মিরসরাইয়ে জাগ্রত প্রতিভা মেধাবৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৩৮ অপরাহ্ন

মিরসরাইয়ে জাগ্রত প্রতিভা মেধাবৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত

মিরসরাইয়ে জাগ্রত প্রতিভা মেধাবৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত
ছবি সংগৃহীত।

মিরসরাইয়ের ঐতিহ্যবাহী স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন 'জাগ্রত প্রতিভা'র আয়োজনে এবং 'গুলশান আরা ফাউন্ডেশন'-এর সৌজন্যে ১৩তম জাগ্রত প্রতিভা মেধাবৃত্তি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (২৯ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০ টা থেকে দুপুর ১২ টা ১০ মিনিট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত বৃত্তি পরীক্ষায় দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়, কিন্ডারগার্টেন ও নূরানী মাদ্রাসাসহ ১৫০ (দেড় শত) শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১১ শতাধিক (১,১০০+) শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে।

উপজেলার চিনকি আস্তানা উচ্চ বিদ্যালয়, মিঠাছরা উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারহাট নজরআলী রুপজান উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

পরীক্ষার বিভিন্ন কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করেন সংগঠনের সভাপতি গোলাম মর্তুজা ভূঁইয়া, সাবেক পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক হৃদয় রঞ্জন দে, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অসীম কুমার দত্ত, বৃত্তি পরীক্ষা কমিটির আহ্বায়ক মাস্টার কামরুল ইসলাম, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম রিপন, বৃত্তি পরীক্ষা কমিটির সদস্য সচিব প্রভাষক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম।

৩টি কেন্দ্র সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন চিনকি আস্তানা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম মজুমদার, মিঠাছরা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জামশেদ আলম, সরকারহাট নজরআলী রুপজান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিশ্বজিৎ দে।

পরীক্ষা কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করেন সংগঠনের উপদেষ্টা ও টেকনাফ সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন, উচ্চ পরিষদ সদস্য এমএম আবুল হোসেন সোহেল, চিনকি আস্তানা উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি নিজাম উদ্দিন, উদয়ন ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম শাহীন, আবুল বাশার মেম্বার স্মৃতি সংসদের সভাপতি সরফুদ্দিন, মিরসরাই প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম মাঈন উদ্দিন, যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ ইউসুফ, অদম্য যুব সংঘের পরিচালক এনামুল হক সোহাগ, প্রজন্ম মিরসরাই’র পরিচালক প্রকৌশলী ওমর ফারুক, প্রজন্ম মিরসরাই’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রহিম উদ্দিন, স্বপ্নের খৈয়াছড়া সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ জাহেদ, ফ্রেন্ড সার্কেল ব্লাড ব্যাংকের সভাপতি মেহেদী হাসান ইমন, চাইল্ড কেয়ার বাংলাদেশ'-এর সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম ইমন, সমাজকর্মী মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, ইউসাম’র সভাপতি আল মুরাদ প্রমুখ।




হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স: এক মাসের ছুটি নিয়ে স্টোরকিপারের দুই মাসেও মেলেনি দেখা, যুক্ত ধর্মীয় সংগঠনে; মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধে ঝুঁকি

হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স: এক মাসের ছুটি নিয়ে স্টোরকিপারের দুই মাসেও মেলেনি দেখা, যুক্ত ধর্মীয় সংগঠনে; মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধে ঝুঁকি
ছবি সংগৃহীত।

হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্টোরকিপার দুর্জয় দেওয়ানজী চিকিৎসার জন্য এক মাসের ছুটি নিয়ে বিদেশে গেলেও দুই মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো নিজ কর্মস্থলে ফেরেননি। এমনকি গত ৯ আগস্ট গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হাটহাজারীতে আগমন করলেও তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন সময়ে চিকিৎসার নামে বিদেশের মাটিতে পাড়ি জমানোর তথ্যও পাওয়া গেছে তার বিরুদ্ধে। মূলত চিকিৎসা নয়, একটি ধর্মীয় সংগঠনের কার্যক্রমে অংশ নিতে প্রায়ই দেশের বাইরে এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসার অজুহাতে ছুটি দেখিয়ে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে হাটহাজারীতে কর্মরত অবস্থায় ঊর্ধ্বতনদের বিশেষ আশীর্বাদপুষ্ট হওয়ায় হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা সত্ত্বেও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সাহস করেন না কেউ।

