যে নিজের পরিচয় গোপন করে অপকর্ম করে, সেই বড় গুপ্ত: ডা. শফিকুর রহমান
বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২৭ অপরাহ্ন

যে নিজের পরিচয় গোপন করে অপকর্ম করে, সেই বড় গুপ্ত: ডা. শফিকুর রহমান

যে নিজের পরিচয় গোপন করে অপকর্ম করে, সেই বড় গুপ্ত: ডা. শফিকুর রহমান
ছবি সংগৃহীত।

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, যে নিজের পরিচয় গোপন করে অপকর্ম ও দুর্নীতি করে, সেই সবচেয়ে বড় গুপ্ত।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে চট্টগ্রামের লালদিঘী ময়দানে ১১ দলীয় জোটের লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ঢাকা বিমানবন্দরে এক প্রবাসীর স্বর্ণ ছিনতাইয়ের প্রসঙ্গ তুলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কয়েক দিন আগে তিনজন ছিনতাইকারী একজন প্রবাসীর স্বর্ণ ছিনতাই করেছে। ছিনতাইয়ের সময় তারা নিজেদের আওয়ামী লীগের লোক পরিচয় দিয়ে ভয় দেখিয়েছিল। কিন্তু ধরা পড়ার পর দেখা গেল, তারা বিএনপির লোক।

তিনি বলেন, এরা গুপ্ত। যে নিজের পরিচয় গোপন করে অপকর্ম করে, দুর্নীতি করে, সেই হচ্ছে সবচেয়ে বড় গুপ্ত।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখ জনগণ দুটি ভোট দিয়েছিল। একটি জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচনের জন্য, আরেকটি বাংলাদেশের রাজনীতির পরিবর্তনের জন্য সংস্কার পরিষদের সদস্য নির্বাচনের উদ্দেশ্যে। একই ব্যক্তিকে দুটি ভোট দিতে হয়েছিল। নির্বাচনের আগে বর্তমান সরকারি দল এবং আমরা সবাই বলেছিলাম, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলুন। ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হলে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে আমরা বদ্ধপরিকর। বিএনপিও এ কথা বলেছে, আমরাও বলেছি। ছয় মাস চলে গেল, বিএনপি কি তাদের কথা রেখেছে?

তিনি বলেন, ওই সময় বাংলাদেশের মানুষ বুকভরা আশা নিয়ে ভেবেছিল, এবার একটা পরিবর্তন আসবে। বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের জন্ম হবে না। মানুষ আদালতে গেলে আর শোষণ-বঞ্চনার শিকার হবে না, ন্যায়বিচার পাবে। সন্তানরা ভালো শিক্ষা পাবে, হাতে ভালো কাজ পাবে এবং তারা দেশ গড়বে। দেশ থেকে চাঁদাবাজি, ঘুষ ও দুর্নীতি নির্মূল হবে। কিন্তু তার একটাও হয়নি।

জামায়াত আমির বলেন, তারা তখন বলেছিল, অনির্বাচিত সরকার যত দ্রুত বিদায় নেবে, দেশের তত মঙ্গল হবে। আমি জিজ্ঞেস করতে চাই, অনির্বাচিত সরকার আমাদের জান্নাতে পাঠায়নি, এটা ঠিক। কিন্তু অনির্বাচিত সরকারের সময় আপনারা যেমন ছিলেন, এখন কি সেই সুবিধাগুলো পাচ্ছেন?

সমাবেশে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এখন গ্যাস নেই, বিদ্যুৎ নেই। বিদ্যুৎ না থাকলেও বিদ্যুতের বিল আসছে। গ্যাস দেবে না, কিন্তু গ্যাসের বিল জমা দিতে হচ্ছে। তেল পাই না, জ্বালানি পাই না। চারদিকে হাহাকার।

তিনি আরও বলেন, সমাজে বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাস ও হানাহানি চলছে। দলীয় আনুকূল্য ও প্রশ্রয়ে সরকারি দলের লোকেরা সন্ত্রাস ও চুরি-ছিনতাইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে।

লংমার্চের কর্মসূচি ঘিরে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়ার প্রসঙ্গ তুলে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আজকে আমরা যখন লংমার্চের ডাক দিলাম, তখন বিভিন্ন জায়গায় চরম প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কিছু প্রতিক্রিয়া আপনারা শুনতে পেয়েছেন। আমরা পরিষ্কার একটা কথা বলি– আমাদের এই আন্দোলন জনগণের প্রাণের দাবি বাস্তবায়নের আন্দোলন।

