করেন যে, র‌্যাব বিলুপ্তির পর পর্যাপ্ত জাতীয় পরামর্শ এবং শক্তিশালী ও স্বাধীন জবাবদিহি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা না হলে এসআরবি শেষ পর্যন্ত র‌্যাবেরই নতুন রূপ ধারণ করতে পারে। এজন্য তারা রাজনৈতিক দল, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিচারক, আইনজীবী, মানবাধিকার কর্মী ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সঙ্গে বিস্তৃত আলোচনার দাবি জানান। বিশেষ করে র‌্যাবের পুরোনো নথি, গুমের আলামত ও রেকর্ডপত্র সরাসরি স্থানান্তরের আগে আলাদা তালিকা তৈরি ও সংরক্ষণের দাবি তোলা হয়, যেন কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ নষ্ট বা পরিবর্তন না হতে পারে।

পাস হওয়া আইনের ৪ ধারা অনুযায়ী, বাংলাদেশ পুলিশের অধীন এসআরবি নামে একটি বিশেষায়িত ইউনিট থাকবে, যার সদর দপ্তর স্থাপন করা হবে ঢাকায়। সরকারের প্রয়োজন অনুযায়ী পুলিশ ও অন্যান্য শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের পদায়ন বা প্রেষণে নিয়োগের মাধ্যমে এটি গঠন করা হবে। এই বাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন মহাপরিচালক, যিনি পুলিশ বাহিনীর অন্তত অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) পদমর্যাদার কর্মকর্তা হবেন। তিনি বাহিনীর প্রশাসনিক, আর্থিক ও অপারেশনাল ক্ষমতা পরিচালনা করবেন।

আইনের ১০ ও ১২ ধারায় এসআরবির মূল দায়িত্ব ও ক্ষমতার পরিধি নির্ধারণ করা হয়েছে। জননিরাপত্তা রক্ষা, সন্ত্রাসবাদ, সংঘবদ্ধ অপরাধ, সাইবার অপরাধ, গুম, ভূঁইফোড় ভূমিদস্যুতা, মানবপাচার, গুম ও মাদক দমনে বাহিনীটি কাজ করবে। অপরাধীদের গ্রেপ্তারি, তল্লাশি ও আলামত জব্দের ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসরণ করতে হবে। তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তি বা জব্দ করা আলামত এসআরবির কাছে নিজস্ব হেফাজতে রাখা যাবে না, বরং আইন অনুযায়ী অনতিবিলম্বে নিকটবর্তী থানা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। বাহিনীর সাব-ইন্সপেক্টর বা তার চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আদালত, সরকার বা পুলিশ প্রধানের নির্দেশনায় এসব অপরাধের আনুষ্ঠানিক তদন্ত পরিচালনা করতে পারবেন।

বিলে বাহিনীর সদস্যদের জন্য কঠোর শৃঙ্খলাভঙ্গ ও শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। দায়িত্বে অবহেলা, মদ্যপ অবস্থা, বেআইনি দখলদারি, হেফাজতে থাকা ব্যক্তির প্রতি নির্যাতন বা বল প্রয়োগ, প্ররোচনা দেওয়া এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার আদেশ অমান্য করাকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে ধরা হয়েছে। প্রমাণ সাপেক্ষে বরখাস্ত, পদাবনতি, বাধ্যতামূলক অবসর বা বেতন-ভাতা বাজয়াপ্তের পাশাপাশি তিরস্কার ও জরিমানা মতো শাস্তির সুযোগ রাখা হয়েছে। সদস্যদের বিরুদ্ধে ওঠা ব্যক্তিগত অভিযোগ বা অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ নিরসনে একটি বিশেষ ‘অভিযোগ প্রতিকার কমিটি’ গঠিত হবে।

আইনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিলে স্পষ্ট বলা হয়েছে, পরিবর্তিত সামাজিক ও ভৌগোলিক পরিস্থিতিতে অপরাধের বৈচিত্র্যময় রূপ এবং নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দ্রুত কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে এমন আধুনিক ও দক্ষ বাহিনীর প্রয়োজন ছিল। র‌্যাব বিলুপ্তির মাধ্যমে সেই শূন্যতা পূরণ করে স্বচ্ছতা, পেশাদারিত্ব ও জবাবদিহিমূলক আধুনিক বিশেষায়িত বাহিনী হিসেবে এসআরবিকে তৈরি করা হয়েছে। আইনটি দ্রুত কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে র‌্যাব সংক্রান্ত আগের সব বিধান বাতিল বলে গণ্য হবে এবং বিলুপ্ত র‌্যাবের সমস্ত সম্পদ, ব্যাংক হিসাব, তহবিল ও নথি এসআরবিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ন্যস্ত হবে।




এমপি পদ থেকে মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

এমপি পদ থেকে মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
ছবি সংগৃহীত।

এমপি পদ থেকে ফেরদৌসি আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন ঢাকা পোস্টকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে মিরপুর-১ নম্বরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। পরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির স্থাপনাও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় মিষ্টির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠে। তবে তিনি হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেন।

রাড্ডা সেন্টারে হামলার ঘটনায় বুধবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, তদন্তে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

এ ঘটনার মধ্যেই বিএনপির সাংগঠনিক পর্যায়ে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বুধবার ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। পাশাপাশি ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের কমিটিও বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।