জানা গেছে, জুন মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে এক মাসের ছুটিতে বহির্বাংলাদেশে গমন করেন দুর্জয়। তবে ছুটির মেয়াদ শেষ হলেও তিনি এখনো কর্মস্থলে ফেরেননি। নিয়ম অনুযায়ী ছুটির পূর্বে কাউকে যথাযথ দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও তা-ও ঠিকভাবে অনুসরণ না করার অভিযোগ রয়েছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, দুর্জয় চলতি বছরের শুরু থেকেই কর্মস্থলে অনিয়মিত। জানুয়ারি থেকে প্রায় চার মাস অনুপস্থিত ছিলেন তিনি। পরবর্তীতে জুনে পুনরায় বহির্বাংলাদেশে গমন করেন। চিকিৎসার জন্য ছুটির কারণ উল্লেখ করলেও তিনি নিজে নাকি পরিবারের কোনো সদস্য অসুস্থ—তা নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। স্টোরকিপারের দায়িত্বে থাকা অফিস সহকারী শৈবাল সেন তার অসুস্থতার কথা জানালেও, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ড. তাপস কান্তি মজুমদার জানান যে তার বাবা অসুস্থ। মূল সত্য জানতে ছুটির আবেদনের কাগজপত্র ও পাসপোর্টের কপি দেখতে চাইলে প্রতিবেদককে এসব না চাওয়ার অনুরোধ করেন ওই কর্মকর্তা। ফলে ধোঁয়াশা রয়েই গেল।

এদিকে জানা গেছে, একজন সরকারি কর্মচারী কর্মরত থাকা অবস্থায় 'বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯' এবং সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী কোনো রাজনৈতিক বা নির্দিষ্ট সংগঠনে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বিধিমালার ২৫(১) উপবিধি অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মচারী কোনো রাজনৈতিক দলের বা তার অঙ্গসংগঠনের সদস্য হতে পারবেন না। কর্মকাণ্ডে নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী, দেশে বা বিদেশে কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ বা অর্থায়ন করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এছাড়া সরকারি চাকরিজীবীরা এমন কোনো সামাজিক বা ধর্মীয় সংগঠনের সক্রিয় সদস্য হতে পারবেন না, যা সমাজে সাম্প্রদায়িকতা ছড়ায় অথবা জনশৃঙ্খলা ও নৈতিকতার পরিপন্থী হিসেবে বিবেচিত হয়।

সরকারি চাকরির প্রধান শর্ত হলো প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা ও জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা। তাই কর্মক্ষেত্রে বা ব্যক্তিগত জীবনে এমন কোনো সংগঠনের পরিচয় বহন করা যাবে না যা এই নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। নীতিমালা লঙ্ঘন করলে 'সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮' অনুযায়ী বিভাগীয় মামলা, চাকরিচ্যুতি বা অন্যান্য শাস্তি হতে পারে।

এমন আইনি বাধ্যবাধকতা থাকা সত্ত্বেও দুর্জয় দেওয়ানজীর বিরুদ্ধে একটি ধর্মীয় সংগঠনের সাথে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। ২০২২ সালেও বিদেশে গমনপূর্বক ওই সংগঠনের কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন তিনি। সংগঠনের কার্যক্রমের একাধিক ছবি ও সনদ এর প্রমাণ বহন করে। তার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে, কর্মস্থলে ব্যক্তিগত গাড়ি বা অন্যান্য বাহন ব্যবহারের নিয়ম থাকলেও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার গাড়িতেই তিনি যাতায়াত করেন।

