ভারত বাদ, বাংলাদেশ-চীনসহ কয়েকটি দেশ নিয়ে আলাদা জোট করতে চায় পাকিস্তান
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০১:২৪ অপরাহ্ন

ভারত বাদ, বাংলাদেশ-চীনসহ কয়েকটি দেশ নিয়ে আলাদা জোট করতে চায় পাকিস্তান

ভারত বাদ, বাংলাদেশ-চীনসহ কয়েকটি দেশ নিয়ে আলাদা জোট করতে চায় পাকিস্তান
ছবি সংগৃহীত।

পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ইশহাক দার বলেছেন, বাংলাদেশ-পাকিস্তান ও চীনকে নিয়ে ত্রিদেশীয় ‘জোট গঠনের’ যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে সেটিতে অন্য আরও দেশকে যুক্ত করে জোটের পরিধি বাড়ানো যেতে পারে। এই অঞ্চল ছাড়াও অন্য অঞ্চলের দেশকেও এতে যুক্ত করা হতে পারে বলে জানান তিনি।
গত বুধবার (৩ ডিসেম্বর) ইসলামাবাদ কনক্লেভ ফোরামে ইশহাক দার বলেন, “আমরা নিজেরা লাভবান হয়ে অন্যের ক্ষতি হওয়ার বিপক্ষে। আমরা সবসময় সংঘাতের বদলে সহযোগিতার ওপর জোর দিয়েছি।”

নতুন জোট গঠনের মাধ্যমে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী মূলত সার্কের বিকল্প কোনো কিছু প্রতিষ্ঠার কথা বলেছেন। কারণ ভারত-পাকিস্তানের উত্তেজনার কারণে সার্ক প্রায় অকার্যকর হয়ে আছে।
গত জুনে চীন-পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের কূটনীতিকরা একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক করেন। সেখানে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়ন নিয়ে কথা বলেন তারা। ওই সময় বলা হয় এই আলোচনা ‘তৃতীয় কোনো দেশকে উদ্দেশ্য’ করে নয়।

ইশহাক দার এমন সময় এ কথা বললেন যখন আঞ্চলিক উত্তেজনা চলছে। যারমধ্যে ভারত-পাকিস্তানের কয়েক যুগের শত্রুতাও রয়েছে। এ দুই দেশ গত মে মাসেই চারদিনের যুদ্ধে জড়িয়েছিল।

অপরদিকে গত বছরের গণআন্দোলনের পর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যেও সম্পর্ক খারাপ হয়ে গেছে। বিশেষ করে স্বৈরাচার শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ায় সম্পর্ক আরও তলানিতে গেছে। গত মাসে মানবতাবিরোধী অপরাধে হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত হাাসিনাকে ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে নয়াদিল্লি।

পাকিস্তানের উদ্যোগ বা প্রস্তাব কাজ করবে?

পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ইসলামাবাদ কনক্লেভ ফোরামে বলেছেন, “আমাদের নিজস্ব জাতীয় উন্নয়ন প্রয়োজনীয়তা এবং আঞ্চলিক অগ্রাধিকার কারও অনমনীয়তার কাছে কখনো জিম্মি হওয়া উচিত না। আপনারা জানেন আমি কাদের (ভারত) কথা বলছি।”

ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সংলাপ গত ১১ বছর ধরে ঝুলে আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “দক্ষিণ এশিয়ায় আমাদের আমাদের প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে আরও কয়েকটি দেশের সম্পর্কও দোদুল্যমান।”

তিনি বলেন, পাকিস্তান এমন এক দক্ষিণ এশিয়ার স্বপ্ন দেখে যেখানে বিভাজনের জায়গায় সম্পর্ক ও সহযোগিতা স্থলাভিষিক্ত হবে, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটবে, দ্বন্দ্বগুলো শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধান করা হবে এবং সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে শান্তি বজায় থাকবে।

তবে— লাহোর বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক রাবেয়া আক্তার বলেছেন, পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রীর এই আশাবাদ এ মুহূর্তে বাস্তবের চেয়ে বেশি উচ্চাকাঙ্খী। তবে এরমাধ্যমে পাকিস্তান ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেহেতু সার্ক এখন অকার্যকর, তাই তারা আঞ্চলিক সহযোগিতার মেকানিজমকে বহুমুখী করতে চায়।

সার্ক কি?

