সমঅধিকার ও ন্যায্য খাদ্য বণ্টন নিশ্চিতের দাবিতে টেকনাফে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মানববন্ধন
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:২৯ পূর্বাহ্ন

সমঅধিকার ও ন্যায্য খাদ্য বণ্টন নিশ্চিতের দাবিতে টেকনাফে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মানববন্ধন

সমঅধিকার ও ন্যায্য খাদ্য বণ্টন নিশ্চিতের দাবিতে টেকনাফে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মানববন্ধন
ছবি সংগৃহীত।

​কক্সবাজারের টেকনাফে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে  চলমান খাদ্য সহায়তা অব্যাহত রাখা এবং নতুন বিতরণ ক্যাটাগরি পদ্ধতিতে না দিয়ে ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিতের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুর ১টার দিকে নয়াপাড়া নিবন্ধিত ও আলীখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কয়েক শত রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। বর্তমানে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) প্রস্তাবিত গত ১ লা এপ্রিল থেকে নতুন খাদ্য বিতরণ পদ্ধতি নিয়ে রোহিঙ্গাদের মধ্যে এ অসন্তোষ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে, যার প্রতিবাদেই তারা মানববন্ধনে সমবেত হন।
​মানববন্ধনে অংশ নেওয়া রোহিঙ্গারা জানান, ১৯৯১-৯২ সাল থেকে ২০২৬ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত তারা নিয়মিতভাবে খাদ্য সহায়তা পেয়ে আসছেন। দীর্ঘ প্রবাস জীবনে এই খাদ্য সহায়তা তাদের বেঁচে থাকার প্রধান অবলম্বন। গত মার্চ মাসের ৩১ তারিখ পর্যন্ত সকল রোহিঙ্গাদের একই ক্যাটাগরিতে ডলার নিজস্ব সিমকার্ডে বরাদ্দ হতো। কিন্তু হঠাৎ করে ১ লা এপ্রিল থেকে তিন ক্যাটাগরিতে মাথাপিছু সিমকার্ডে ডলার জমা হচ্ছে। এর মধ্যে  ক্যাটাগরি-১ এ 'যে ফ্যামিলীতে ২ জন পঙ্গু, পরিবারের সব সদস্য শিশু বয়স ১৮ নিচে, সব সদস্য মহিলা, তারা ১২ ডলার পাবে'। ক্যাটাগরি-২ এ পরিবারে ১ জন পঙ্গু থাকলে ১০ ডলার এবং ক্যাটাগরি- ৩ এ কর্মক্ষম পুরুষ প্রধান পরিবার, কোন পঙ্গু নাই তাহলে ৭ ডলার করে পাবে' বলে জানা গেছে । এমন সিদ্ধান্তে রোহিঙ্গারা বৈষম্যের শিকার ও অসন্তোষ প্রকাশ করে রেশন বা খাদ্য না নিয়ে মানববন্ধন করে প্রতিবাদ জানায়।
রোহিঙ্গা প্রতিনিধি বজলুর রহমান বলেন, কয়েক বছর ধরে একই পদ্ধতিতে চলে আসা এই ব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করেই তাদের জীবনযাত্রা পরিচালিত হচ্ছে, তাই কোনোভাবেই এই সহায়তায় ক্যাটাগরি পদ্ধতি ঘটানো যাবে না।
​নতুন প্রস্তাবিত এ পদ্ধতি নিয়ে আপত্তি জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, প্রস্তাবিত নতুন পদ্ধতিতে যদি সমঅধিকার ও ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত করা না হয়, তবে তা মানবাধিকারের চরম পরিপন্থী হতে পারে। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, খাদ্য সহায়তার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বৈষম্য তারা মেনে নেবেন না এবং আগের মতোই সমান ও ন্যায্য হিস্যা বজায় রাখার দাবি জানান।
​রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে চলমান এই অস্থিরতার বিষয়ে টেকনাফ ২৪, ২৬ ও ২৭ নং ক্যাম্প ইনচার্জ খানজাদা শাহরিয়ার বিন মান্নান গণমাধ্যমকে জানান, রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন দাবি ও মানববন্ধনের বিষয়টি সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ পূর্ণ অবগত রয়েছে। তাদের দাবিদাওয়াগুলো গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে।
​মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থা ও কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। তারা দাবি করেন, খাদ্য সহায়তা কার্যক্রম যেন কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয় এবং বিতরণের ক্ষেত্রে যেন স্বচ্ছতা ও সমতা বজায় থাকে। দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে তাদের জীবনধারণ আরও কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।




দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা

দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা
ছবি সংগৃহীত।

২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে ১৪০০ নম্বরের মধ্যে ১২৯০ পেয়ে জেলায় শীর্ষ স্থান অর্জন করেছেন কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

কৃতী শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা কক্সবাজার শহরের আলীর জাহাল পশ্চিম বড়ুয়া পাড়ার মো. শাহ আলম ও সাজেদা আক্তার সাজুর মেয়ে।

মুনতাহার প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফলের ধারাবাহিকতা:

তাসনিয়া জাহান মুনতাহা এই মাদ্রাসার একজন অনন্য মেধাবী শিক্ষার্থী। সে প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি বার্ষিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে প্রথম বা দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে এসেছে। পুরো শিক্ষাজীবনে সে কখনো তৃতীয় স্থান লাভ করেনি।

সহশিক্ষা কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণ ও সনদের তালিকা:

পড়াশোনার পাশাপাশি জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তাসনিয়া জাহান মুনতাহার অর্জন এবং সনদের সংখ্যা অসামান্য।




ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ

ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ
ছবি সংগৃহীত।

দাখিল পরীক্ষায় চমক দেখাল ইসলামিয়া মহিলা কামিল (অনার্স-মাস্টার্স) মাদ্রাসা, কক্সবাজার।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, মোট ৮৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৫ জন এবং সাধারণ বিভাগে ১ জন।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মোট ১০০০ নম্বরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২৮৪ পেয়ে রেকর্ড গড়ে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে ওয়ার্দা রিহাব। একই বিভাগের তাহমিদা তবচ্ছুম সাওদা গোল্ডেন জিপিএ-৫-সহ কৃতিত্ব দেখিয়েছে। তার প্রাপ্ত নম্বর ১২৩৬।

ফলাফল শিটে দেখা গেছে, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৯ জন ও সাধারণ বিভাগ থেকে ২৮ জনসহ মোট ৩৭ জন পরীক্ষার্থী ‘এ’ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। তা ছাড়া ১৭ জন এ-, ১৫ জন বি, ৭ জন সি এবং ৫ জন এফ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। মোট পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ।

এদিকে জিপিএ-৫-সহ দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা শফিউল হক জিহাদী। তিনি কৃতী ছাত্রীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।




রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক

রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুতে মায়ের হাতে দুই মাসের শিশুপুত্র জবাই হয়ে নির্মমভাবে খুন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদারপাড়ায় এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

নিহত শিশুর নাম রায়ান আহমেদ (বয়স: ২ মাস)। সে মালয়েশিয়াপ্রবাসী আব্দুল মালেকের সন্তান। শিশুর বাবার বাড়ি রাজারকুল সিকদারপাড়ায় হলেও ঘটনাটি ঘটেছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারের (২৩) বাবার বাড়ি চৌকিদারপাড়ায়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রামু থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারকে আটক করে।

এ বিষয়ে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, পরিবারের তথ্যমতে মেয়েটি মানসিক ভারসাম্যহীন এবং পূর্বে তাকে চিকিৎসকও দেখানো হয়েছে।

সকালে শিশুটিকে নিয়ে রান্নাঘরে ঢুকে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। অভিযুক্ত রোমানা আক্তারকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও বলেন, "পরিবার মানসিক সমস্যার কথা বললেও প্রাথমিকভাবে আমরা তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলতে পারি না। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে এবং চিকিৎসাগত পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।"

ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে দেখছে।