‘আমরা কাউকে ক্ষমতা থেকে বিদায় করার জন্য আন্দোলন শুরু করিনি। কেউ যদি বিদায় নেওয়ার মতো আমল করতে থাকে, তাহলে আমরা কি তাদের ইয়াসিন সূরা পড়ে পানি পড়া খাওয়াব? সেই পথেই সরকার হাঁটছে। আগের সরকার যে রাস্তা ধরে হেঁটেছে, এই সরকারও একই রাস্তা ধরে হাঁটছে। চট্টগ্রাম তার আরেকটি বাস্তব প্রমাণ।’

জামায়াতের আমির বলেন, এখানে একজন মেয়র আছেন। উনার মেয়াদ কি এখনো আছে? উনাকে কি আমরা মেয়াদোত্তীর্ণ বলব না? এখন শুনে যাবেন, উনি যতদিন ইচ্ছা ততদিন থাকবেন। বলেন, এর নাম সুশাসন, না এর নাম ফ্যাসিবাদ? আপনি আসেন, আবার নির্বাচিত হয়ে আসেন। জনগণের ভোটে এসে সম্মানের সঙ্গে নেতৃত্ব দেন– আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু ভোটে যদি জনগণ অন্য কাউকে নির্বাচিত করে, তাও আপনাকে মেনে নিতে হবে।

চট্টগ্রামবাসী, এই তো একটা তাজা উদাহরণ দিলাম বাংলাদেশকে। এটা কি বৈষম্য নয়? তারা জাতির সামনে নির্বাচনী ইশতেহারে এবং তাদের সংস্কারের ৩১ দফায় ওয়াদা করেছিলেন যে, সমাজের সব স্তরের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরাই দেশ পরিচালনা করবেন। এখন জায়গায় জায়গায় তারা যে প্রশাসক বসালেন, তারা কি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি?

তিনি বলেন, আমাদের আজকের এই লংমার্চ সরকারকে সতর্ক করে দেওয়ার জন্য। কিন্তু পরের লংমার্চ এমন হবে না। এতগুলো মানুষ মারা গেল, তাদের দলের প্রচুর লোক মারা গেছে, গুম হয়েছে, আয়নাঘরে বন্দি হয়েছে। এই মানুষগুলোর রক্ত ও জীবনের প্রতি আমাদের কি কোনো দায়বদ্ধতা নেই? আফসোস, ক্ষমতায় বসেছেন ছয় মাস। বলেন, আমাদের সরকারটা শিশু সরকার। জনগণ কোন শিশুকে ভোট দিয়েছে? ২৫ বছরের আগে কেউ সংসদ সদস্য হতে পারে না। উনারা কি ২৫ বছরের শিশু, নাকি প্রাপ্তবয়স্ক? জনগণ আপনাদের ভোট দিয়েছে। আপনারা ওয়াদা করেছেন, কথা দিয়েছেন। এখন সেই সবকিছু আপনারা লঙ্ঘন করছেন।

