ভেনেজুয়েলার স্বর্ণ যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে
বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২৪ অপরাহ্ন

ভেনেজুয়েলার স্বর্ণ যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে

ভেনেজুয়েলার স্বর্ণ যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে
ছবি সংগৃহীত।

ভেনেজুয়েলার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রায় ৪০০ কোটি ডলার মূল্যের স্বর্ণের মজুত ব্যাংক অব ইংল্যান্ড থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে স্থানান্তরের বিষয়ে সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চারজনের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস।

আলোচনায় থাকা চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান দেলসি রদ্রিগেজ স্বর্ণের ওপর আইনগত নিয়ন্ত্রণ পাবেন। তবে সরকার তাৎক্ষণিকভাবে ওই স্বর্ণ বিক্রি করতে পারবে না।

বরং স্বর্ণের মজুত জামানত হিসেবে ব্যবহার করে ঋণ নেওয়ার সুযোগ রাখা হতে পারে। এই অর্থ সরকারের ব্যয় মেটানোর পাশাপাশি গত জুনের ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পের পর পুনর্গঠন কাজে ব্যবহার করা হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় ভেনেজুয়েলা সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে চলমান আলোচনার প্রথম বাস্তব ফলগুলোর একটি হতে পারে এই সমঝোতা। চুক্তিটি চূড়ান্ত হলে স্বর্ণ নিয়ে সাত বছর ধরে চলা বিরোধের অবসান হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি দেশ তৎকালীন জাতীয় পরিষদের প্রধান ও বিরোধী নেতা হুয়ান গুয়াইদোকে ভেনেজুয়েলার বৈধ প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর এই বিরোধ শুরু হয়। এরপর বিরোধী পক্ষ ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের ভল্টে রাখা ভেনেজুয়েলার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বর্ণের ওপর নিয়ন্ত্রণ দাবি করে। এ নিয়ে আইনি বিরোধ একপর্যায়ে যুক্তরাজ্যের সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়।

তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, সমঝোতাটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। কারিগরি বিভিন্ন বিষয় চূড়ান্ত করতে আরও কিছু সময় লাগতে পারে।

আলোচনায় যুক্ত বিরোধী দলের এক নেতা বলেন, ‘স্বর্ণ যুক্তরাষ্ট্রে যাবে, কিন্তু দেলসি সরাসরি এর নিয়ন্ত্রণ পাবেন না। এটি তদারকি ও বিধিনিষেধের আওতায় থাকবে।’

ভেনেজুয়েলা সরকার ও বিরোধী পক্ষ গত মাসে জানিয়েছিল, ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের ভল্টে থাকা প্রায় ৩১ টন স্বর্ণের মজুত ব্যবহারের পথ খুলতে তারা একসঙ্গে কাজ করছে। তবে সমাজতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তোলা বিরোধী পক্ষ স্বর্ণের মজুত যাতে অপব্যবহার না হয়, সে জন্য কঠোর নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়েছে।

এদিকে স্বর্ণ স্থানান্তর নিয়ে আলোচনার মধ্যেই চলতি সপ্তাহে যুক্তরাজ্য ও ভেনেজুয়েলা কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারে সম্মত হয়েছে। যুক্তরাজ্য কারাকাসে আবার রাষ্ট্রদূত নিয়োগ করবে। দেশটির সরকার ভেনেজুয়েলায় নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে চলমান আলোচনাকেও স্বাগত জানিয়েছে।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে ভেনেজুয়েলার জাতীয় পরিষদের বর্তমান প্রধান হোর্হে রদ্রিগেজ লন্ডনে যুক্তরাজ্য সরকারের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি ভেনেজুয়েলার জনগণের জন্য ‘সুসংবাদ’ আসছে বলে মন্তব্য করেন।

ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্যের আদালতের নতুন আদেশ না পাওয়া পর্যন্ত ব্যাংক কোনো নির্দেশনা বাস্তবায়নের অবস্থানে নেই। কার স্বর্ণের হিসাবের ওপর আইনগত কর্তৃত্ব রয়েছে, তা স্পষ্ট করতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে যুক্তরাজ্যের আদালতে গিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তি করতে হবে।