এদিকে তার অনুপস্থিতিতে স্টোরের ওষুধ বিতরণ ও ওষুধের মেয়াদ পরীক্ষা করা নিয়ে চিকিৎসকদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি হাসপাতালে মেয়াদোত্তীর্ণ কিছু ওষুধ পাওয়া গেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কর্মকর্তা বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, স্টোরকিপারের ওষুধের মেয়াদ পরীক্ষা করার জন্য একজন মেডিকেল অফিসার নিয়োগ দিতে ঊর্ধ্বতনদের অবগত করা হলেও তারা তা কর্ণপাত করেননি। ফলে প্রশাসনিক অনিয়ম প্রকাশ্যে আসছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে মেয়াদোত্তীর্ণের কারণে ওষুধসংকটের আশঙ্কাও রয়েছে। অন্যদিকে, একজন স্টোরকিপারের ছুটি ও ওষুধের যাবতীয় বিষয়ে আবাসিক মেডিকেল অফিসারের অবগত থাকার কথা থাকলেও তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানান।

আবাসিক মেডিকেল অফিসার ড. সোহানিয়া আক্তার বিল্লাহ বলেন, দুর্জয় কখন ছুটিতে গেছেন এবং কেন গেছেন সে সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ড. তাপস কান্তি মজুমদার মুঠোফোনে স্টোরকিপারের এক মাসের ছুটি এবং পরবর্তীতে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মাধ্যমে সাত দিন করে মোট ১৪ দিন ছুটির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টি স্বীকার করলেও, এর দুদিন পর নিজ কার্যালয়ে ছুটির মেয়াদ এখনো আছে বলে প্রতিবেদককে জানান। তবে তাকে দ্রুত কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার জন্য চিঠি ইস্যু করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। মুঠোফোনে প্রদত্ত বক্তব্যের সাথে কার্যালয়ের বক্তব্যের অমিলের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। এছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ এবং স্টোর তদারকিতে মেডিকেল অফিসার নিয়োগ না দেওয়ার প্রশ্নে নিশ্চুপ ছিলেন ওই কর্মকর্তা।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ছুটির সত্যতা স্বীকার করলেও মূলত ছুটির মেয়াদ কতদিন তা জানতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। অন্যদিকে বিভাগীয় পরিচালক ডা. ফজলে রাব্বি জানান, তিনি এ বিষয়ে খোঁজ নেবেন।




রাউজানে সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

রাউজানে সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের রাউজানে দুটি সাজা পরোয়ানাসহ পৃথক মামলায় জারি হওয়া মোট নয়টি পরোয়ানাভুক্ত দীর্ঘদিনের পলাতক আসামি এনামুল হক বাচা ওরফে বাচা কোম্পানিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাউজান পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ট্রমা সেন্টারের সামনের সড়কে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার এনামুল হক বাচা ওরফে বাচা কোম্পানি পূর্ব রাউজান এলাকার আজিজুল হক কোম্পানির বাড়ির মৃত আবদুল কাদেরের ছেলে।

রাউজান থানা-পুলিশ জানায়, চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বিপিএমের নির্দেশনায় রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. বেলায়েত হোসেন পিপিএম এবং রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলামের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

এসআই (নিরস্ত্র) মো. দেলোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে এএসআই (নিরস্ত্র) মো. ইকবাল হোসেনসহ পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এনামুল হক বাচার বিরুদ্ধে দায়রা-৪৩৭/২৩, সিআর-৮৪০/২২ মামলায় এক বছরের সাজা পরোয়ানা এবং দায়রা-৯০১/২০২৪, সিআর-১৪০/২০২৩ মামলায় এক বছরের সাজা পরোয়ানা রয়েছে। এ ছাড়া জিআর-১০৮/২৫, সিআর-৫৭৬/২৫, দায়রা-১৯১৭/২২, সিআর-৬৮৪/২১, সিআর-১৫০/২০২৪, সিআর-৫৩০/২০২৪, সিআর-১৮৯/২০২৩ ও সিআর-১৮৮/২০২৩ মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।

