ভাঙনে বিলীন হচ্ছে সড়ক, দ্রুত সংস্কারের দাবি

বোয়ালখালীতে পশ্চিম জ্যৈষ্ঠপুরা ভারাম্বা খালের ভাঙনে বিলীন হওয়ার পথে সড়ক। এতে হুমকির মুখে রয়েছে মসজিদ ও কবরস্থান। উপজেলার শ্রীপুর-খরনদ্বীপ ইউনিয়নের পশ্চিম জ্যৈষ্ঠপুরা ৫ নং ওয়ার্ডের এলাকার সৈয়দ বেপারী পাড়া সড়ক, চৌধুরী সড়কে এ ভাঙন দেখা দিয়েছে। শীঘ্রই সংস্কার করা না হলে খালের গর্ভে বিলীন হতে পারে সড়ক, মসজিদ ও কবরস্থান। তাই দ্রুতই সড়কটি সংস্কারের দাবি জানানো হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শ্রীপুর ভারাম্বা খাল হইতে পশ্চিমে শ্রীপুর ৫ নং ওয়ার্ডের চৌধুরী বাড়ির সড়ক ও পশ্চিম জ্যৈষ্ঠপুরা সৈয়দ আমির পাড়া সড়ক, শ্রী শ্রী কালেশ্বরী মায়ের মন্দির ও শ্রীপুর বড়ুয়া পাড়া, দক্ষিণ কুলাল পাড়া, পশ্চিম জ্যৈষ্ঠপুরা বড়ুয়া পাড়াসহ রাস্তা-ঘাট, ঘর-বাড়ি খালের ভাঙনে বিলীন হচ্ছে। খালের ভাঙনে ইতোমধ্যে সড়কের মসজিদ সংলগ্ন কিছু অংশ ভেঙে গেছে। ওই স্থানে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন ও পথচারীরা। চলতি মৌসুমে খালের ভাঙন রোধ করতে না পারলে খালের গর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে সড়ক, মসজিদ ও কবরস্থান।
স্থানীয় মসজিদের ইমাম মাওলানা মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন বলেন, সড়কের ভাঙনের কারণে আমাদের মসজিদ ও কবরস্থান খালের গর্ভে বিলীন হচ্ছে। মসজিদে ৫ ওয়াক্ত নামাজে যেতে খুবই কষ্ট হচ্ছে। মসজিদে যাতায়াতের জন্য ব্রিজটি সড়কের ভাঙনের ফলে যাতায়াত অনুপযোগী হয়ে গেছে। জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেলে মসজিদে যাওয়া কষ্টকর হয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ মোনাফ সওদাগর বলেন, সড়কটি নির্মাণের কিছুদিন পরে খালের ভাঙনে ভেঙে যায়। এখানে ১৫০ পরিবারের প্রায় ৮ শত মানুষের চলাচলের একমাত্র সড়ক। শান্তি বাজার হতে ব্রিজ পর্যন্ত ভাঙনের কারণে কিছুদিন পর মসজিদেও যাওয়া যাবে না। কবরস্থানও ভেঙে যাচ্ছে, আমরা কিভাবে লাশ নিয়ে যাব এবং কবর দেব। ভাঙনরোধে জরুরী পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছি।
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ সেলিম বলেন, এই সড়কটি নিম্নমানের কাজ করার কারণে বারবার ভেঙে যাচ্ছে। প্রায় ৪ শত স্কুল, কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের বর্ষাকালে হাঁটু পরিমাণ পানির মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার করার আশ্বাস দিয়েও কোনো কাজ হচ্ছে না।
এ ব্যাপারে শ্রীপুর-খরনদ্বীপ ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান চৌধুরী বলেন, ভারাম্বা খালের ভাঙনে এলাকার শত শত মানুষের খুব ভোগান্তি হচ্ছে। বিশেষ করে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেলে এলাকার রাস্তা-ঘাট, ঘর-বাড়ি হাঁটু পরিমাণ পানিতে ডুবে যায়। কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে বারবার বলার পরও কোনো সুরাহা হচ্ছে না। উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবহিত করলে তিনি ভাঙন পরিদর্শন করেছেন। আশা করি ভাঙনরোধে অতিদ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে রাস্তা-ঘাট, ঘর-বাড়ি রক্ষা করবেন।












