রামুতে ইউএনও’র জনমুখী উদ্যোগে সুশাসন দৃঢ় হচ্ছে
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৪৭ অপরাহ্ন

রামুতে ইউএনও’র জনমুখী উদ্যোগে সুশাসন দৃঢ় হচ্ছে

রামুতে ইউএনও’র জনমুখী উদ্যোগে সুশাসন দৃঢ় হচ্ছে
ছবি সংগৃহীত।

রামু উপজেলায় প্রশাসনিক কার্যক্রমে দৃশ্যমান ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ ফজলে রাব্বি চৌধুরীর নেতৃত্বে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি জনমুখী, স্বচ্ছ ও মানবিক প্রশাসন গড়ে তুলতে নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছেন।

দুর্যোগকালীন মানবিক সহায়তায় ইউএনও’র তৎপরতা বিশেষভাবে লক্ষণীয়। অগ্নিকাণ্ড, প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা অসহায় পরিবারের জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। তার সরাসরি তদারকিতে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রণয়ন এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে।

ভূমি ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরাতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং অবৈধ দখল উচ্ছেদে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। এতে সরকারি সম্পত্তি রক্ষা পাচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমছে।

শিক্ষা খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে কাজ করছেন ইউএনও। পাশাপাশি বাল্যবিবাহ, মাদক ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তদারকি জোরদার করা হয়েছে। রোগীদের যথাযথ সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ভেজালবিরোধী অভিযান ও বাজার মনিটরিং কার্যক্রমও নিয়মিত পরিচালিত হচ্ছে।

ডিজিটাল সেবার মাধ্যমে জনগণের দোরগোড়ায় প্রশাসনিক সুবিধা পৌঁছে দিতে অনলাইনে অভিযোগ গ্রহণ ও দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়িয়েছে।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় স্থানীয় থানা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করা হয়েছে। অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

ইউএনও’র এ কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। তাদের মতে, সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধানে ইউএনও আন্তরিকভাবে কাজ করছেন। ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন ও অবৈধ দখল উচ্ছেদে প্রশাসনের দৃঢ় অবস্থান সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তির বিষয়।

সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, শিক্ষা ও সামাজিক সচেতনতামূলক কার্যক্রমে ইউএনও’র উদ্যোগ প্রশংসনীয়, যা সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনছে। স্থানীয় সচেতন মহল ও সমাজকর্মীদের মতে, দুর্যোগের সময় দ্রুত সহায়তা প্রদান এবং স্বচ্ছতার মাধ্যমে ত্রাণ বিতরণ বর্তমান প্রশাসনের একটি বড় অর্জন।

সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, সমন্বিত উদ্যোগ, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপের মাধ্যমে ইউএনও মোঃ ফজলে রাব্বি চৌধুরী রামু উপজেলায় একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তার এ ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে এলাকায় উন্নয়ন ও সুশাসনের ধারা আরও সুদৃঢ় হবে।




দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা

দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা
ছবি সংগৃহীত।

২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে ১৪০০ নম্বরের মধ্যে ১২৯০ পেয়ে জেলায় শীর্ষ স্থান অর্জন করেছেন কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

কৃতী শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা কক্সবাজার শহরের আলীর জাহাল পশ্চিম বড়ুয়া পাড়ার মো. শাহ আলম ও সাজেদা আক্তার সাজুর মেয়ে।

মুনতাহার প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফলের ধারাবাহিকতা:

তাসনিয়া জাহান মুনতাহা এই মাদ্রাসার একজন অনন্য মেধাবী শিক্ষার্থী। সে প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি বার্ষিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে প্রথম বা দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে এসেছে। পুরো শিক্ষাজীবনে সে কখনো তৃতীয় স্থান লাভ করেনি।

সহশিক্ষা কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণ ও সনদের তালিকা:

পড়াশোনার পাশাপাশি জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তাসনিয়া জাহান মুনতাহার অর্জন এবং সনদের সংখ্যা অসামান্য।




ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ

ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ
ছবি সংগৃহীত।

দাখিল পরীক্ষায় চমক দেখাল ইসলামিয়া মহিলা কামিল (অনার্স-মাস্টার্স) মাদ্রাসা, কক্সবাজার।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, মোট ৮৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৫ জন এবং সাধারণ বিভাগে ১ জন।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মোট ১০০০ নম্বরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২৮৪ পেয়ে রেকর্ড গড়ে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে ওয়ার্দা রিহাব। একই বিভাগের তাহমিদা তবচ্ছুম সাওদা গোল্ডেন জিপিএ-৫-সহ কৃতিত্ব দেখিয়েছে। তার প্রাপ্ত নম্বর ১২৩৬।

ফলাফল শিটে দেখা গেছে, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৯ জন ও সাধারণ বিভাগ থেকে ২৮ জনসহ মোট ৩৭ জন পরীক্ষার্থী ‘এ’ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। তা ছাড়া ১৭ জন এ-, ১৫ জন বি, ৭ জন সি এবং ৫ জন এফ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। মোট পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ।

এদিকে জিপিএ-৫-সহ দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা শফিউল হক জিহাদী। তিনি কৃতী ছাত্রীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।




রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক

রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুতে মায়ের হাতে দুই মাসের শিশুপুত্র জবাই হয়ে নির্মমভাবে খুন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদারপাড়ায় এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

নিহত শিশুর নাম রায়ান আহমেদ (বয়স: ২ মাস)। সে মালয়েশিয়াপ্রবাসী আব্দুল মালেকের সন্তান। শিশুর বাবার বাড়ি রাজারকুল সিকদারপাড়ায় হলেও ঘটনাটি ঘটেছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারের (২৩) বাবার বাড়ি চৌকিদারপাড়ায়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রামু থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারকে আটক করে।

এ বিষয়ে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, পরিবারের তথ্যমতে মেয়েটি মানসিক ভারসাম্যহীন এবং পূর্বে তাকে চিকিৎসকও দেখানো হয়েছে।

সকালে শিশুটিকে নিয়ে রান্নাঘরে ঢুকে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। অভিযুক্ত রোমানা আক্তারকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও বলেন, "পরিবার মানসিক সমস্যার কথা বললেও প্রাথমিকভাবে আমরা তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলতে পারি না। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে এবং চিকিৎসাগত পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।"

ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে দেখছে।