লামায় ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:৪৫ অপরাহ্ন

লামায় ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ

লামায় ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ডের 'তথ্য সংগ্রহকারী' ও 'সুপারভাইজার' পদের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম, নিষিদ্ধঘোষিত রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের অগ্রাধিকার প্রদান এবং একই পরিবার থেকে একাধিক সদস্যকে চূড়ান্তভাবে মনোনীত করার অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার (২৯ জুলাই) এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলাফল স্থগিতের দাবি জানিয়ে লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। লামা উপজেলার সাধারণ বাসিন্দাদের পক্ষে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ তথ্য সংগ্রহকারী ও ছাত্রদল নেতা ইমন শরীফ এ অভিযোগপত্রটি জমা দেন।

লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ২২ জুলাই ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির আলোকে ২৮ জুলাই ২০২৬ তারিখে উক্ত পদে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষার পর ইউএনও কার্যালয় থেকে প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলাফলে নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের একাধিক নেতাকর্মী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

প্রকাশিত তালিকায় অর্ধেকেরও বেশি সদস্য আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের সাথে সরাসরি যুক্ত বা তাঁদের পরিবারের সদস্য। চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পাওয়া বিতর্কিত ব্যক্তিবর্গ বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় বিএনপি ও ফ্যামিলি কার্ডের বিষয়ে অপপ্রচার চালিয়েছিলেন এবং বিরোধিতা করেছিলেন। এ ধরনের বিতর্কিত নিয়োগের খবরে লামার স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা বিতর্ক ও সমালোচনার ঝড় বইছে।

অভিযোগকারী ইমন শরীফ প্রকাশিত বিতর্কিত নিয়োগ তালিকাটি অবিলম্বে স্থগিত করার জোর দাবি জানান। তিনি বলেন, "বিতর্কিত ও একই পরিবারের একাধিক সদস্যকে বাদ দিয়ে মেধাবী এবং ফ্যামিলি কার্ড প্রক্রিয়ার যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়া জরুরি।"

উক্ত লিখিত অভিযোগপত্রটির অনুলিপি প্রয়োজনীয় অবগতির জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা/মন্ত্রী, ৩০০ নম্বর বান্দরবান আসনের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী এবং বান্দরবান পার্বত্য জেলার জেলা প্রশাসক বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে।

লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)-এর অতিরিক্ত দায়িত্বে নিয়োজিত মনজুর আলম জানান, "অভিযোগের বিষয়ে আমি অবগত নই; অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"




নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম বিজিবির অভিযানে ৩৯,৯২৪ পিস ইয়াবাসহ আটক ২

নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম বিজিবির অভিযানে ৩৯,৯২৪ পিস ইয়াবাসহ আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

বিজিবির বিশেষ অভিযানে ২ জন আসামিসহ ৩৯,৯২৪ পিস বার্মিজ ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়েছে। কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি)-এর ঘুমধুম বিওপির টহল দল এক মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ৩৯,৯২৪ পিস বার্মিজ ইয়াবা ট্যাবলেটসহ ২ জন আসামিকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে। কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম, পিবিজিএম, পিএসসি এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

গত ১১ আগস্ট ২০২৬ রাতে কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি)-এর অধীনস্থ ঘুমধুম বিওপির একটি চৌকস আভিযানিক টহল দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সীমান্ত পিলার-৩২ থেকে আনুমানিক ২০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ‘জামালের ঘের’ নামক স্থানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে এফডিএমএন সদস্য কলিমুল্লাহ (২৫), পিতা: কবির আহমেদ, এফডিএমএন ক্যাম্প-০১, ব্লক-বি/১ এবং সিরাজুল মোস্তফা (২৪), পিতা: জাকির আহমেদ, এফডিএমএন ক্যাম্প-০১, ব্লক-বি/২—এদের ৩৯,৯২৪ পিস বার্মিজ ইয়াবাসহ আটক করা হয়।

উল্লেখ্য, আটক আসামিদের বার্মিজ ইয়াবা ট্যাবলেটসহ প্রচলিত আইন অনুযায়ী থানায় মামলা দায়েরপূর্বক পুলিশের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