তিনি বলেন, আমরা সাফ জানিয়ে দিচ্ছি, আপনারা উল্টাপাল্টা করবেন আর বিরোধী দল বসে বসে আঙুল চুষবে– এটা হবে না। এখন পর্যন্ত আঙুল আমাদের সোজা। প্রয়োজনে এটা বাঁকা হবে, ইনশাআল্লাহ। আপনারা আমাদের বাধ্য করেছেন রাজপথে আসতে। আমরা তো এই দাবি নিয়ে রাজপথে আসতে চাইনি। আমরা তো চেয়েছিলাম ফ্যাসিবাদের কবর রচনা হবে এবং সংসদের ভেতরেই তার ফয়সালা হবে। আপনারা গণভোটের গণরায়কে অস্বীকার করার মাধ্যমে বাংলাদেশের ৭০ ভাগ মানুষকে অপমান করেছেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আপনারা তাদের সঙ্গে দেওয়া কথার সঙ্গে গাদ্দারি করেছেন, প্রতারণা করেছেন। বিরোধী দল জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করবে না, ইনশাআল্লাহ। আমাদের বহু টোপ দেওয়া হয়েছে, লোক দেওয়া হয়েছে– এটা করব, ওটা করব। আমরা পরিষ্কার জানিয়ে দিচ্ছি, কোনো লোভের প্রতি আমরা চোখ খুলেও তাকাব না। জনগণের ৭০ ভাগ মানুষের দেওয়া রায় বাস্তবায়ন করতে হবে এবং আমরা তা আদায় করে ছাড়ব, ইনশাআল্লাহ। এর আগে আমরা বিরতি দেব না, আমরা থামব না। এই লড়াই চলবে এবং বাংলাদেশ, ইনশাআল্লাহ, বদলাবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ বদলানোর জন্য আপনারা কি তৈরি আছেন? তাহলে প্রস্তুত থাকুন। বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক, ইনশাআল্লাহ, আসবে। তবে এর সঙ্গে ঈদের কোনো সম্পর্ক নেই। জনগণের যখন প্রয়োজন হবে, তখনই ডাক আসবে, ইনশাআল্লাহ। আমরা কনফিডেন্ট, আমরা আস্থাশীল– এই লড়াইয়ে জনগণ বিজয়ী হবে। ফ্যাসিবাদ হেরে যাবে, অপরাধীরা হেরে যাবে, চাঁদাবাজরা হেরে যাবে, দুর্নীতিবাজরা হেরে যাবে, লুটেরা-লুটপাটকারীরা হেরে যাবে। যারা আধিপত্যবাদের কাছে মাথা নত করে, তারা হেরে যাবে।
শফিকুর রহমান বলেন, আমি শুধু জানতে চাই- আপনারা ১৫ বছরের হত্যাকাণ্ডের বিচার চান? ১৫ বছর যত হত্যাকাণ্ড, যত গুম হয়েছে, সবগুলোর বিচার চান? আপনারা ’২৪-এর আন্দোলনের বীর শহীদদের হত্যার বিচার চান? যারা তাদের গুলি করে পঙ্গু করে দিয়েছে, সেই খুনিদের বিচার চান? বিডিআরের পিলখানায় ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাকে যারা হত্যা করেছে, সেই খুনিদের বিচার চান? যারা আয়নাঘর তৈরি করেছিল, তাদের বিচার চান? জল্লাদদের বিচার চান?।আমরা কথা দিচ্ছি, সেই বিচার আমরা আদায় করে ছাড়ব। আর এই সরকার যদি এই বিচার না করে, তাহলে জনগণের সরকার কায়েমের মাধ্যমে সেই বিচার আমরা তুলে আনব, ইনশাআল্লাহ।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী ড. কর্নেল অলি আহমদ। এসময় উপস্থিত ছিলেন– বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, এনসিপির মূখ্য সংগঠক সারজিস আলম, জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল, ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ কে এম হামিদুর রহমান আজাদ।
আরও উপস্থিত ছিলেন– এনসিপি মুখ্য সমন্বয়ক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালাল উদ্দীন আহমদ, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজী, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইজহার, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান, লেবার পার্টির মুখপাত্র মাওলানা নাজমুল ইসলাম তালুকদার, গুমের শিকার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাসিনুর রহমান বীরপ্রতীক, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মদ ফয়সাল এবং এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া।

উল্লেখ্য, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নসহ ছয় দফা দাবি আদায়ে ১১ দলীয় জোটের ঢাকা-চট্টগ্রাম লং মার্চের শেষ কর্মসূচি হিসেবে চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানে এ সমাবেশ চলে।

জোটের পক্ষ থেকে ঘোষিত ছয় দফা দাবির মধ্যে আছে– অবিলম্বে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ও অপরাধ দমন, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও সারের সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ এবং প্রশাসনের সর্বস্তরে সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করা।




স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দায়িত্বে রেখে আইনশৃঙ্খলার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়: নাহিদ ইসলাম

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দায়িত্বে রেখে আইনশৃঙ্খলার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়: নাহিদ ইসলাম
ছবি সংগৃহীত।

বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দায়িত্বে রেখে দেশের আইনশৃঙ্খলার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যিনি আছেন, তিনি বিভিন্ন সময় অসংলগ্ন কথা বলছেন। তিনি তার দায়িত্ব পালনে অলরেডি ব্যর্থ হয়েছেন। আমরা দেখেছি সংস্কার ইস্যুতেও তিনি জাতির সঙ্গে প্রতারণামূলক কথা বলেছেন।’

আজ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দলের কার্যালয়ে বিদ্যমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি, স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ সার্বিক বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আজকে জনগণের সামনে স্পষ্ট যে, দেশের আইনশৃঙ্খলার পরিবেশ ঠিক নেই। এটার জন্য বর্তমান সরকার, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দায়ী।

