রামুতে পুলিশের অভিযানে দেশীয় বন্দুক ও ইয়াবাসহ ডাকাত সেলিম গ্রেপ্তার ‎
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ১২:১৮ অপরাহ্ন

রামুতে পুলিশের অভিযানে দেশীয় বন্দুক ও ইয়াবাসহ ডাকাত সেলিম গ্রেপ্তার ‎

রামুতে পুলিশের অভিযানে দেশীয় বন্দুক ও ইয়াবাসহ ডাকাত সেলিম গ্রেপ্তার ‎
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুতে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও দেশীয় সচল আগ্নেয়াস্ত্রসহ মো. সেলিম (২৮) নামের এক কুখ্যাত শীর্ষ সন্ত্রাসী, ছিনতাইকারী ও ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে রামু থানা-পুলিশ। ধৃত আসামির বিরুদ্ধে আগের আরও ৯টি অপরাধমূলক মামলা রয়েছে।

গত ১৭ মে (রবিবার) বিকেল ও রাতে পৃথক স্থানে ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার এবং অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ.এন.এম সাজেদুর রহমানের নির্দেশনা এবং সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ... সুপার মাহমুদুল হাসানের তত্ত্বাবধানে এই অভিযান পরিচালিত হয়। রামু থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়ার নেতৃত্বে এসআই জয়নাল আবদীন সংগীয় ফোর্সসহ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রথম অভিযানটি চালান। বিকেল আনুমানিক ৭টায় রামু থানাধীন জোয়ারিয়ানালা ইউপির রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিপরীতে আবুর দোকানের সামনে থেকে মাদক ব্যবসায়ী সেলিমকে আটক করা হয়। এ সময় তার হেফাজত থেকে ৬০ হাজার টাকা মূল্যের ২০০ পিস অ্যামফিটামিনযুক্ত ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় জনসাধারণ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা জানান, গ্রেপ্তারকৃত সেলিম ওই অঞ্চলের একজন চিহ্নিত ছিনতাইকারী ও ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য। সে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটিয়ে আসছিল।

পরবর্তীতে পুলিশের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সেলিম নিজের কাছে অবৈধ অস্ত্র থাকার কথা স্বীকার করে। তার দেওয়া তথ্য ও স্বীকারোক্তি মোতাবেক একই দিন রাত ৯টা ১৫ মিনিটে ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাইট্টা পোল নামক ব্রিজের পশ্চিম পাশের পিলারের নিচে অভিযান চালানো হয়। সেখানে লতাপাতা দিয়ে লুকিয়ে রাখা অবস্থা থেকে আসামি সেলিম নিজ হাতে একটি সচল দেশীয় একনলা বন্দুক (বাটসহ দৈর্ঘ্য ৪৮ ইঞ্চি, ট্রিগার ও ফায়ারিং পিন সংযুক্ত) বের করে দেয় এবং পুলিশ সেটি জব্দ করে।

গ্রেপ্তারকৃত মো. সেলিম (২৮) রামুর ৫ নম্বর ফতেখাঁরকুল ইউপির ২ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম মেরুংলোয়া এলাকার নুরুল হক ও রেহানা আক্তারের ছেলে। বর্তমানে সে খুনিয়াপালং ইউনিয়নের পাইনবাগান এলাকায় বসবাস করছিল।
‎​
পুলিশ জানায়, সেলিমের বিরুদ্ধে রামু ও কক্সবাজার সদর থানায় আগের ৯টি গুরুতর মামলা রয়েছে। যার মধ্যে দণ্ডবিধির (পেনাল কোড) অধীনে ডাকাতির প্রস্তুতি, ছিনতাই, চুরি, মারামারি ও হত্যাচেষ্টা মামলাসহ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন এবং আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইনের একাধিক মামলা রয়েছে।

অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারের এই ঘটনায় আসামির বিরুদ্ধে রামু থানায় নতুন করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।




দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা

দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা
ছবি সংগৃহীত।

২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে ১৪০০ নম্বরের মধ্যে ১২৯০ পেয়ে জেলায় শীর্ষ স্থান অর্জন করেছেন কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

কৃতী শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা কক্সবাজার শহরের আলীর জাহাল পশ্চিম বড়ুয়া পাড়ার মো. শাহ আলম ও সাজেদা আক্তার সাজুর মেয়ে।

মুনতাহার প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফলের ধারাবাহিকতা:

তাসনিয়া জাহান মুনতাহা এই মাদ্রাসার একজন অনন্য মেধাবী শিক্ষার্থী। সে প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি বার্ষিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে প্রথম বা দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে এসেছে। পুরো শিক্ষাজীবনে সে কখনো তৃতীয় স্থান লাভ করেনি।

সহশিক্ষা কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণ ও সনদের তালিকা:

পড়াশোনার পাশাপাশি জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তাসনিয়া জাহান মুনতাহার অর্জন এবং সনদের সংখ্যা অসামান্য।




ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ

ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ
ছবি সংগৃহীত।

দাখিল পরীক্ষায় চমক দেখাল ইসলামিয়া মহিলা কামিল (অনার্স-মাস্টার্স) মাদ্রাসা, কক্সবাজার।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, মোট ৮৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৫ জন এবং সাধারণ বিভাগে ১ জন।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মোট ১০০০ নম্বরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২৮৪ পেয়ে রেকর্ড গড়ে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে ওয়ার্দা রিহাব। একই বিভাগের তাহমিদা তবচ্ছুম সাওদা গোল্ডেন জিপিএ-৫-সহ কৃতিত্ব দেখিয়েছে। তার প্রাপ্ত নম্বর ১২৩৬।

ফলাফল শিটে দেখা গেছে, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৯ জন ও সাধারণ বিভাগ থেকে ২৮ জনসহ মোট ৩৭ জন পরীক্ষার্থী ‘এ’ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। তা ছাড়া ১৭ জন এ-, ১৫ জন বি, ৭ জন সি এবং ৫ জন এফ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। মোট পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ।

এদিকে জিপিএ-৫-সহ দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা শফিউল হক জিহাদী। তিনি কৃতী ছাত্রীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।




রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক

রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুতে মায়ের হাতে দুই মাসের শিশুপুত্র জবাই হয়ে নির্মমভাবে খুন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদারপাড়ায় এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

নিহত শিশুর নাম রায়ান আহমেদ (বয়স: ২ মাস)। সে মালয়েশিয়াপ্রবাসী আব্দুল মালেকের সন্তান। শিশুর বাবার বাড়ি রাজারকুল সিকদারপাড়ায় হলেও ঘটনাটি ঘটেছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারের (২৩) বাবার বাড়ি চৌকিদারপাড়ায়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রামু থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারকে আটক করে।

এ বিষয়ে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, পরিবারের তথ্যমতে মেয়েটি মানসিক ভারসাম্যহীন এবং পূর্বে তাকে চিকিৎসকও দেখানো হয়েছে।

সকালে শিশুটিকে নিয়ে রান্নাঘরে ঢুকে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। অভিযুক্ত রোমানা আক্তারকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও বলেন, "পরিবার মানসিক সমস্যার কথা বললেও প্রাথমিকভাবে আমরা তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলতে পারি না। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে এবং চিকিৎসাগত পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।"

ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে দেখছে।