লক্ষ্মীছড়িতে ইউএনও হিসেবে যোগদান করলেন মো. রিফাতুল ইসলাম
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৪৭ অপরাহ্ন

লক্ষ্মীছড়িতে ইউএনও হিসেবে যোগদান করলেন মো. রিফাতুল ইসলাম

লক্ষ্মীছড়িতে ইউএনও হিসেবে যোগদান করলেন মো. রিফাতুল ইসলাম
ছবি সংগৃহীত।

খাগড়াছড়ি জেলার লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে যোগদান করেছেন মো. রিফাতুল ইসলাম। গত সোমবার তিনি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যোগদান করেন। আজ ৪ আগস্ট মঙ্গলবার সকালে মো. রিফাতুল ইসলাম লক্ষ্মীছড়ি উপজেলায় পৌঁছালে তাঁকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

পরে উপস্থিত সবার সাথে কুশল বিনিময় করেন নবাগত ইউএনও। একে একে পরিচিত হন বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বিএনপি নেতা, জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সাথে।

যোগদানের প্রথম দিনটি কর্মব্যস্ততায় কাটে নবাগত ইউএনও-র। জানা গেছে, ছোট ছোট বৈঠক করার পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড জরিপের সুপারভাইজার ও তথ্যসংগ্রহকারী নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা বোর্ডে তাঁর বেশিরভাগ সময় কাটে। মো. রিফাতুল ইসলাম এর আগে নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

গত ৬ জুলাই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাঁকে লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে পদায়ন করা হয়।

জানা গেছে, তিনি ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে ঢাকার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। নবাগত মো. রিফাতুল ইসলামের জন্ম মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলায়। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত ও এক কন্যাসন্তানের জনক। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করে ৩৭তম বিসিএসের মাধ্যমে রাজশাহীতে প্রথম চাকরিতে যোগদান করেন।

উল্লেখ্য, লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কাউছার হামিদ গত ২০ জুলাই ফেনী জেলার ফুলগাজী উপজেলায় বদলি হন। মানিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আফরোজ ভূঁইয়া এতদিন লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছিলেন।




বিজিবির বিশেষ অভিযানের পাশাপাশি শিক্ষা, জনকল্যাণ ও মানবিক উদ্যোগ

বিজিবির বিশেষ অভিযানের পাশাপাশি শিক্ষা, জনকল্যাণ ও মানবিক উদ্যোগ
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের থানচিতে দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর সমন্বয়ে ৬-১২ আগস্ট পর্যন্ত বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

এরই ধারাবাহিকতায় ক্যচুপাড়া এলাকায় বেইজ ক্যাম্প স্থাপন করে সমন্বিতভাবে আভিযানিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, চলমান বিশেষ অভিযানের কার্যক্রম পরিদর্শন ও দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিতে আজ ক্যচুপাড়া বেইজ ক্যাম্প পরিদর্শন করেন বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ইয়াসির আরাফাত হোসেন, বিপিএমএস, পদাতিক। এ সময় তিনি সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং সর্বোচ্চ পেশাদারত্ব, সতর্কতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সঙ্গে আস্থা, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির সম্পর্ক অটুট রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সীমান্ত রক্ষার পাশাপাশি মানুষের পাশে দাঁড়ানোই বিজিবির অঙ্গীকার। সেই অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে জোন অধিনায়ক ক্যচুপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৫০ জন শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষা-সহায়ক সামগ্রী ও আর্থিক অনুদান বিতরণ করেন। একই সঙ্গে স্থানীয় পাড়াবাসীর মাঝেও শিক্ষা-সহায়ক সামগ্রী ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।

এ সময় শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনা ও বিদ্যালয়ে উপস্থিতির জন্য উৎসাহিত করার পাশাপাশি দুর্গম অঞ্চলের শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে বিজিবির সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। পাড়াবাসীর সঙ্গে মতবিনিময়কালে স্থানীয়দের সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং সীমান্তের নিরাপত্তা থেকে মানুষের কল্যাণ—প্রতিটি প্রয়োজনে বিজিবি পাশে থাকবে বলে আশ্বস্ত করেন।

দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং মানুষের কল্যাণে মানবিক—এই দ্বৈত অঙ্গীকারকে ধারণ করে বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম একসঙ্গে এগিয়ে নিচ্ছে।

নিরাপত্তায় অটুট, মানবিকতায় অগ্রণী—জনগণের আস্থার সঙ্গে এগিয়ে চলছে বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি)।




নাইক্ষ্যংছড়িতে ইজিবাইকসহ ৩০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার

নাইক্ষ্যংছড়িতে ইজিবাইকসহ ৩০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়িতে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ইজিবাইকসহ ৩০ হাজার ১০০ পিস বার্মিজ ইয়াবা উদ্ধার করেছে নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি)। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বেলা আনুমানিক ১১টা ১৫ মিনিটে নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন সদর থেকে প্রায় ৫০০ গজ দূরে আম্মাজান কমিউনিটি সেন্টারের কাছে সেতুসংলগ্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১১ বিজিবির একটি বিশেষ আভিযানিক দল ওই এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় সন্দেহজনক একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইককে ধাওয়া করা হলে চালক ও ইয়াবা বহনকারী ব্যক্তি ইজিবাইক এবং সঙ্গে থাকা ইয়াবা ফেলে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় ইজিবাইকসহ তিন কার্টনে ৩০ হাজার ১০০ পিস বার্মিজ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা ইয়াবা ও ইজিবাইক পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “দেশের সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান ও মানবপাচার প্রতিরোধ, অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং মাদক পাচার প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে বিজিবি কাজ করে যাচ্ছে। সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।”




এসএসসিতে এফসিএইচ-এর বাজিমাত, ভালো ফলাফলে উৎসবের আমেজ

এসএসসিতে এফসিএইচ-এর বাজিমাত, ভালো ফলাফলে উৎসবের আমেজ
ছবি সংগৃহীত।

২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে বান্দরবানের বেসরকারি কোচিং প্রতিষ্ঠান 'ফারুক কোচিং হোম' (এফসিএইচ)-এর শিক্ষার্থীরা ভালো ফলাফল অর্জন করেছে। এবারের পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির অধিকাংশ শিক্ষার্থী কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হওয়ায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে আনন্দ-উচ্ছ্বাস।

এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর এফসিএইচ-এ তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জনের পর অনেক শিক্ষার্থী তাদের প্রিয় শিক্ষকদের সঙ্গে দেখা করে। কেউ কেউ মিষ্টি নিয়ে গিয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে সাফল্যের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যকার আন্তরিক সম্পর্কের চিত্র ফুটে ওঠে।

এফসিএইচ-এর সংশ্লিষ্টরা জানান, শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা, নিয়মিত পড়াশোনার তদারকি এবং এসএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রিক প্রস্তুতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী বাড়তি সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক গোলাম ফারুক বলেন, “একজন শিক্ষক হিসেবে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলের দিনে শিক্ষার্থীদের মুখে হাসি দেখার চেয়ে বড় পাওয়া আর কিছু হতে পারে না। তাদের সাফল্যই আমার সবচেয়ে বড় আনন্দ ও অর্জন। এই সাফল্যের পেছনে শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রম, অভিভাবকদের সহযোগিতা, শিক্ষকদের আন্তরিকতা এবং সর্বোপরি মহান আল্লাহর রহমত রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধু এসএসসি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করানো নয়; শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য যোগ্য, সৎ ও আত্মবিশ্বাসী মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা। তারা জীবনের প্রতিটি পরীক্ষায় যেন সফল হতে পারে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”

এফসিএইচ-এর শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরাও। তাদের মতে, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পরিচর্যা, শিক্ষকদের আন্তরিকতা এবং অভিভাবকদের সঙ্গে সমন্বয় ভালো ফলাফলের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

এদিকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় এফসিএইচ-এর অধিকাংশ শিক্ষার্থীর ভালো ফলাফল প্রতিষ্ঠানটির প্রতি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আস্থা আরও বাড়িয়েছে। বান্দরবানে শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফল ও একাডেমিক প্রস্তুতির ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

আগামী দিনেও শিক্ষার্থীদের আরও ভালো ফলাফল অর্জন এবং তাদের স্বপ্ন পূরণে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় জানিয়েছে ফারুক কোচিং হোম।