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, এই সরকার বলেছিল নির্বাচিত সরকার এলে দেশে মব থেমে যাবে, আইন-শৃঙ্খলার পরিবেশ ঠিক থাকবে। আমরা এখন দেখতে পাচ্ছি, বিএনপি সরকার নির্বাচিত হয়ে আসার পরে আইনশৃঙ্খলার পরিবেশের আরও বেশি অবনতি হয়েছে। তারা নিজেদের দলীয় নেতাকর্মীকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না।’

সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি হয়েছে উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা বিশেষত দুটি ঘটনা উদাহরণ হিসেবে দেখলাম। মিরপুরে রাড্ডা সেন্টার ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো। রাতের আঁধারে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে সেখানে ভাঙচুর হলো। ঢাকা শহরে, রাজধানীতে রাতের বেলা তিন ঘণ্টা ধরে ভাঙচুর করবে এবং প্রশাসন সেখানে কিছুই করতে পারবে না, এটি হতে পারে না। এটা সরকারি ইন্ধনে, রাষ্ট্রীয় মদদে এবং দলীয় নেতাকর্মীদের প্রত্যক্ষ মদদে এই ঘটনাটি ঘটেছে। মিরপুরের রাড্ডা এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও যে ভাঙচুর হলো, এ দুটি ঘটনায় আমরা দেখতে পেলাম যে কীভাবে প্রশাসন নিষ্ক্রিয় থাকছে।  

‘আমরা সালমান মুক্তাদির স্টুডিওর ঘটনাটা দেখলাম। সেখানে এখন ভিক্টিমকে ব্লেমিং করা হচ্ছে। সেখানে স্পষ্টত ভাঙচুর হয়েছে, সেখানে একটা ফৌজদারি অপরাধ ঘটেছে, যেখানে প্রশাসন নিষ্ক্রিয় থেকেছে। প্রশাসন সেটাকে বাধা দিতে পারেনি, সেটাকে বন্ধ করতে পারেনি। এখন নানাভাবে সেটা কারা করেছে বা ভিক্টিমের দায় কী, এই ধরনের অনেক নাটক সরকার সাজাচ্ছে।’

তিনি বলেন, এই দুটি ঘটনা হয়তো মিডিয়া বা নানা কারণে রাজধানীতে হওয়ার কারণে আমাদের সামনে এসেছে। সারা দেশের পরিস্থিতি কিন্তু এইটা। আমরা হবিগঞ্জে দেখলাম সিএনজি স্ট্যান্ড বা অটো স্ট্যান্ড দখল নিয়ে ব্যাপক মারামারি। আমরা সাভারে মাদরাসা দখলের চেষ্টার ঘটনা নিউজে শুনলাম। সারা দেশে এক ধরনের নৈরাজ্য। দেশে কোনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আছে বলে মনে হচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, একজন প্রতিমন্ত্রী রিসেন্টলি বললেন যে সকল চাকরি, টেন্ডার, সবকিছু দলের লোকেরা পাবে। তার সবচেয়ে স্পষ্ট উদাহরণ আমরা দেখলাম, প্রাইমারি নিয়োগ পরীক্ষায় সেখানে প্রায় আড়াই হাজার জনকে চাকরিপ্রার্থীকে বাদ দেওয়া হয়েছে। যাদের মধ্যে বেশিরভাগেরই কোনো ধরনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা বা সন্ত্রাসী সংগঠন বা রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রম, এ ধরনের কোনো সুস্পষ্ট তথ্য-প্রমাণ নেই। এমনকি আমাদের অনেক যারা আন্দোলনের সহযোদ্ধা ছিলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের যারা আমাদের সহযোদ্ধা ছিলেন, সহপাঠী ছিলেন, সেরকম অনেককে বাদ দেওয়া হয়েছে। গতকাল শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, তাদেরকে পর্যায়ক্রমে আবার নেওয়া হবে বা সুযোগ দেওয়া হবে। সকলের আন্দোলনের, প্রতিবাদের মুখে শিক্ষামন্ত্রী এই কথাটি বলেছেন।

‌‌‘আড়াই হাজার বাদ দেওয়া হয়েছে, কোনো সুস্পষ্ট তথ্য-প্রমাণ ছাড়া এখানে একজনকেও বাদ দেওয়া যাবে না। প্রত্যেককেই যথাযথভাবে, সে যদি যোগ্য হয়, পরীক্ষায় টিকে এবং তার বিরুদ্ধে যদি কোনো সন্ত্রাসী বা রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রমের অভিযোগ থাকে, তাহলে তাকে ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ার নামে এই যে হয়রানি করা বা প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়া, এই প্রক্রিয়া থেকে সরকারকে সরে আসতে হবে।’