ঢাকায় এক সম্মেলনের মাধ্যমে ১৯৮৫ সালে সার্ক গঠিত হয়। এটির প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য হয় বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, নেপাল, পাকিস্তান এবং শ্রীলঙ্কা। অষ্টম দেশ হিসেবে ২০০৭ সালে এ জোটে যোগ দেয় আফগানিস্তান।

সার্কের লক্ষ্য ছিল দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক বাড়ানো এবং অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিকসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়ন ঘটানো। কিন্তু গত ৪০ বছরেও সার্ক তার লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি। এর অন্যতম কারণ হলো ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে শত্রুতাপূর্ণ সম্পর্ক।

২০১৬ সালে সার্কের ১৯তম সম্মেলন পাকিস্তানের ইসলামাবাদে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরে ভয়াবহ এক হামলার পর ভারত সম্মেলন না যাওয়ার ঘোষণা দেয়। তারা অভিযোগ করে, এ হামলায় পাকিস্তান জড়িত। এরপর থেকে সার্কের সম্মেলন আর হয়নি।

সার্ক কেন গুরুত্বপূর্ণ?

সার্কভুক্ত দেশগুলোতে আছে ২০০ কোটিরও বেশি মানুষ। দক্ষিণ এশিয়া বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল অঞ্চল। কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য খুবই কম। পুরো অঞ্চলে যে পরিমাণ বাণিজ্য হয় তার মাত্র পাঁচ শতাংশ (২৩ বিলিয়ন ডলারের কাছকাছি) হয় সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে।

অপরদিকে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার ১১ দেশের আসিয়ান জোটের দেশগুলো যে পরিমাণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য করে তার ২৫ শতাংশই নিজেদের মধ্যে। অথচ এসব দেশে মাত্র ৭০ কোটি মানুষের বাস।

বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, নিজেদের মধ্যে থাকা বাধা দূর করতে পারলে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো নিজেদের মধ্যে ৬৭ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য করতে পারবে।

সার্কের মধ্যে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বাণিজ্য সবচেয়ে কম। ২০২৪ সালে তারা মাত্র ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের সরাসরি বাণিজ্য করেছে। তবে অন্য দেশের মাধ্যমে তাদের বাণিজ্য হয়েছে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলারের মতো।

বাণিজ্য কম হওয়ার কারণ হিসেবে আঞ্চলিক সংযোগ শক্তিশালী না হওয়াকে বলা হয়।

২০১৪ সালে সার্কভুক্ত দেশগুলো নিজেদের মধ্যে বড় একটি চুক্তি করতে যাচ্ছিল। এতে করে ইউরোপের মতো দক্ষিণ এশিয়ার এক দেশের গাড়ি আরেক দেশে চলতে পারত। কিন্তু পাকিস্তান এটি আটকে দেয়। এছাড়া রেল সংযোগেও বাধা দেয় তারা। এরপর থেকে করোনার সময় ছাড়া সার্ক আর বড় কোনো উদ্যোগ নেয়নি।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ফারওয়া আমের সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে বলেছেন, যদি ভারত-পাকিস্তান সীমিত ক্ষেত্রে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়তে পারত তাহলে সার্ক পুনর্জীবিত হতো। কিন্তু বর্তমান ভূরাজনৈতিক অবস্থায় এটি অনেকটাই অসম্ভব।

সার্ককে পাশ কাটিয়ে নতুন জোট গড়ার চেষ্টায় অবশ্য পাকিস্তানই প্রথম নয়। সার্ক ব্যর্থ হওয়ার পর বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত ও নেপাল মিলে বিবিআইএন নামে একটি জোট করেছিল। এছাড়া বাংলাদেশ, ভুটান, মিয়ানমার, নেপাল, শ্রীলঙ্কা এবং থাইল্যান্ডকে নিয়ে বিমসটেক নামে আরেকটি জোট তৈরি করা হয়।

পাকিস্তানের প্রস্তাব কাজ করার সম্ভাবনা কতটুকু?

বাংলাদেশ সেন্টার ফর ইন্দো-প্যাসিফিক অ্যাফেয়ার্সের শাবাব ইনাম খান আলজাজিরাকে বলেছেন, “পাকিস্তানের এ প্রস্তাব যদিও উচ্চাকাঙ্খী, কিন্তু এটি খুবই প্রয়োজনীয়।” তিনি বলেন, “নিরাপত্তা-সর্বস্ব চিন্তাভাবনা অথবা সম্ভবত রাজনৈতিক দূরদৃষ্টির অভাবের ফাঁদে পড়ে দক্ষিণ এশিয়া বারবার বাস্তবসম্মত আঞ্চলিক সহযোগিতা, এমনকি ছোট আকারের সহযোগিতা গঠনেও সফল হতে ব্যর্থ হয়েছে।”

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক প্রবীণ দোন্থি বলেছেন, “তাত্ত্বিকভাবে নতুন আঞ্চলিক জোট গঠনের সুযোগ রয়েছে। ভারত-পাকিস্তানের খারাপ সম্পর্কে কারণে সার্কের নিরব মৃত্যুর কারণে দক্ষিণ এশিয়ায় আরেকটি জোট গঠনের স্থান সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক খারাপ হয়ে যাওয়া এবং পাকিস্তানের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক হওয়ার কারণে চীনের সঙ্গে ত্রিদেশীয় সহযোগিতার পথ তৈরি হয়েছে।”

