ভারতে খাদ্যপণ্য রপ্তানিতে ‘মহাঝঞ্ঝাট’, পাড়ি দিতে হচ্ছে হাজার কিমি বাড়তি পথ

ভারতের নতুন শুল্ক নীতি ও বন্দর নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ে বাংলাদেশের প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য রপ্তানি খাত এখন চরম সংকটে। ভৌগোলিক নৈকট্য থাকলেও সরাসরি রুটগুলো বন্ধ করে দেওয়ায় মাত্র ১০০-৩০০ কিলোমিটারের পথ পাড়ি দিতে রপ্তানিকারকদের এখন ঘুরতে হচ্ছে দেড় থেকে দুই হাজার কিলোমিটার। এতে পরিবহন খরচ বেড়েছে প্রায় পাঁচ গুণ, যার ফলে বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা এখন অনিশ্চয়তার মুখে।
গত জুন মাস থেকে ভারত তাদের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে সরাসরি পণ্য প্রবেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দরগুলোতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ফলে আগরতলা, তামাবিল বা বুড়িমারীর মতো নিকটবর্তী রুটগুলো ব্যবহার করতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা। এখন বাংলাদেশের যেকোনো প্রান্তের পণ্য প্রথমে কলকাতায় নিতে হচ্ছে, এরপর সেখান থেকে শিলিগুড়ি হয়ে ঘুরে ভারতের সেভেন সিস্টার্স রাজ্যগুলোতে পৌঁছাতে হচ্ছে।
রপ্তানিকারকরা জানান, হবিগঞ্জের কারখানা থেকে মাত্র ১৫৬ কিলোমিটার দূরে ত্রিপুরার আগরতলায় আগে সহজেই পণ্য পাঠানো যেত। এখন সেই একই গন্তব্যে পৌঁছাতে পণ্যবাহী ট্রাককে পশ্চিমবঙ্গ হয়ে প্রায় ১ হাজার ৯০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে। আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের হেড অব মার্কেটিং মাইদুল ইসলাম বলেন, “সুবিধাজনক বন্দরগুলো বন্ধ করে দেওয়ার কারণে খরচ ও লিড টাইম অস্বাভাবিক বেড়েছে। অনেকেই বাধ্য হয়ে রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছেন।”
প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের বিপণন পরিচালক কামরুজ্জামান কামাল জানান, বন্দর সংকটের কারণে তাদের পণ্য পরিবহন খরচ সাড়ে ৮ শতাংশ বেড়েছে, যা বৈশ্বিক বাজারে টিকে থাকার লড়াইকে কঠিন করে তুলেছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, ভারতের মূল ভূখণ্ডের কোম্পানিগুলোর সাথে প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশি পণ্য এগিয়ে থাকায় কৌশলগত কারণেই এই প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছে।
এদিকে, গত ছয় মাসেও এই সংকট নিরসনে কার্যকর কোনো কূটনৈতিক সমাধান আসেনি। বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, “আমরা ভারতের সঙ্গে সচিব পর্যায়ের বৈঠকের অনুরোধ জানিয়েছিলাম, কিন্তু সাড়া মেলেনি। চিঠিপত্র পাঠানো হয়েছে, জবাব পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”