চাকরিপ্রার্থীদের পাশে জাতীয় নাগরিক পার্টি আছে জানিয়ে তিনি বলেন, যদি একজন চাকরিপ্রার্থীকে অন্যায়ভাবে এই চাকরি প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়া হয়, আমরা তার জন্য লড়ব, আমরা তার জন্য কথা বলব, আমরা তার জন্য আন্দোলনে যাব, প্রয়োজনে মাঠে থাকব। এনসিপির কার্যালয়, অফিস তাদের জন্য খোলা আছে। আমরা সবাইকে বলব, যদি আপনারা কেউ মনে করেন আপনাদের অন্যায়ভাবে বাদ দেওয়া হচ্ছে এবং সেরকম তথ্য-প্রমাণ যদি আপনারা দেখাতে পারেন, জনগণের সামনে, ইনশাআল্লাহ আমরা আপনাদের সঙ্গে থাকব।




তত্ত্বাবধায়ক সরকারসহ আরও দুই অনুচ্ছেদে গণভোট চায় বিএনপি

তত্ত্বাবধায়ক সরকারসহ আরও দুই অনুচ্ছেদে গণভোট চায় বিএনপি
ছবি সংগৃহীত।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিধানসহ সংবিধানের আরও দুটি অনুচ্ছেদ সংশোধনের ক্ষেত্রে গণভোটের বিধান রাখার প্রস্তাব দিয়েছিল বিএনপি বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে কোনো সংসদ যাতে এসব বিধান সংশোধন করতে না পারে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদগুলো গণভোটের আওতায় আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির তৃতীয় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন সালাহউদ্দিন আহমদ।

সভায় দেশের জাতীয় দৈনিকগুলোর সম্পাদক, বিভিন্ন সাংবাদিক ফোরামের প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট সাংবাদিকেরা অংশ নেন। তাদের কাছ থেকে সংবিধান সংশোধনের বিভিন্ন বিষয়ে মতামত ও প্রস্তাব নেওয়া হয়েছে। কমিটির সভাপতি জানান, অংশগ্রহণকারীদের অনেকেই তাদের প্রস্তাব লিখিতভাবে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আজকের মতবিনিময় সভায় জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক, বিভিন্ন সাংবাদিক ফোরামের প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট সাংবাদিকেরা অংশ নিয়েছেন। তারা সংবিধানের প্রস্তাবনা থেকে শুরু করে বিভিন্ন অনুচ্ছেদ ও তফসিল নিয়ে মতামত ও প্রস্তাব দিয়েছেন। তাদের লিখিত প্রস্তাবও দিতে বলা হয়েছে। এসব মতামত কমিটিতে আলোচনা করে চূড়ান্ত প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

বিরোধী দলের অংশগ্রহণের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা বারবারই তাদের আহ্বান জানিয়েছি এবং আহ্বান জানাই। তারা যখনই এই কমিটিতে যোগদান করবেন, আমরা স্বাগত জানাব। আপনাদের যে সমস্ত বক্তব্য আছে, সেগুলো নিয়ে আলোচনা হবে। আলোচনার প্রেক্ষিতে যেগুলো গ্রহণযোগ্য, সবার মতামতের ভিত্তিতে আমরা গ্রহণ করব। এটা ভালো হতো, তারা যদি আলোচনায় অংশগ্রহণ করতেন। তাহলে দলের পক্ষ থেকে উচ্চারিত অনেক বিষয় আমরা ধারণ করতে পারতাম।

তিনি বলেন, আমরা চাই আমাদের মধ্যে পক্ষ থাকুক, বিভক্তি না। জুলাই জাতীয় সনদ আমরা যেভাবে স্বাক্ষরিত করেছি, সেভাবেই বাস্তবায়ন করব। এর বাইরে যেসব বিষয় আলোচনায় আসেনি বা বাদ পড়েছে, সেগুলোও ঐকমত্যের ভিত্তিতে গ্রহণ করতে চাই।

জুলাই জাতীয় সনদ ও বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের অগ্রাধিকার প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন বলেন, প্রায়োরিটি হচ্ছে জুলাই জাতীয় সনদ। তবে আমাদের নির্বাচনী ইশতেহার অনুসারে যে বিষয়গুলো আমরা উল্লেখ করে ম্যান্ডেট পেয়েছি, সেগুলো ধারণ করব।

গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংবিধানের নির্দিষ্ট কিছু অনুচ্ছেদ সংশোধনের ক্ষেত্রে গণভোটের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বিএনপির পক্ষ থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিধানসহ আরও দুটি অনুচ্ছেদকে গণভোটের আওতায় আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, যাতে ভবিষ্যতে কোনো সংসদ এসব বিধান পরিবর্তন করতে চাইলে জনগণের অনুমোদন নিতে হয়।

তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি যেহেতু আমরা একমত হয়েছি, আমরা ধারণ করব। ভবিষ্যতে কোনো পার্লামেন্ট অ্যামেন্ডমেন্ট করে সেটা পরিবর্তন করতে গেলে যেন গণভোটে যেতে হয়, এই চারটা বিধানের সঙ্গে এই দুইটা অন্তর্ভুক্ত করার জন্য একমত হয়েছিল। এটা বিএনপির পক্ষ থেকে প্রস্তাব ছিল।

সালাহউদ্দিন জানান, সংবিধান সংশোধনী বিল সংসদে পাস হওয়ার পর যেসব অনুচ্ছেদের ক্ষেত্রে গণভোটের প্রয়োজন হবে, রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের আগে সেগুলোতে গণভোট হবে।

বিশেষ কমিটির প্রতিবেদন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছি, যাতে ডিসেম্বরের ভিতরে আমরা আমাদের রিপোর্টটা পার্লামেন্টে উপস্থাপন করতে পারি। সেই ক্ষেত্রে এই রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটা বিল আসবে। আমি আশা করি, জানুয়ারি সেশনে, যেটা বছরের প্রথম অধিবেশন, সেই সেশনে বিলটা আসবে।




বিএনপি পানি খাবে, তবে ঘোলা করে খাবে: জামায়াত আমির

বিএনপি পানি খাবে, তবে ঘোলা করে খাবে: জামায়াত আমির
ছবি সংগৃহীত।

জনগণের উদ্দেশ্যে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, "গণভোটে আপনারা ৭০ শতাংশ মানুষ 'হ্যাঁ' বলেছিলেন। সরকার আপনাদের গণভোটকে অগ্রাহ্য করে অপমান করেছে। সেই প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য আমরা রাস্তায় নেমেছি। জনগণের রায়ের বাস্তবায়ন এই বাংলার মাটিতে হবে এবং এই বিএনপিই তা করতে বাধ্য হবে। তারা পানি খাবে, তবে ঘোলা করে খাবে। সরকারকে আমরা বলে দিচ্ছি, আজ ৮ দফা দাবি নিয়ে নেমেছি জনগণের জন্য। জনগণের প্রয়োজনে এই ৮ দফা যেকোনো সময় ১ দফায় পরিণত হতে পারে।"

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড় ৯টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর ভোগড়া বাইপাসের টাঙ্গাইল সড়কে লংমার্চের পথসভায় দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জামায়াত আমির বলেন, "সকাল ৭টায় শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতিবিজড়িত রংপুরের উদ্দেশ্যে আমাদের লংমার্চ শুরু হয়েছে। আমাদের এই লংমার্চ জনগণের ঘরে ঘরে গ্যাস পৌঁছে দেওয়ার দাবিতে, শিল্পের চাকা ঘোরানোর দাবিতে, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের দাবিতে, পানির অভাবে হাহাকার করা মানুষের দুঃখ দূর করার দাবিতে এবং রাস্তাঘাট, হাটবাজার ও টেম্পো স্ট্যান্ডে সর্বত্র চাঁদাবাজি বন্ধ করার দাবিতে। আমাদের এই লংমার্চ দুর্নীতিতে ছেয়ে যাওয়া দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করার দাবিতে। আমাদের লংমার্চ আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যে অবনতি হয়েছে, তা থেকে উত্তরণের দাবিতে আমাদের এই লংমার্চ।"

উপস্থিত জনগণের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, "এগুলো আপনাদের দাবি কি না? আপনাদের দাবিতেই আমরা রাস্তায় নেমেছি, কোনো দলীয় দাবি নিয়ে নামিনি। ১৮ কোটি মানুষের দাবি নিয়ে নেমেছি।"

সকাল ১০টায় ভোগড়া বাইপাসে বক্তব্য দেওয়া শেষে টাঙ্গাইলের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে লংমার্চটি। সকাল সাড় ১০টায় টাঙ্গাইলের নগর জালফৈ বাইপাসে পথসভায় বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। এদিন সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে লংমার্চের উদ্বোধন করেন ডা. শফিকুর রহমান।