রামুতে বনভূমি ও বাঁকখালী নদী দখলে নিয়ে বাড়ছে তামাক চাষ
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৪৭ অপরাহ্ন

রামুতে বনভূমি ও বাঁকখালী নদী দখলে নিয়ে বাড়ছে তামাক চাষ

রামুতে বনভূমি ও বাঁকখালী নদী দখলে নিয়ে বাড়ছে তামাক চাষ
ছবি সংগৃহীত।


কক্সবাজারের রামুতে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা ও কৃষি বিভাগের সচেতনতামূলক কার্যক্রমকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সংরক্ষিত বনভূমি এবং বাঁকখালী নদীর তীরে তামাক চাষের মহোৎসব চলছে। তামাক কোম্পানিগুলোর সহজ শর্তে ঋণ ও সারের প্রলোভনে গত বছরের তুলনায় এবার চাষের পরিধি দ্বিগুণ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এতে বনাঞ্চল উজাড় হওয়ার পাশাপাশি মারাত্মক পরিবেশগত ও স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়েছে পর্যটন নগরী কক্সবাজারের এই জনপদ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার কচ্ছপিয়া, গর্জনিয়া, ঈদগড়, কাউয়ারখোপ এবং রাজারকূলসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির পাশাপাশি সরকারি খাস জমি ও সামাজিক বনায়নের এলাকা দখল করে তামাকের আবাদ করা হচ্ছে। বিশেষ করে বাঁকখালী নদীর দুই তীর এখন তামাকের সবুজ পাতায় ঢাকা। অভিযোগ উঠেছে, তামাক কোম্পানিগুলো চড়া দামে জমি বর্গা নেওয়ায় সাধারণ কৃষকেরা ধান বা সবজি চাষ বাদ দিয়ে ক্ষতিকর এই চাষের দিকে ঝুঁকছেন।

স্থানীয় কৃষক আবু তালেব জানান, তামাকের পাতা বড় করতে জমিতে অতিরিক্ত ইউরিয়া সার ব্যবহার করা হয়, যা মাটির উর্বরতা নষ্ট করছে। এছাড়া তামাক পাতা পোড়ানোর জন্য বনাঞ্চলের কাঠ দিয়ে কয়েক হাজার অবৈধ চুল্লি তৈরির প্রস্তুতি চলছে। এর ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি ও বনাঞ্চল উজাড় হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

বনভূমিতে তামাক চাষের সত্যতা স্বীকার করে বাঁকখালী বিট কর্মকর্তা মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, “কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি সংরক্ষিত বনাঞ্চল দখল করে অবৈধভাবে তামাক চাষ করছেন। ইতিমধ্যে ডাক্তার কাটা ও গোল ডেবা এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পেলে অবশিষ্ট অবৈধ চাষাবাদ ও স্থাপনা দ্রুত উচ্ছেদ করা হবে।”

সংশ্লিষ্ট কৃষি বিভাগ ও সচেতন মহল মনে করছে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই তামাক চাষের বিষে বনাঞ্চল ও নদীর স্বাভাবিক জীববৈচিত্র্য স্থায়ীভাবে ধ্বংস হয়ে যাবে।

 




দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা

দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা
ছবি সংগৃহীত।

২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে ১৪০০ নম্বরের মধ্যে ১২৯০ পেয়ে জেলায় শীর্ষ স্থান অর্জন করেছেন কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

কৃতী শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা কক্সবাজার শহরের আলীর জাহাল পশ্চিম বড়ুয়া পাড়ার মো. শাহ আলম ও সাজেদা আক্তার সাজুর মেয়ে।

মুনতাহার প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফলের ধারাবাহিকতা:

তাসনিয়া জাহান মুনতাহা এই মাদ্রাসার একজন অনন্য মেধাবী শিক্ষার্থী। সে প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি বার্ষিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে প্রথম বা দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে এসেছে। পুরো শিক্ষাজীবনে সে কখনো তৃতীয় স্থান লাভ করেনি।

সহশিক্ষা কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণ ও সনদের তালিকা:

পড়াশোনার পাশাপাশি জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তাসনিয়া জাহান মুনতাহার অর্জন এবং সনদের সংখ্যা অসামান্য।




ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ

ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ
ছবি সংগৃহীত।

দাখিল পরীক্ষায় চমক দেখাল ইসলামিয়া মহিলা কামিল (অনার্স-মাস্টার্স) মাদ্রাসা, কক্সবাজার।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, মোট ৮৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৫ জন এবং সাধারণ বিভাগে ১ জন।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মোট ১০০০ নম্বরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২৮৪ পেয়ে রেকর্ড গড়ে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে ওয়ার্দা রিহাব। একই বিভাগের তাহমিদা তবচ্ছুম সাওদা গোল্ডেন জিপিএ-৫-সহ কৃতিত্ব দেখিয়েছে। তার প্রাপ্ত নম্বর ১২৩৬।

ফলাফল শিটে দেখা গেছে, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৯ জন ও সাধারণ বিভাগ থেকে ২৮ জনসহ মোট ৩৭ জন পরীক্ষার্থী ‘এ’ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। তা ছাড়া ১৭ জন এ-, ১৫ জন বি, ৭ জন সি এবং ৫ জন এফ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। মোট পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ।

এদিকে জিপিএ-৫-সহ দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা শফিউল হক জিহাদী। তিনি কৃতী ছাত্রীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।




রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক

রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুতে মায়ের হাতে দুই মাসের শিশুপুত্র জবাই হয়ে নির্মমভাবে খুন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদারপাড়ায় এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

নিহত শিশুর নাম রায়ান আহমেদ (বয়স: ২ মাস)। সে মালয়েশিয়াপ্রবাসী আব্দুল মালেকের সন্তান। শিশুর বাবার বাড়ি রাজারকুল সিকদারপাড়ায় হলেও ঘটনাটি ঘটেছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারের (২৩) বাবার বাড়ি চৌকিদারপাড়ায়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রামু থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারকে আটক করে।

এ বিষয়ে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, পরিবারের তথ্যমতে মেয়েটি মানসিক ভারসাম্যহীন এবং পূর্বে তাকে চিকিৎসকও দেখানো হয়েছে।

সকালে শিশুটিকে নিয়ে রান্নাঘরে ঢুকে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। অভিযুক্ত রোমানা আক্তারকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও বলেন, "পরিবার মানসিক সমস্যার কথা বললেও প্রাথমিকভাবে আমরা তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলতে পারি না। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে এবং চিকিৎসাগত পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।"

ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে দেখছে।