পাকিস্তানের এ প্রস্তাব সফল হবে কি না এ প্রশ্নে লাহোর বিশ্ববিদ্যালয়ের রাবিয়া আক্তার বলেছেন, “প্রথমত দেখতে হবে যখন আঞ্চলিক জোট স্থবির হয়ে আছে, তখন সম্ভাব্য রাষ্ট্রগুলি ছোট, নির্দিষ্ট বিষয়ভিত্তিক দলগুলির মধ্যে ব্যবহারিক গুরুত্ব দেখতে পাচ্ছে কি না। দ্বিতীয়ত, এই ধরনের উদ্যোগে অংশগ্রহণ ভারতের সাথে কোনো রাজনৈতিক সমস্যা বা মূল্য সৃষ্টি করে কি না, সেটিও দেখতে হবে।”

তিনি বলেছেন, দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলো পাকিস্তানের এ উদ্যোগে আগ্রহ দেখালেও তারা আনুষ্ঠানিকভাবে এতে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা সীমিত।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের দোন্থি বলেছেন, পাকিস্তানের এ প্রস্তাব সফল হলে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার সম্পর্ক আরও খারাপ হবে। একইসঙ্গে ভারত-চীনের প্রতিযোগিতাও বাড়বে।

সূত্র: আলজাজিরা




মার্কিন ভিসা নিয়ে দুঃসংবাদ, হাজার হাজার ভিসা বাতিল

মার্কিন ভিসা নিয়ে দুঃসংবাদ, হাজার হাজার ভিসা বাতিল
ছবি সংগৃহীত।

হাজার হাজার ভিসা বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ব্যাপকভাবে অভিবাসন দমন অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এর আওতায় হাজার হাজার মানুষের ভ্রমণ ও অভিবাসন সুবিধা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় এক লাখ ৭৫ হাজার ভিসা বাতিলের কথা জানিয়েছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ভিসা লঙ্ঘন, জালিয়াতি, সহিংসতার আহ্বান এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অন্যান্য হুমকির পাশাপাশি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংক্রান্ত আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সংঘর্ষের কারণেই বেশিরভাগ ভিসা বাতিল করা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যাপকহারে ভিসা বাতিল গত বছর ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর শুরু হওয়া অভিবাসন দমন অভিযানেরই প্রতিফলন। এর মাধ্যমে বৈধ ভিসাধারীসহ নজিরবিহীন সংখ্যক মানুষকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

মন্ত্রণালয় বলছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ধারাবাহিক যাচাই-বাছাই কার্যক্রমের ফলস্বরূপ এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো, ভিসাধারীরা যাতে তাঁদের ভিসার শর্তাবলি মেনে চলেন এবং আমেরিকানদের বিপদে ফেলেন না, সেটি নিশ্চিত করা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলা, মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালানো, চুরি এবং মাদকসংক্রান্ত অপরাধ ভিসা বাতিলের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল।

এতে আরও বলা হয়েছে, উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত একটি মার্কিন দূতাবাস ‘বার্থ ট্যুরিজমের’ জন্য ১০০ জনেরও বেশি দম্পতির ভিসা বাতিল করেছে। তারা মূলত সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন, যাতে তাঁদের সন্তানরা মার্কিন নাগরিকত্ব পায়।

মন্ত্রণালয় বলেছে, মার্কিন নিরাপত্তা বা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি এমন বিদেশি নাগরিকদের শনাক্ত ও তদন্ত অব্যাহত রাখবে ট্রাম্প প্রশাসন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, মার্কিন ভিসা একটি বিশেষ সুবিধা, কোনো অধিকার নয়। যারা এই সুবিধার অপব্যবহার করবে, তাদের ভিসা বাতিল করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এর আগে গত জানুয়ারিতে মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, তারা এক লাখেরও বেশি ভিসা বাতিল করেছে। ওই সময় এটি একটি রেকর্ড ছিল।

সূত্র : আল জাজিরা 




হাসিনার বক্তব্যকে আমরা সমর্থন করি না : ভারত

হাসিনার বক্তব্যকে আমরা সমর্থন করি না : ভারত
ছবি সংগৃহীত।

বাংলাদেশের আপত্তি সত্ত্বেও গত ৫ আগস্ট মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত শেখ হাসিনাকে একটি প্রেস ব্রিফিংয়ে কথা বলতে দেয় ভারত সরকার। এ নিয়ে ঢাকা ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া জানায়।

