লামায় বন্যা-পরবর্তী চরম দুর্ভোগ,কাদা আর ময়লায় অবরুদ্ধ পৌর শহর
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:০১ অপরাহ্ন

লামায় বন্যা-পরবর্তী চরম দুর্ভোগ,কাদা আর ময়লায় অবরুদ্ধ পৌর শহর

লামায় বন্যা-পরবর্তী চরম দুর্ভোগ,কাদা আর ময়লায় অবরুদ্ধ পৌর শহর
ছবি সংগৃহীত।

টানা ভারী বর্ষণ ও মাতামুহুরি নদীর উপচে পড়া পানিতে প্লাবিত হওয়ার পর,বান্দরবানের লামা পৌর শহর থেকে বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে। তবে পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথেই ভেসে উঠেছে দুর্যোগের আরেক নির্মম চিত্র। বন্যার স্রোতে ভেসে আসা পলিমাটি, প্লাস্টিক বর্জ্য, গৃহস্থালি আবর্জনা এবং বাজারের পচা উচ্ছিষ্ট মিলে পুরো পৌর শহর এখন এক বিশাল ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে।দ্রুত এই ময়লা অপসারণের জোর দাবি জানিয়েছেন লামা বাজারের ব্যবসায়ীরা।

শুক্রবার (১০জুলাই) সকালে ​সরেজমিনে লামা বাজারের বিভিন্ন গলি ও প্রধান সড়কগুলোতে দেখা যায়, চারদিকে থৈথৈ করছে কাদা আর আবর্জনা। পানি কিছুটা কমলেও রাস্তাঘাট এখনো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে আছে। ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা ময়লা-কাদা মাড়িয়েই যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন। দোকানপাটের সাটার বন্ধ করে অনেক ব্যবসায়ীকে ভেতরের কাদা ও ময়লা পরিষ্কারে ব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে।

একই সাথে সড়কে জমে থাকা আবর্জনার স্তূপ থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

​স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, বন্যায় তাদের দোকানপাটের মালামাল নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি এখন এই বর্জ্যের কারণে তারা চরম বিপাকে পড়েছেন। দ্রুত এই ময়লা-আবর্জনা এবং কাদা অপসারণ করা না হলে বাজারে ব্যবসা-বাণিজ্য শুরু করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। একই সাথে ডেঙ্গু বা ডায়রিয়ার মতো পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন পৌরবাসী।

​পৌর এলাকার ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা শহরটিকে দ্রুত পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে এবং জনজীবন স্বাভাবিক করতে পৌর কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরুর জোর দাবি জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য,​টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানের লামা উপজেলায় এক ভয়াবহ বিপর্যয়কর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। একদিকে উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে, অন্যদিকে আজিজনগর ইউনিয়নে এক মর্মান্তিক পাহাড় ধসের ঘটনায় শিশুসহ একই পরিবারের ৩ জন এবং অন্য একটি পরিবারের ২ জনসহ মোট ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

লামা পৌর প্রসাশক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মঈন উদ্দিন বলেন,বন্যা পরবর্তী পৌর শহরে ময়লা প্রসারণের জন্য দ্রুত  ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




লামায় শিশু আরাফাত হত্যার ১১ মাস পর প্রধান আসামি পুলিশের জালে

লামায় শিশু আরাফাত হত্যার ১১ মাস পর প্রধান আসামি পুলিশের জালে
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় ৯ বছর বয়সী শিশু আরাফাত হোসেনকে বলাৎকারের পর শ্বাসরোধে হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলার প্রধান আসামি মো. আবদুল কুদ্দুসকে (৩৯) দীর্ঘ ১১ মাস পর গ্রেপ্তার করেছে লামা থানা-পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর থানাধীন চর সামসুদ্দিন এলাকার রফিকগঞ্জ বাজার থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত আবদুল কুদ্দুস লামা উপজেলার ২ নম্বর লামা সদর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বৈক্ষম ঝিরি এলাকার আব্দুর রহিমের ছেলে। তিনি পেশায় একজন অটোরিকশাচালক।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৮ জুলাই দুপুরে লামা থানাধীন বৈল্যারচর এলাকায় বাদীর বসতঘরের সামনে মাচার ঢাসের সঙ্গে গলায় নেটের রশি পেঁচানো অবস্থায় শিশু আরাফাত হোসেনের মরদেহ পাওয়া যায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনায় ৯ জুলাই লামা থানায় প্রথমে একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়।

পরবর্তীকালে ময়নাতদন্ত, ডিএনএ প্রোফাইলিং ও চিকিৎসকদের বিশেষজ্ঞ মতামতে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ডিএনএ পরীক্ষায় শিশুটির অ্যানাল সোয়াবে বীর্যের উপাদানের উপস্থিতি শনাক্ত হয়। চিকিৎসকের মতামত অনুযায়ী, বলাৎকারের পর শ্বাসরোধে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

এরপর চলতি বছরের ১১ জুলাই লামা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি নিয়মিত মামলা করা হয়। মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করেন এসআই মো. সালাহ উদ্দিন। লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কাইছার হামিদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে তদন্তে সহযোগিতা করেন এসআই সত্যজিৎ বড়ুয়া ও এএসআই প্রকাশ ঘোষ।

তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, মামলা হওয়ার বিষয়টি জানতে পেরে আবদুল কুদ্দুস তাঁর ব্যবহৃত অটোরিকশা স্থানীয় একটি গ্যারেজে রেখে পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে আত্মগোপনে চলে যান।

পুলিশের দাবি, তথ্যপ্রযুক্তির আধুনিক ব্যবহার এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ৯ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টার দিকে লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর থানাধীন চর সামসুদ্দিন এলাকার রফিকগঞ্জ বাজারে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাসাবাদে আবদুল কুদ্দুস শিশুটিকে বলাৎকার এবং পরে ঘটনা ধামাচাপা দিতে শ্বাসরোধ করে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

গ্রেপ্তারের পর মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। সেখানে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তিনি স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাইছার হামিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, তথ্যপ্রযুক্তির আধুনিক ব্যবহার এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।




নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম বিজিবির অভিযানে ৩৯,৯২৪ পিস ইয়াবাসহ আটক ২

নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম বিজিবির অভিযানে ৩৯,৯২৪ পিস ইয়াবাসহ আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

বিজিবির বিশেষ অভিযানে ২ জন আসামিসহ ৩৯,৯২৪ পিস বার্মিজ ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়েছে। কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি)-এর ঘুমধুম বিওপির টহল দল এক মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ৩৯,৯২৪ পিস বার্মিজ ইয়াবা ট্যাবলেটসহ ২ জন আসামিকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে। কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম, পিবিজিএম, পিএসসি এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

গত ১১ আগস্ট ২০২৬ রাতে কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি)-এর অধীনস্থ ঘুমধুম বিওপির একটি চৌকস আভিযানিক টহল দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সীমান্ত পিলার-৩২ থেকে আনুমানিক ২০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ‘জামালের ঘের’ নামক স্থানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে এফডিএমএন সদস্য কলিমুল্লাহ (২৫), পিতা: কবির আহমেদ, এফডিএমএন ক্যাম্প-০১, ব্লক-বি/১ এবং সিরাজুল মোস্তফা (২৪), পিতা: জাকির আহমেদ, এফডিএমএন ক্যাম্প-০১, ব্লক-বি/২—এদের ৩৯,৯২৪ পিস বার্মিজ ইয়াবাসহ আটক করা হয়।

উল্লেখ্য, আটক আসামিদের বার্মিজ ইয়াবা ট্যাবলেটসহ প্রচলিত আইন অনুযায়ী থানায় মামলা দায়েরপূর্বক পুলিশের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

অধিনায়ক বলেন, “বিজিবি শুধু সীমান্ত পাহারাতেই নয়, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধেও সমানভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

 

 

উল্লেখ্য, কক্সবাজার রিজিয়নের রামু সেক্টরের অধীনস্থ কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত সুরক্ষা এবং মাদকসহ নানা অবৈধ কার্যক্রম দমনে সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আসছে। এসব অভিযানের ফলে সীমান্তবাসীর মধ্যে আস্থা ও স্বস্তি ফিরে এসেছে।

 

 




বিজিবির বিশেষ অভিযানের পাশাপাশি শিক্ষা, জনকল্যাণ ও মানবিক উদ্যোগ

বিজিবির বিশেষ অভিযানের পাশাপাশি শিক্ষা, জনকল্যাণ ও মানবিক উদ্যোগ
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের থানচিতে দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর সমন্বয়ে ৬-১২ আগস্ট পর্যন্ত বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

এরই ধারাবাহিকতায় ক্যচুপাড়া এলাকায় বেইজ ক্যাম্প স্থাপন করে সমন্বিতভাবে আভিযানিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, চলমান বিশেষ অভিযানের কার্যক্রম পরিদর্শন ও দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিতে আজ ক্যচুপাড়া বেইজ ক্যাম্প পরিদর্শন করেন বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ইয়াসির আরাফাত হোসেন, বিপিএমএস, পদাতিক। এ সময় তিনি সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং সর্বোচ্চ পেশাদারত্ব, সতর্কতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সঙ্গে আস্থা, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির সম্পর্ক অটুট রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সীমান্ত রক্ষার পাশাপাশি মানুষের পাশে দাঁড়ানোই বিজিবির অঙ্গীকার। সেই অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে জোন অধিনায়ক ক্যচুপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৫০ জন শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষা-সহায়ক সামগ্রী ও আর্থিক অনুদান বিতরণ করেন। একই সঙ্গে স্থানীয় পাড়াবাসীর মাঝেও শিক্ষা-সহায়ক সামগ্রী ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।

এ সময় শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনা ও বিদ্যালয়ে উপস্থিতির জন্য উৎসাহিত করার পাশাপাশি দুর্গম অঞ্চলের শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে বিজিবির সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। পাড়াবাসীর সঙ্গে মতবিনিময়কালে স্থানীয়দের সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং সীমান্তের নিরাপত্তা থেকে মানুষের কল্যাণ—প্রতিটি প্রয়োজনে বিজিবি পাশে থাকবে বলে আশ্বস্ত করেন।

দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং মানুষের কল্যাণে মানবিক—এই দ্বৈত অঙ্গীকারকে ধারণ করে বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম একসঙ্গে এগিয়ে নিচ্ছে।

নিরাপত্তায় অটুট, মানবিকতায় অগ্রণী—জনগণের আস্থার সঙ্গে এগিয়ে চলছে বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি)।