রামুর বিকেএসপি আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৪০ পূর্বাহ্ন

রামুর বিকেএসপি আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক

রামুর বিকেএসপি আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক
ছবি সংগৃহীত।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মোঃ আমিনুল হক কক্সবাজারের রামুতে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি) আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন।শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিকেলে রামুর জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নে প্রতিষ্ঠিত বিকেএসপি পরিদর্শনে আসেন।


এ সময় তিনি কেন্দ্রটির সার্বিক কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং প্রশিক্ষণরত ক্রীড়াবিদদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার-৩ (সদর, রামু ও ঈদগাঁও) আসনের সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান কাজল, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আবদুল মান্নান,বিকেএসপির আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উপপরিচালক রোকন উদ্দিন আহমেদ,রামু থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূইয়া,মন্ত্রনালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং বিএনপির জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।


প্রতিমন্ত্রী কেন্দ্রটিতে পৌঁছে প্রথমে বিভিন্ন ক্রীড়া অবকাঠামো, প্রশিক্ষণ মাঠ ও সুবিধাদি পরিদর্শন করেন। পরে তিনি বিভিন্ন ডিসিপ্লিনে প্রশিক্ষণরত খেলোয়াড়দের অনুশীলন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন এবং তাদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের অগ্রগতি, সুযোগ-সুবিধা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।


প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার ক্রীড়াঙ্গনকে একটি টেকসই ও সম্ভাবনাময় পেশা হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, ক্রীড়াকে পেশায় রূপান্তর করতে বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে এবং দেশের প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদদের বেতন কাঠামোর আওতায় আনার উদ্যোগ বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় খুঁজে বের করে আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়াবিদ হিসেবে গড়ে তুলতে বিকেএসপির মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর বিকল্প নেই। এসব প্রতিষ্ঠানকে আরও আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে।”


এ সময় উপস্থিত স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা কেন্দ্রটির উন্নয়ন ও সম্ভাবনা নিয়ে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তারা কক্সবাজার অঞ্চলে ক্রীড়া অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং প্রশিক্ষণের মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সহায়তার কথাও তুলে ধরেন।


সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রতিমন্ত্রীর এই পরিদর্শন কেবল একটি আনুষ্ঠানিক সফর নয়; বরং এটি স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। এর মাধ্যমে ক্রীড়া উন্নয়নে সরকারি উদ্যোগ আরও গতিশীল হবে এবং তরুণ ক্রীড়াবিদরা অনুপ্রাণিত হবে।


উল্লেখ্য, কক্সবাজারের রামুতে অবস্থিত বিকেএসপি আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি দক্ষিণাঞ্চলের সম্ভাবনাময় ক্রীড়াবিদদের প্রশিক্ষণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচিত। এখানে বিভিন্ন খেলায় নিয়মিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, যা জাতীয় পর্যায়ে দক্ষ খেলোয়াড় গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।




দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা

দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা
ছবি সংগৃহীত।

২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে ১৪০০ নম্বরের মধ্যে ১২৯০ পেয়ে জেলায় শীর্ষ স্থান অর্জন করেছেন কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

কৃতী শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা কক্সবাজার শহরের আলীর জাহাল পশ্চিম বড়ুয়া পাড়ার মো. শাহ আলম ও সাজেদা আক্তার সাজুর মেয়ে।

মুনতাহার প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফলের ধারাবাহিকতা:

তাসনিয়া জাহান মুনতাহা এই মাদ্রাসার একজন অনন্য মেধাবী শিক্ষার্থী। সে প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি বার্ষিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে প্রথম বা দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে এসেছে। পুরো শিক্ষাজীবনে সে কখনো তৃতীয় স্থান লাভ করেনি।

সহশিক্ষা কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণ ও সনদের তালিকা:

পড়াশোনার পাশাপাশি জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তাসনিয়া জাহান মুনতাহার অর্জন এবং সনদের সংখ্যা অসামান্য।




ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ

ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ
ছবি সংগৃহীত।

দাখিল পরীক্ষায় চমক দেখাল ইসলামিয়া মহিলা কামিল (অনার্স-মাস্টার্স) মাদ্রাসা, কক্সবাজার।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, মোট ৮৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৫ জন এবং সাধারণ বিভাগে ১ জন।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মোট ১০০০ নম্বরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২৮৪ পেয়ে রেকর্ড গড়ে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে ওয়ার্দা রিহাব। একই বিভাগের তাহমিদা তবচ্ছুম সাওদা গোল্ডেন জিপিএ-৫-সহ কৃতিত্ব দেখিয়েছে। তার প্রাপ্ত নম্বর ১২৩৬।

ফলাফল শিটে দেখা গেছে, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৯ জন ও সাধারণ বিভাগ থেকে ২৮ জনসহ মোট ৩৭ জন পরীক্ষার্থী ‘এ’ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। তা ছাড়া ১৭ জন এ-, ১৫ জন বি, ৭ জন সি এবং ৫ জন এফ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। মোট পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ।

এদিকে জিপিএ-৫-সহ দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা শফিউল হক জিহাদী। তিনি কৃতী ছাত্রীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।




রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক

রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুতে মায়ের হাতে দুই মাসের শিশুপুত্র জবাই হয়ে নির্মমভাবে খুন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদারপাড়ায় এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

নিহত শিশুর নাম রায়ান আহমেদ (বয়স: ২ মাস)। সে মালয়েশিয়াপ্রবাসী আব্দুল মালেকের সন্তান। শিশুর বাবার বাড়ি রাজারকুল সিকদারপাড়ায় হলেও ঘটনাটি ঘটেছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারের (২৩) বাবার বাড়ি চৌকিদারপাড়ায়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রামু থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারকে আটক করে।

এ বিষয়ে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, পরিবারের তথ্যমতে মেয়েটি মানসিক ভারসাম্যহীন এবং পূর্বে তাকে চিকিৎসকও দেখানো হয়েছে।

সকালে শিশুটিকে নিয়ে রান্নাঘরে ঢুকে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। অভিযুক্ত রোমানা আক্তারকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও বলেন, "পরিবার মানসিক সমস্যার কথা বললেও প্রাথমিকভাবে আমরা তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলতে পারি না। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে এবং চিকিৎসাগত পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।"

ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে দেখছে।