ভেনেজুয়েলায় সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে চলমান আলোচনার লক্ষ্য নতুন নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরি করা। ২০২৪ সালের নির্বাচনে নিকোলাস মাদুরো নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা করেছিলেন। তবে বিরোধী পক্ষের স্বাধীনভাবে যাচাই করা ভোটের হিসাব অনুযায়ী, তিনি বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিলেন বলে দাবি করা হয়।

জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ভেনেজুয়েলার সঙ্গে আন্তর্জাতিক পুনঃসম্পৃক্ততার প্রক্রিয়া জোরদার হয়। এরপর দেশটির অর্থনীতির ওপর কিছু মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়। এপ্রিলে সাত বছর পর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সঙ্গে ভেনেজুয়েলার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়। এর ফলে কারাকাসের সরকার আইএমএফে থাকা তহবিল ব্যবহারের সুযোগ পায়।

জানুয়ারিতে অন্তর্বর্তী নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া দেলসি রদ্রিগেজ অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের বিভিন্ন পথ খুঁজছেন। ভূমিকম্পের আগেই দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার তুলনায় ধীরগতির ছিল।

চুক্তিটি চূড়ান্ত হলে ভেনেজুয়েলার দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা স্বর্ণের মজুত ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে। তবে স্বর্ণের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ থাকলেও তা বিক্রির ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ এবং ব্যবহারের ওপর তদারকি থাকবে বলে আলোচনায় যুক্ত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।

সূত্র: ফিন্যান্সিয়াল টাইমস




হুথিরা অরাজকতা বেছে নিয়েছে, নিজের নিরাপত্তায় ছাড় দেবে না সৌদি: প্রিন্স সালমান

হুথিরা অরাজকতা বেছে নিয়েছে, নিজের নিরাপত্তায় ছাড় দেবে না সৌদি: প্রিন্স সালমান
ছবি সংগৃহীত।

হুথিদের হামলার মুখে সৌদি আরব তার নিজস্ব নিরাপত্তায় কোনো ছাড় দেবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান। তিনি বলেছেন, হুথিরা অরাজকতা ও ধ্বংসকে বেছে নিয়েছে। এরমাধ্যমে ইয়েমেনের সাধারণ মানুষ ও এ অঞ্চলকে তারা ঝুঁকিতে ফেলেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

গতকাল বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সূরা কাউন্সিলে বাদশাহ সালমান বিন আব্দুলআজিজ আল সৌদের পক্ষে কথা বলেন প্রিন্স সালমান।

তিনি বলেন, “সৌদির নিরাপত্তা বিনষ্টকারী কোনো হামলা বা হুমকির জবাব দিতে সৌদি আরব একটুও দ্বিধা করবে না।”

এছাড়া গত আগস্টে পাকিস্তান ও তুরস্কের সঙ্গে হওয়া মক্কা চুক্তি নিয়েও কথা বলেন প্রিন্স সালমান। তিনি বলেন, এই চুক্তির মাধ্যমে সৌদির নেতৃবৃন্দের ইচ্ছার প্রকাশ ঘটেছে। যারা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে শক্তিশালী করতে চান, সৌদিকে উত্তেজনা ও সংঘাতের নেতিবাচক প্রভাব থেকে রক্ষা করতে চান এবং এসব বিষয়ে সমন্বয় করতে চান।

সামরিকভাবে প্রস্তুতি নিলেও সৌদি আরব উত্তেজনা প্রশমনে সব ধরনের চেষ্টা করছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। সালমান বলেন, “উত্তেজনা প্রশমন এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে সমর্থন দিতে সৌদি আরব সব ধরনের চেষ্টা করছে। তবে এক্ষেত্রে নিজেদের নিরাপত্তাকে একটুও ছাড় দেওয়া হচ্ছে না।”

এসবের সঙ্গে লোহিত সাগরে জাহাজে হুথিদের হামলা ও এগুলো প্রতিরোধে বহুজাতিক প্রতিরক্ষা মেরিটাইম জোটের কথাও বলেন প্রিন্স সালমান। তিনি বলেন, লোহিত সাগর ও বাব এল মান্দেবকে কোনোভাবেই রাজনীতির উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।