পুলিশ জানায়, পরোয়ানা জারির পর থেকে এনামুল হক বাচা দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার আসামিকে আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন থানার সেকেন্ড অফিসার উপপরিদর্শক মো. তানভীর।




রাউজানে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল দেখে পরীক্ষার্থীর মৃত্যু

রাউজানে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল দেখে পরীক্ষার্থীর মৃত্যু
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের রাউজানে এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর অকৃতকার্য হওয়ার সংবাদ পেয়ে মনি দাশগুপ্ত (১৮) নামে এক পরীক্ষার্থীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১০ আগস্ট) ফল প্রকাশের পরপরই উপজেলার বাগোয়ান ইউনিয়নের গশ্চি সুনীল মাস্টারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

তবে মনির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে এলাকায় কৌতূহল ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়ভাবে এটি আত্মহত্যা বলে গুঞ্জন উঠলেও পরিবারের দাবি, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। এ বিষয়ে পুলিশ এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পায়নি বলে জানিয়েছে।

নিহত মনি দাশগুপ্ত একই বাড়ির মৃদুল দাশগুপ্তের মেয়ে। সে গশ্চি উচ্চবিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা শাখার ২০২২-২০২৩ শিক্ষাবর্ষের অনিয়মিত এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল।

বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক নুরুন নবী জানান, মনি এবার ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে গণিতে উত্তীর্ণ হলেও ইংরেজিতে অকৃতকার্য হয়। তিনি বলেন, ‘প্রথমে শুনেছি ফল প্রকাশের পর অকৃতকার্য হওয়ার সংবাদ পেয়ে সে আত্মহত্যা করেছে। পরে আবার কারও কাছে শুনলাম হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। প্রকৃত ঘটনা কী, তা আমি জানি না।’

স্থানীয় কয়েকজন নারীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ফল প্রকাশের সময় মনির মা রেবা দাশগুপ্ত বাড়ির বাইরে রান্নার জন্য পাতা কুড়াতে গিয়েছিলেন। এ সময় মনি বাড়িতে রান্নার কাজে ব্যস্ত ছিল। এক নিকটাত্মীয় এসে তাকে পরীক্ষার ফলাফলে অকৃতকার্য হওয়ার কথা জানান। এরপর মনি একটি কক্ষে একা চলে যায়। কিছুক্ষণ পর তার মা বাড়িতে ফিরে তাকে শয়নকক্ষে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান বলে স্থানীয়রা জানান। তিনি চিৎকার দিলে স্বজনরা ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে পথেরহাটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে দ্রুত তার সৎকার সম্পন্ন করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

নিহতের মা রেবা দাশগুপ্ত বলেন, ‘আমি পাতা কুড়াতে গিয়েছিলাম। ঘরে এসে দেখি অচেতন অবস্থায় পড়ে আছে। পথেরহাট হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার পরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ফল প্রকাশের দশ মিনিটের মধ্যে এমন ঘটনা ঘটেছে। এবার শুধু দুটি বিষয়ে পরীক্ষা দিয়ে অকৃতকার্য হয়েছে। তাই বলে এমন হবে, তা আমি ঘুণাক্ষরেও ভাবিনি। আগে জানলে আমি বাইরে যেতাম না।’

তবে তিনি মেয়ের আত্মহত্যার বিষয়টি এড়িয়ে যান। তাঁর দাবি, ফল প্রকাশের পর অকৃতকার্য হওয়ার সংবাদ শুনে তাঁর মেয়ে স্ট্রোক করে মৃত্যুবরণ করেছে। এর বাইরে তিনি কিছুই জানেন না এবং বলতেও পারবেন না।

এদিকে মনি আত্মহত্যা করেছে—এমন কোনো খবর সোমবার পুলিশ পায়নি বলে জানিয়েছেন নোয়াপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আনিসুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে আত্মহত্যা করেছে এমন কোনো সংবাদ গতকাল আসেনি। তবে আজ (মঙ্গলবার) শুনেছি। বিষয়টি যাচাই করে দেখা হচ্ছে।’

মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত না হওয়ায় ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা চলছে। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।