যৌথ অভিযানের আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

যৌথ অভিযানের আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি সংগৃহীত।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশে যৌথ অভিযানের আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। পুলিশ, বিজিবি, এসআরবি (সাবেক র‌্যাব) ও আনসার বাহিনীর সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনা একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া; যা সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি এবং মাদক নিরসনে প্রতিনিয়ত পরিচালিত হচ্ছে এবং তা ভবিষ্যতেও আরও জোরদার করা হবে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে রাজধানী ঢাকার তেজগাঁও এলাকায় আনসার ও ভিডিপির নতুন সদর দপ্তর নির্মাণের ‘শুভারম্ভ ফলক’ উন্মোচন শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির একটি সুপরিকল্পিত ও উপযুক্ত স্থানে নিজস্ব সদর দপ্তর স্থাপনের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হতে যাচ্ছে। গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ৩.৪২৮ একর (প্রায় ১১ বিঘা) জমি আনসার বাহিনীর সদর দপ্তর নির্মাণের জন্য বরাদ্দ পাওয়া গেছে। বর্তমানে খিলগাঁও থেকে পরিচালিত আনসার সদর দপ্তরের অপরিসর জায়গায় স্থান সংকুলান না হওয়ায় এবং যাতায়াত ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা দূর করতে এখানে একটি আধুনিক ও বৃহৎ অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে।

মন্ত্রী আরো বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ২০ হাজার ব্যাটালিয়ন আনসার এবং ৬০ হাজার অঙ্গীভূত আনসার রয়েছে। এছাড়া ৩৫ হাজার ভিডিপি দলনেতার অধীনে প্রায় ৬০ লাখ প্রশিক্ষিত জনশক্তি রয়েছে। নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে এটি দেশের সর্ববৃহৎ ফোর্স।

তিনি বলেন, কেন্দ্রীয়ভাবে দায়িত্বরত আনসার সদস্যদের আবাসন সংকট নিরসনে এখানে ডরমেটরি এবং ব্যারাকে স্থান সংকুলানের জন্য ঢাকার আশুলিয়া এবং শেরেবাংলা নগরে অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন জাতীয় সংকট ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আনসার বাহিনীর অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং তাদের আর্থিক ও অন্যান্য পর্যায়ক্রমিক দাবি-দাওয়া পূরণে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কারো দায়িত্বে অবহেলা বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে কেবল প্রত্যাহার নয়, বরং যথাযথ বিভাগীয় আইনি ব্যবস্থা এবং ক্রিমিনাল অফেন্স মামলা দায়ের করা হচ্ছে। তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানান, ডিসেম্বর আমাদের বিজয়ের মাস; এই মাসে কোনো অপশক্তি দেশে কোনো ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারবে না।

ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে অটোমেশন ও এআই প্রযুক্তির ব্যবহার চালু হয়েছে, যার মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে এবং রাস্তায় যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরে আসছে। এছাড়া রাস্তা খনন ও নির্মাণ কাজের ফলে যেন যানজট না হয়, সেজন্য পুরো রাস্তা একসাথে না কেটে খণ্ড খণ্ডভাবে কাজ শেষ করে অবিলম্বে পুনর্নির্মাণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।




চীনের বিনিয়োগ বাড়ানো ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সহায়তার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

চীনের বিনিয়োগ বাড়ানো ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সহায়তার আহ্বান রাষ্ট্রপতির
ছবি সংগৃহীত।

বাংলাদেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরিতে আরও সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য চীনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে বিদায়ী চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান।

রোহিঙ্গা সংকটে চীনের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, চীনের উদ্যোগ সংকট সমাধান ও টেকসই প্রত্যাবাসনে সহায়ক হবে। রাষ্ট্রপতি তৈরি পোশাক, বৈদ্যুতিক যান, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, উচ্চপ্রযুক্তির ইলেকট্রনিকস, সেমিকন্ডাক্টর ও সৌরশক্তিসহ বিভিন্ন খাতে আরও সহযোগিতা ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান জানান।

কুনমিং-চট্টগ্রাম করিডোর এবং চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোরসহ বহুপাক্ষিক আঞ্চলিক যোগাযোগের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ চীন ও সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থে কাজ করতে প্রস্তুত। মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ এবং চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে তিনি যোগাযোগ, শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।

তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে চীনের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেন। এছাড়া বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক জোরদারে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের অবদানের প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি চীনকে বাংলাদেশের বিশ্বস্ত বন্ধু ও কৌশলগত অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯৭৭ ও ১৯৮০ সালের চীন সফর এবং ২০২৬ সালের এপ্রিলে তার নিজের এবং বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ ও তরুণ নেতৃত্ব এবং শিক্ষার্থীদের চীনে সফরের কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এসব সফর ও বৈঠক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও গভীর ও সুদৃঢ় করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সম্পর্ক সামনের দিনগুলোতে আরও শক্তিশালী ও সুসংহত হবে।

এক হাজার শয্যার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী জেনারেল হাসপাতাল নির্মাণ ও অর্থায়নের জন্য রাষ্ট্রপতি চীনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এ সময় তিনি সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে জনগণের জন্য উন্মুক্ত, জটিল রক্তের ক্যান্সার চিকিৎসায় চীনা দক্ষতা ও প্রযুক্তি সহযোগিতা কামনা করেন। এ সময় রাষ্ট্রদূত সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

রাষ্ট্রপতি চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ সাফল্য কামনা করে বলেন, বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক উন্নয়নে তার অবদান বাংলাদেশ কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ রাখবে।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব, প্রেস সচিব ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া, চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি চিফ অব মিশন ড. লিই ইউইন।