এদিকে এক মাসের বেশি সময় ধরে সৌদি আরবের সঙ্গে ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুথিদের লড়াই চলছে। এরমধ্যে হুথিরা সৌদির বিভিন্ন জায়গায় হামলা চালিয়েছে। অপরদিকে সৌদির বিমানবাহিনী শত শত বিমান হামলা চালিয়েছে।

সূত্র: আলজাজিরা




প্রায় ১ হাজার ৫০০ জন রোহিঙ্গা শরণার্থীকে মিয়ানমারে পাঠাল মালয়েশিয়া

প্রায় ১ হাজার ৫০০ জন রোহিঙ্গা শরণার্থীকে মিয়ানমারে পাঠাল মালয়েশিয়া
ছবি সংগৃহীত।

১ হাজার ৪৭৬ জন রোহিঙ্গা শরণার্থীকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠিয়েছে মালয়েশিয়া। গত কাল ২৯ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার মালয়েশিয়ায়ার নৌবাহিনীর উত্তরপশ্চিমাঞ্চলীয় ঘাঁটি লুমুত নাভাল বেইস থেকে মিয়ানমারের নৌবাহিনীর ৩ টি জাহাজে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

মিয়ানমারের নৌবাহিনীর জাহাজগুলোর নাম ইউএমএস মাউত্তামা, ইউএমএস কিং সিন ফিউ শিন এবং ইউএনএস থানলউইন।

মালয়েশিয়ার কেন্দ্রীয় সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ-মহাসচিব মাখজান মাহিউদ্দিন এফপিকে জানিয়েছেন, ১ হাজার ৪৭৬ জন রোহিঙ্গার এই দলটিতে ১ হাজার ৩৭০ জন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ, ৭৯ জন নারী, ২০ জন কিশোর, ৭ জন মেয়েশিশু রয়েছে। এই মেয়েশিশুদের বয়স ৬ থেকে ৮ বছরের মধ্যে।

এক প্রতিবেদন এএফপি জানিয়েছে, মালয়েশিয়ায় রোহিঙ্গাদের ১৪টি শরণার্থী শিবির থেকে এই রোহিঙ্গাদের বাছাই করা হয়েছে। গত কাল তাদের মিয়ানমারের নৌবাহিনীর জাহাজে তুলে দেওয়ার আগে প্রয়োজনীয় অনুষ্ঠানিকতা সম্পূর্ণ করতে লুমুত নৌঘাঁটির কাছে একটি স্টেডিয়ামে আনা হয়েছিল। কড়া পুলিশ প্রহরায় কয়েক ডজন বাসে স্টেডিয়ামে নিয়ে আসা হয়েছিল তাদের। কোনো সংবাদিককে এ সময় স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে কয়েকটি পুলিশ স্টেশন এবং সেনা ছাউনিতে একযোগে বোমা বিস্ফোরণ ঘটে। পরে সেই বিস্ফোরণের দায় স্বীকার করে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী আরসা। আরসার দায় স্বীকারের পর রাখাইনের রোহিঙ্গাদের লক্ষ্য করে ভয়াবহ সামরিক অভিযান শুরু করে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী।

সেনাসদস্যদের হত্যা, ধর্ষণ, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের সামনে টিকতে না পেরে বাড়িঘর ছেড়ে দলে দলে রোহিঙ্গারা দেশান্তরি হতে শুরু করে। এই রোহিঙ্গাদের সবচেয়ে বড় দলটি এসেছে বাংলাদেশে— ২০১৭ সাল থেকে পর্যায়ক্রমে ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা এসেছে বাংলাদেশে।

মালয়েশিয়াতেও আশ্রয় নিয়েছিল রোহিঙ্গারা। কুয়ালালামপুরের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির বিভিন্ন আশ্রয় শিবিরে বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী রয়েছেন।

গত জুলাই মাসে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বলেছিলেন, মিয়ানমারের সরকার ৫ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীকে ফেরত নিতে রাজি হয়েছে। মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ-মহাসচিব মাখজান মাহিউদ্দিন জানিয়েছেন, যে ৫ হাজার রোহিঙ্গা ফেরত পাঠানোর কথা হয়েছে মিয়ানমারের সঙ্গে, তার প্রথম দলটিকে পাঠানো হয়েছে ২৯ সেপ্টেম্বর।

