লামায় খেলাফত মজলিসের নাগরিক সমাবেশ: গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে আল্লামা মামুনুল হকের হুঁশিয়ারি

বান্দরবানের লামা পৌর বাস টার্মিনালে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস বান্দরবান দক্ষিণ জেলার উদ্যোগে এক বিশাল নাগরিক সমাবেশ-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টায় লামা পৌর বাস টার্মিনাল প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির, শাইখুল হাদিস আল্লামা মামুনুল হক।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আল্লামা মামুনুল হক বলেন, "গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সংসদ নির্বাচনে গণভোট ৭০% ভোট পেয়ে জয়যুক্ত হলেও বর্তমান সরকার গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে নানা টালবাহানা শুরু করেছে।" তিনি সরকারের তীব্র সমালোচনা করে আরও বলেন, "বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে দেশে তেল, বিদ্যুৎ ও সারসংকট চরম আকার ধারণ করেছে। অথচ সরকারের দায়িত্বশীল মন্ত্রীরা সংসদে বসে বুক উঁচিয়ে বলেন দেশে কোনো ঘাটতি নেই। বাস্তবে মাঠপর্যায়ে কৃষকরা সার পাচ্ছেন না, দেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাস নেই, ফলে জনজীবন পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।" বিগত সরকারের আমল স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, "গত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে আলেম-ওলামাদের কোনো সভা-সমাবেশ করতে দেওয়া হয়নি। মিথ্যা মামলা ও হামলা দিয়ে তাঁদের ওপর নির্মম নির্যাতন চালানো হয়েছিল। পুলিশ বাহিনীর কাজ জনগণের সেবা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা, কিন্তু বিগত সরকার তাদের দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করে 'লীগ বাহিনীতে' পরিণত করেছিল, যা আজ দেশের মানুষের কাছে স্পষ্ট।" বক্তব্যে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, 'তারেক জিয়া যেন আরেকটি শেখ হাসিনা তৈরি না হন'।
বান্দরবান দক্ষিণ জেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ তৈয়ব হোসেনের সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য ও জেলা সেক্রেটারি ডা. মাওলানা শফিকুর রহমানের সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন সংগঠনের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন আহমদ। সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আবু সাইদ নোমান ও ১১-দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় ওলামায়ে কেরাম।
সমাবেশে বক্তারা ইসলামের মূলনীতির আলোকে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও খেলাফত রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং সাধারণ জনগণকে একত্রিত হয়ে আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানকে ঘিরে স্থানীয় সর্বস্তরের জনগণের ব্যাপক উপস্থিতি ও উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ করা গেছে।










