মনোনয়ন বঞ্চনায় ক্ষোভে মানববন্ধন, সন্ধ্যায় মশাল মিছিল

ফটিকছড়িতে বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চনাকে ঘিরে উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কর্ণেল(অবঃ) আজিম উল্লাহ বাহার সমর্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (১৭ নভেম্বর) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত টানা কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয় বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। উপজেলা সদরের বাসস্টেশন থেকে সানমুন ক্লাব পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে অনুষ্ঠিত বিশাল মানববন্ধনে হাজারো নেতাকর্মীর উপস্থিতি এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন মাঠপর্যায়ে ত্যাগ ও নিবেদন দেখানো সত্ত্বেও তাদের জনপ্রিয় নেতাকে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। তারা বলেন, তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতামত উপেক্ষা করে অযোগ্য ও জনবিচ্ছিন্ন একজন প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, যা কর্মীদের মাঝে হতাশা ও ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।
বক্তারা আরও বলেন, যিনি বিগত আন্দোলন–সংগ্রামে আজিম উল্লাহ বাহার সবসময় সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, নির্যাতন–নিপীড়ন সয়ে দলকে সুসংগঠিত রেখেছেন, তাকে উপেক্ষা করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাদের অভিযোগ, মনোনয়নপ্রাপ্ত ব্যক্তি এলাকায় গণগ্রহণযোগ্য নন এবং তার নেতৃত্বে নির্বাচন পরিচালনা করাও কঠিন হয়ে পড়বে।
বক্তারা কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জোর দাবি জানিয়ে বলেন, তৃণমূলের মতামতই যে কোনো গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের মূল শক্তি। দলকে শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ রাখতে হলে মনোনয়ন এমন নেতাকে দিতে হবে, যাকে কর্মীরা আন্তরিকভাবে সমর্থন করেন। তারা সতর্ক করে বলেন, ত্যাগী নেতাকে বাদ দিয়ে অযোগ্য ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেওয়া হলে কর্মীদের আন্দোলন ছাড়া আর কোনো পথ খোলা থাকবে না।
মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় এবং সন্ধ্যায় বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা মশাল মিছিল বের করেন। মিছিলটি ফটিকছড়ি বাজার এলাকার চট্টগ্রাম–খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে বিএনপির কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে "অন্যায় মনোনয়ন বাতিল" এবং "ত্যাগী নেতার মর্যাদা পুনরুদ্ধার" ইত্যাদি দাবিতে স্লোগান দেওয়া হয়।
এদিকে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যেও কর্মসূচিটি ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করেছে। অনেকেই জানান, ফটিকছড়িতে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও জনপ্রিয়তার কারণে তৃণমূলের দাবি উপেক্ষা করা এখন কঠিন হয়ে পড়েছে।
উপজেলা বিএনপির সদস্য সরওয়ার মফিজ বলেন, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত নিয়ে তৃণমূলে অস্থিরতা দেখা দিলে নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। পর্যবেক্ষক দল মানববন্ধন ও মিছিলের বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
তৃণমূল নেতাকর্মীরা ঘোষণা দিয়েছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না হলে আরও বৃহত্তর আন্দোলনেরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
ফটিকছড়ির রাজনৈতিক অঙ্গনে এই ঘটনাকে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মনোনয়ন সংকট দ্রুত না মিটলে নির্বাচনের আগে এলাকায় উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।












