মরচে ধরা কূটনীতি ও ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠনের চ্যালেঞ্জে নতুন সরকার

দুই দশক পর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসীন নতুন সরকারের সামনে ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারসাম্য রক্ষা ও ধুঁকতে থাকা অর্থনীতি পুনর্গঠনই এখন প্রধান কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ। মঙ্গলবার শপথ নিতে যাওয়া এই সরকারের জন্য সুসংগত বিদেশনীতি ও কার্যকর অর্থনৈতিক পরিকল্পনা প্রণয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমেদ মনে করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক প্রায় তলানিতে ঠেকেছে। তিনি বলেন, “ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করা একটি বড় পরীক্ষা। তবে পারঅস্পরিক সম্মান ও ন্যায্য হিস্যার ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।” এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের ‘অপ্রত্যাশিত’ নীতি সামলানো এবং সাম্প্রতিক ঢাকা-ওয়াশিংটন বাণিজ্য চুক্তি পর্যালোচনাকেও গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন এই কূটনীতিক।
অন্যদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ওবায়দুল হক বলেন, “নতুন সরকারের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হওয়া উচিত বৈদেশিক বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা।” পরিবর্তিত বিশ্বব্যবস্থায় ইউক্রেন যুদ্ধ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় শুধু নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের ওপর নির্ভর না করে কৌশলগতভাবে বহুমুখী কূটনীতি অনুসরণের তাগিদ দেন তিনি।
এদিকে, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ ও দেশের মানুষের স্বার্থ ঠিক রেখেই আমাদের পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারিত হবে।” স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীও সমতা ও পারস্পরিক বিশ্বাসের ভিত্তিতে বিদেশনীতি পরিচালনার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়া, চীন ও জাপানের সঙ্গে বিদ্যমান সুসম্পর্ককে নতুন গতি দান এবং তিস্তাসহ অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করাই হবে নতুন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অগ্নিপরীক্ষা।