হাসিনার প্রেস ব্রিফিংয়ের দুইদিন পর বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছে ভারত। আজ শুক্রবার (৮ আগস্ট) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালকে এ নিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন এ সাংবাদিক। জবাবে তিনি প্রথমে দাবি করেন, হাসিনাকে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে ভারত সরকারের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। আর হাসিনা ওইদিন বাংলাদেশ সরকারকে নিয়ে যা যা বলেছেন সেটিতেও নয়াদিল্লির সমর্থন নেই।

রণধীর বলেন, “একটি বেসরকারি মিডিয়া প্রতিষ্ঠানের আয়োজিত ওই প্রেস ব্রিফিংয়ে ভারত সরকারের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। এতে সরকারের কোনো অবদান নেই। আমি বিষয়টি আবারও পুনর্ব্যক্ত করছি।”

প্রেস ব্রিফিংয়ে বক্তব্য রাখা হাসিনা ও অন্যান্যদের কথার প্রতি ভারতের কোনো সমর্থন নেই উল্লেখ করে এ কূটনীতিক বলেছেন, “ওই প্রেস ব্রিফিংয়ে বলা কোনো কথাকেই (ভারত) সরকার সমর্থন করে না, বিশেষ করে বাংলাদেশের বৈধভাবে গঠিত সরকারের ব্যাপারে দেওয়া কোনো মন্তব্য তো নয়ই।”

হাসিনাপুত্র সজিব ওয়াজেদ ওইদিন মন্তব্য করেন ভারতের পূর্ব দিকের অঞ্চল (বাংলাদেশ) এখন  পাকিস্তানে পরিণত হচ্ছে এবং বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদ বিস্তার লাভ করছে। এ ব্যাপারে রণধীরকে অপর এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন। তিনি জিজ্ঞেস করেন জয় যে কথা বলেছে সেটিকে ভারত সমর্থন করে কি না, এ ব্যাপারে তারা কোনো কিছু করছেন কি না।

জবাবে রণধীর বলেন, “আমরা আমাদের একদম পাশের প্রতিবেশীর ওপর গভীর নজর রাখি, বিশেষ করে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যেগুলো সেগুলোর ওপর। আর এ ক্ষেত্রে যেসব পদক্ষেপ নিতে হয় আমরা সেগুলো নেই।”




থাইল্যান্ডে স্কুলে শিক্ষার্থীর বন্দুক হামলা, শিক্ষকসহ নিহত ৭

থাইল্যান্ডে স্কুলে শিক্ষার্থীর বন্দুক হামলা, শিক্ষকসহ নিহত ৭
ছবি সংগৃহীত।

থাইল্যান্ডে একটি স্কুলে এক শিক্ষার্থীর বন্দুক হামলায় ৭ জন নিহত এবং ১৫ জন আহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ওই স্কুলের এক শিক্ষক এবং হামলাকারী নিজেও আছে।

আজ শুক্রবার সকালে থাইল্যান্ডের মধ্যাঞ্চলীয় প্রদেশ ননথাবুরির বাং কুরাই জেলার একটি সুপরিচিত স্কুলে এই ঘটনা। হামলার সময় স্কুলটির দৈনন্দিন কার্যক্রম চলছিল।

ননথাবুরি প্রাদেশিক পুলিশের শীর্ষ নির্বাহী দেচরাপি কংদি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী কমপক্ষে ১৫ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক আহত হয়েছেন। হামলাকারী ওই শিক্ষার্থীর নাম প্রকাশ করেননি তিনি, তবে বলেছেন যে নবম গ্রেডে পড়ত ওই শিক্ষার্থী এবং তার বয়স আনুমানিক ১৪ বছর।

দেচরাপি কংদি আরও জানান, স্কুলভবনের তৃতীয় তলার একটি ফাঁকা কক্ষ থেকে গুলি ছুড়েছিল ওই শিক্ষার্থী। বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ার পর সে নিজে আত্মঘাতী হয়।

গুলি শুরু হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকরা স্কুল থেকে সরে পড়েছিলেন।

পাসাকর্ন চাইতাউইয়ং নামের আরেক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে কয়েক জনের অবস্থা গুরুতর। কী কারণে ওই শিক্ষার্থী এমন হামলা করল, তা এখনও জানা যায়নি। তবে প্রাদেশিক পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

উল্লেখ্য, দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে থাইল্যান্ডে আগ্নেয়য়াস্ত্রের মালিকের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, থাইল্যান্ডে বর্তমানে সাধারণ নাগরিক পর্যায়ে ১ কোটি আগ্নেয়াস্ত্র আছে এবং দেশটিতে বসবাসকারী প্রতি ৭ জনের মধ্যে একজন আগ্নেয়াস্ত্রের মালিক।

সূত্র : এএফপি