শাটডাউন নিয়েও চালু হলো বিদ্যুৎ, চকরিয়ায় খুঁটিতে কাজ করতে গিয়ে শ্রমিকের দুইপা বিচ্ছিন্ন
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ১২:১৯ অপরাহ্ন

শাটডাউন নিয়েও চালু হলো বিদ্যুৎ, চকরিয়ায় খুঁটিতে কাজ করতে গিয়ে শ্রমিকের দুইপা বিচ্ছিন্ন

শাটডাউন নিয়েও চালু হলো বিদ্যুৎ, চকরিয়ায় খুঁটিতে কাজ করতে গিয়ে শ্রমিকের দুইপা বিচ্ছিন্ন
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের চকরিয়া থানা সেন্টার এলাকায় বৈদ্যুতিক খুঁটিতে কাজ করতে গিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন এক শ্রমিক। বিদ্যুৎ বিভাগের চরম অবহেলার অভিযোগে ঘটে যাওয়া এ মর্মান্তিক ঘটনায় শ্রমিকটির একটি পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। জীবিকার তাগিদে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করা শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

শুক্রবার (৮ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চকরিয়া থানা সেন্টার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।


প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে বিদ্যুৎ বিভাগের অনুমতি নিয়ে শাটডাউন নিশ্চিত করার পর বৈদ্যুতিক খুঁটিতে কাজ শুরু করেন শ্রমিক রুপম (২৩)। তিনি চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। কাজ চলাকালে হঠাৎ করেই লাইনে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু হয়ে যায়। এতে মুহূর্তের মধ্যে উচ্চ ভোল্টেজের তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হন তিনি।


স্থানীয়রা জানান, আকস্মিক বৈদ্যুতিক শকে রুপমের দুই পা গোড়ালি পর্যন্ত মারাত্মকভাবে পুড়ে যায়। একপর্যায়ে খুঁটির ওপরেই তিনি আটকা পড়ে থাকেন। ঘটনাস্থলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে ফায়ার সার্ভিস ও বিদ্যুৎ বিভাগের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়। প্রায় আধাঘণ্টা পর ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করেন।


পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। অভিযোগ উঠেছে, যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত না করেই শ্রমিকদের দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করানো হচ্ছিল। শাটডাউন নেওয়ার পরও কীভাবে লাইনে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু হলো—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।


এ বিষয়ে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) চকরিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী আসাদুজ্জামানের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কার্যালয়েও কাউকে পাওয়া যায়নি।


স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, জীবিকার তাগিদে জীবন বাজি রেখে কাজ করা বিদ্যুৎ শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। অন্যথায় এ ধরনের দুর্ঘটনা আরও প্রাণঘাতী রূপ নিতে পারে।




দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা

দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা
ছবি সংগৃহীত।

২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে ১৪০০ নম্বরের মধ্যে ১২৯০ পেয়ে জেলায় শীর্ষ স্থান অর্জন করেছেন কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

কৃতী শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা কক্সবাজার শহরের আলীর জাহাল পশ্চিম বড়ুয়া পাড়ার মো. শাহ আলম ও সাজেদা আক্তার সাজুর মেয়ে।

মুনতাহার প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফলের ধারাবাহিকতা:

তাসনিয়া জাহান মুনতাহা এই মাদ্রাসার একজন অনন্য মেধাবী শিক্ষার্থী। সে প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি বার্ষিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে প্রথম বা দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে এসেছে। পুরো শিক্ষাজীবনে সে কখনো তৃতীয় স্থান লাভ করেনি।

সহশিক্ষা কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণ ও সনদের তালিকা:

পড়াশোনার পাশাপাশি জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তাসনিয়া জাহান মুনতাহার অর্জন এবং সনদের সংখ্যা অসামান্য।




ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ

ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ
ছবি সংগৃহীত।

দাখিল পরীক্ষায় চমক দেখাল ইসলামিয়া মহিলা কামিল (অনার্স-মাস্টার্স) মাদ্রাসা, কক্সবাজার।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, মোট ৮৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৫ জন এবং সাধারণ বিভাগে ১ জন।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মোট ১০০০ নম্বরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২৮৪ পেয়ে রেকর্ড গড়ে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে ওয়ার্দা রিহাব। একই বিভাগের তাহমিদা তবচ্ছুম সাওদা গোল্ডেন জিপিএ-৫-সহ কৃতিত্ব দেখিয়েছে। তার প্রাপ্ত নম্বর ১২৩৬।

ফলাফল শিটে দেখা গেছে, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৯ জন ও সাধারণ বিভাগ থেকে ২৮ জনসহ মোট ৩৭ জন পরীক্ষার্থী ‘এ’ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। তা ছাড়া ১৭ জন এ-, ১৫ জন বি, ৭ জন সি এবং ৫ জন এফ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। মোট পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ।

এদিকে জিপিএ-৫-সহ দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা শফিউল হক জিহাদী। তিনি কৃতী ছাত্রীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।




রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক

রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুতে মায়ের হাতে দুই মাসের শিশুপুত্র জবাই হয়ে নির্মমভাবে খুন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদারপাড়ায় এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

নিহত শিশুর নাম রায়ান আহমেদ (বয়স: ২ মাস)। সে মালয়েশিয়াপ্রবাসী আব্দুল মালেকের সন্তান। শিশুর বাবার বাড়ি রাজারকুল সিকদারপাড়ায় হলেও ঘটনাটি ঘটেছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারের (২৩) বাবার বাড়ি চৌকিদারপাড়ায়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রামু থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারকে আটক করে।

এ বিষয়ে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, পরিবারের তথ্যমতে মেয়েটি মানসিক ভারসাম্যহীন এবং পূর্বে তাকে চিকিৎসকও দেখানো হয়েছে।

সকালে শিশুটিকে নিয়ে রান্নাঘরে ঢুকে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। অভিযুক্ত রোমানা আক্তারকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও বলেন, "পরিবার মানসিক সমস্যার কথা বললেও প্রাথমিকভাবে আমরা তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলতে পারি না। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে এবং চিকিৎসাগত পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।"

ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে দেখছে।