অধিনায়ক বলেন, “বিজিবি শুধু সীমান্ত পাহারাতেই নয়, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধেও সমানভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

 

 

উল্লেখ্য, কক্সবাজার রিজিয়নের রামু সেক্টরের অধীনস্থ কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত সুরক্ষা এবং মাদকসহ নানা অবৈধ কার্যক্রম দমনে সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আসছে। এসব অভিযানের ফলে সীমান্তবাসীর মধ্যে আস্থা ও স্বস্তি ফিরে এসেছে।

 

 




বিজিবির বিশেষ অভিযানের পাশাপাশি শিক্ষা, জনকল্যাণ ও মানবিক উদ্যোগ

বিজিবির বিশেষ অভিযানের পাশাপাশি শিক্ষা, জনকল্যাণ ও মানবিক উদ্যোগ
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের থানচিতে দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর সমন্বয়ে ৬-১২ আগস্ট পর্যন্ত বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

এরই ধারাবাহিকতায় ক্যচুপাড়া এলাকায় বেইজ ক্যাম্প স্থাপন করে সমন্বিতভাবে আভিযানিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, চলমান বিশেষ অভিযানের কার্যক্রম পরিদর্শন ও দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিতে আজ ক্যচুপাড়া বেইজ ক্যাম্প পরিদর্শন করেন বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ইয়াসির আরাফাত হোসেন, বিপিএমএস, পদাতিক। এ সময় তিনি সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং সর্বোচ্চ পেশাদারত্ব, সতর্কতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সঙ্গে আস্থা, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির সম্পর্ক অটুট রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সীমান্ত রক্ষার পাশাপাশি মানুষের পাশে দাঁড়ানোই বিজিবির অঙ্গীকার। সেই অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে জোন অধিনায়ক ক্যচুপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৫০ জন শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষা-সহায়ক সামগ্রী ও আর্থিক অনুদান বিতরণ করেন। একই সঙ্গে স্থানীয় পাড়াবাসীর মাঝেও শিক্ষা-সহায়ক সামগ্রী ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।

এ সময় শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনা ও বিদ্যালয়ে উপস্থিতির জন্য উৎসাহিত করার পাশাপাশি দুর্গম অঞ্চলের শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে বিজিবির সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। পাড়াবাসীর সঙ্গে মতবিনিময়কালে স্থানীয়দের সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং সীমান্তের নিরাপত্তা থেকে মানুষের কল্যাণ—প্রতিটি প্রয়োজনে বিজিবি পাশে থাকবে বলে আশ্বস্ত করেন।

দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং মানুষের কল্যাণে মানবিক—এই দ্বৈত অঙ্গীকারকে ধারণ করে বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম একসঙ্গে এগিয়ে নিচ্ছে।

নিরাপত্তায় অটুট, মানবিকতায় অগ্রণী—জনগণের আস্থার সঙ্গে এগিয়ে চলছে বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি)।




নাইক্ষ্যংছড়িতে ইজিবাইকসহ ৩০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার

নাইক্ষ্যংছড়িতে ইজিবাইকসহ ৩০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়িতে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ইজিবাইকসহ ৩০ হাজার ১০০ পিস বার্মিজ ইয়াবা উদ্ধার করেছে নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি)। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বেলা আনুমানিক ১১টা ১৫ মিনিটে নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন সদর থেকে প্রায় ৫০০ গজ দূরে আম্মাজান কমিউনিটি সেন্টারের কাছে সেতুসংলগ্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১১ বিজিবির একটি বিশেষ আভিযানিক দল ওই এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় সন্দেহজনক একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইককে ধাওয়া করা হলে চালক ও ইয়াবা বহনকারী ব্যক্তি ইজিবাইক এবং সঙ্গে থাকা ইয়াবা ফেলে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় ইজিবাইকসহ তিন কার্টনে ৩০ হাজার ১০০ পিস বার্মিজ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা ইয়াবা ও ইজিবাইক পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “দেশের সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান ও মানবপাচার প্রতিরোধ, অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং মাদক পাচার প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে বিজিবি কাজ করে যাচ্ছে। সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।”