“এই রোহিঙ্গাদের সবাই স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরে যেতে চেয়েছিলেন। কোনো প্রকার চাপপ্রয়োগ বা জোর-জবরদস্তি করা হয়নি। মিয়ানমারের সরকারও তাদের নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে”, এএফপিকে বলেছেন মাখজান।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, এই কার্যক্রমে তাদের কোনো ভূমিকা ছিল না। সেই সঙ্গে সতর্কবার্তা দিয়ে সংস্থাটি বলেছে, মিয়ানমারে চলমান সংঘাত ও সহিংসতার কারণে সেখানে শরণার্থীদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের মতো পরিস্থিতি এখনও বিদ্যমান নেই।

ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে ইউএনএইচসিআরের এক কর্মকর্তা বলেছেন, “শরণার্থীদের যেকোনো ধরনের প্রত্যাবর্তন অবশ্যই স্বেচ্ছায় ও সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে হতে হবে এবং তা হতে হবে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে।”

এই রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত আসা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে রাখাইন নিবাসী রোহিঙ্গাদের সংস্থা আরাকান রোহিঙ্গা ন্যাশনাল কাউন্সিলও (এআরএনসি)। সংস্থাটির কো চেয়ারম্যান নায়ে সান লোউইন আলজাজিরাকে বলেছেন, “রাখাইনের বেশিরভাগ এলাকা এখন আর সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে নেই। রাজ্যের অধিকাংশ এলাকায় আরাকান আর্মির সঙ্গে এখনও যুদ্ধ চলছে সেনাবাহিনী। এই অবস্থায় এই রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর মানে হলো সংঘাত পরিস্থিতির দিকে তাদের ঠেলে দেওয়া।”

সূত্র : আলজাজিরা, আনাদোলু এজেন্সি




বাংলাদেশসহ ১৯ দেশের বিশেষ ওষুধে ১০০% শুল্ক ছাড়ের ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

বাংলাদেশসহ ১৯ দেশের বিশেষ ওষুধে ১০০% শুল্ক ছাড়ের ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের
ছবি সংগৃহীত।

বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১৯টি দেশ থেকে আমদানি করা নির্দিষ্ট বিশেষ ওষুধে ১০০ শতাংশ শুল্ক ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ১৯টি দেশ বাদে অন্য দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রে এ ওষুধ বা এগুলোর উপকরণ রপ্তানি করলে মূল্যের অনুপাতে শুল্ক দিতে হবে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এই ১৯ দেশের তালিকা ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশ করেছে। আজ মঙ্গলবার থেকেই এই দেশগুলো বাদে বাকি দেশগুলোর নির্দিষ্ট বিশেষ ওষুধ বা উপকরণের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ কার্যকর হবে।

গত ২ এপ্রিল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি আদেশ জারি করেন। এতে বলা হয় পেটেন্টকৃত ফার্মাসিউটিক্যালস, বায়োলোজিকস এবং এর সংশ্লিষ্ট উপাদানগুলো আমদানি করলে মূল্যের অনুপাতে ১০০ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে। মূলত যুক্তরাষ্ট্রেই এসব ওষুধ উৎপাদনে আগ্রহী করতে তিনি শুল্ক আরোপ করেন।

শুল্কমুক্তযোগ্য ওষুধ পণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে বিরল রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত সব ওষুধ, বন্ধ্যত্বের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ, সেল থেরাপি, জিন থেরাপি, অ্যান্টিবডি ড্রাগ কনজুগেটস এবং প্রাণীদের ওষুধ। এরসঙ্গে এসব ওষুধের উপকরণেও ১৯টি দেশের পণ্য শুল্ক সুবিধা পাবে।

বাংলাদেশসহ এই সুবিধা পাওয়া অন্য দেশগুলো হলো ভারত, আর্জেন্টিনা, কম্বোডিয়া, ইকুয়েডর, এল সালভেদর, ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশ, গুয়েতেমালা, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, জর্ডান, মালয়েশিয়া, উত্তর মেসেডোনিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, সুইজারল্যান্ড, লিশটেনস্টাইন, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, যুক্তরাজ্য এবং ভিয়েতনাম।

মার্কিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, এসব দেশগুলো এই শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে কারণ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের বাণিজ্য ও নিরাপত্তা চুক্তি আছে বা ভবিষ্যতে হবে।

সূত্র: বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড