রেকর্ড উৎপাদন ও বিশ্ববাজারে দরপতন: নতুন বছরে খাদ্যপণ্যের দামে স্বস্তির আভাস

বৈশ্বিক বাজারে পণ্যমূল্য হ্রাস এবং দেশে দানাদার খাদ্যের রেকর্ড উৎপাদনের ওপর ভর করে ২০২৬ সালে বাংলাদেশের খাদ্যপণ্যের বাজারে বড় ধরনের স্বস্তির আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ বছর বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম গত ছয় বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসতে পারে, যার ইতিবাচক প্রভাব আমদানিনির্ভর বাংলাদেশের বাজারেও পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫ সালে পণ্যমূল্য ৭ শতাংশ কমার পর ২০২৬ সালেও আরও ৭ শতাংশ দরপতনের সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষি অর্থনীতিবিদ জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, "এবার বৈশ্বিক আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গম, ভুট্টা ও মসলাজাতীয় ফসলের উৎপাদন বেড়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে এসব পণ্যের দাম কয়েক বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। আসন্ন বোরো মৌসুমের উৎপাদন ভালো হলে দেশের মানুষ এর সুফল সরাসরি পাবেন।"
দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের চিত্রও বেশ আশাব্যঞ্জক। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) তথ্যমতে, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে দানাদার খাদ্যের উৎপাদন প্রথমবারের মতো ৫ কোটি টন ছাড়িয়েছে (৫ কোটি ৩ লাখ টন)। চলতি ২০২৫-২৬ মৌসুমেও ৫৯ লাখ হেক্টরের বেশি জমিতে আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে। ডিএইর ফিল্ড উইংয়ের পরিচালক মো. ওবাদুর রহমান মন্ডল জানান, "ফলন ভালো হওয়ায় এ বছর ব্যবসায়ীদের চাল আমদানি করতে হয়নি, যা বাজারের ওপর চাপ কমিয়েছে।"
তবে বৈশ্বিক দরপতনের সুফল ভোক্তাপর্যায়ে পৌঁছাতে প্রধান বাধা হিসেবে বাজার ব্যবস্থাপনার অদক্ষতাকে চিহ্নিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক সেলিম রায়হান বলেন, "জ্বালানি ব্যয় ও বাজার ব্যবস্থাপনায় অদক্ষতার কারণে অনেক সময় বিশ্ববাজারের সুফল সাধারণ মানুষ পায় না। পাইকারি থেকে খুচরা পর্যন্ত অতি মুনাফা ও অস্বচ্ছ বাণিজ্যিক শৃঙ্খলা দূর করা গেলে ২০২৬ সালে প্রকৃত স্বস্তি মিলবে।"
খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে সরকারি গুদামে রেকর্ড ১৪ লাখ ৪৯ হাজার টন খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে। পাশাপাশি সরকার ওএমএস ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের এক কোটিরও বেশি নিম্নআয়ের মানুষকে ভর্তুকিমূল্যে খাদ্য সহায়তা দিচ্ছে। খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ ইউনিটের (এফপিএমইউ) মহাপরিচালক মো. মাহবুবুর রহমান নিশ্চিত করেছেন যে, দেশে বর্তমানে খাদ্যের কোনো ঘাটতি নেই এবং পর্যাপ্ত মজুত বজায় রাখা হয়েছে।












