সাতকানিয়া-লোহাগাড়ায় বিএনপির প্রার্থী পরিবর্তনের দাবি

দলীয় প্রার্থী ঘোষণাকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) সংসদীয় এলাকায় বিএনপি পরিবারে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। প্রার্থী পরিবর্তনের জন্য জোর দাবি তুলেছে মনোনয়ন বঞ্চিত নেতাদের অনুসারীরা। মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার দাবিতে মিছিল, সমাবেশ, সড়ক অবরোধের মতো কর্মসূচি পালিত হয়েছে। এবার দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটিতে থাকা সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার তিন শীর্ষ নেতা আরও কঠোর অবস্থানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
চট্টগ্রাম–১৫ (সাতকানিয়া–লোহাগাড়া) আসনে লোহাগাড়ার বাসিন্দা ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নাজমুল মোস্তফা আমিনকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিএনপি। এই মনোনয়নকে ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে তীব্র অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। তৃণমূল পর্যায়ের অসন্তোষ, মাঠের নেতা-কর্মীদের প্রতিবাদ এবং মনোনয়ন প্রত্যাশী তিন প্রভাবশালী নেতার প্রকাশ্য অসন্তোষের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে।
সূত্র জানায়, মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার দাবিতে তিন নেতা ইতোমধ্যে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছেন। এতে পুরো আসনজুড়ে তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ।
বুধবার (১০ ডিসেম্বর) চট্টগ্রামের একটি রেস্টুরেন্টে এ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী তিন নেতা বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জামাল হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক মুজিবুর রহমান এবং আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শেখ মোহাম্মদ মহিউদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। তারা সবাই নাজমুল মোস্তফা আমিনের প্রাথমিক মনোনয়ন বাতিল করে নতুনভাবে মনোনয়ন বিবেচনার দাবি জানান।
তৃণমূলের কাছে গ্রহণযোগ্যতা না থাকলে প্রার্থী টিকবে না বলে উল্লেখ করে জামাল হোসেন বলেন, "চট্টগ্রাম-১৫ আসন দলীয় আন্দোলনের একটি কেন্দ্রবিন্দু। এখানে তৃণমূল খুব সচেতন। জনগণের আস্থা না থাকলে নির্বাচনী মাঠে দল বিপাকে পড়বে। বাস্তবতার আলোকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।"
দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের মূল্যায়ন প্রয়োজন বলে মন্তব্য করে মুজিবুর রহমান বলেন, "যারা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন, মামলা–হামলার ঝুঁকি নিয়েছেন তাদের অবদান অস্বীকার করা যায় না। তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া খুব স্পষ্ট—এই মনোনয়ন পুনর্মূল্যায়ন করতেই হবে।"
জনপ্রিয়তা ও মাঠের বাস্তবতা বিবেচনায় প্রার্থী নির্ধারণ করার দাবি জানিয়ে শেখ মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, "এলাকাবাসী কার প্রতি আস্থা রাখে তা দলকে বিবেচনায় নিতে হবে। ঘোষিত মনোনয়ন তৃণমূলের মনস্তত্ত্বকে ধারণ করতে পারেনি। তাই নতুন করে মূল্যায়ন জরুরি।"
উল্লেখ্য, গত ৪ ডিসেম্বর এ আসনের দলীয় প্রার্থী হিসেবে নাজমুল মোস্তফা আমিনের নাম ঘোষণার পর থেকেই সাতকানিয়া ও লোহাগাড়ার বিভিন্ন স্থানে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীরা মশাল মিছিল, প্রতিবাদ সমাবেশ এবং সড়কে প্রতীকী অবস্থান কর্মসূচি পালন করে প্রার্থী পরিবর্তনের দাবি জানান।
একজন স্থানীয় নেতা বলেন, "দল যাকে ঘোষণা করেছে তাকে দুঃসময়ে এলাকায় দেখিনি। প্রার্থী ঘোষণার পর থেকে কোনো সভা, সমাবেশ, মিছিল কিংবা নির্বাচনী কার্যক্রম কিছুই হয়নি।"
আরেকজন বলেন, "জনপ্রিয়তা, গ্রহণযোগ্যতা ও আন্দোলনে সক্রিয়তার ভিত্তিতে প্রার্থী ঠিক করতে হবে। আমরা চাই, দল যেন জয়ের মতো প্রার্থী নিশ্চিত করে।"
চট্টগ্রাম-১৫ আসন বিএনপির দীর্ঘদিনের শক্ত ঘাঁটি। প্রায় দুই যুগ পর ধানের শীষে নির্বাচনে ফেরার প্রেক্ষাপটে তৃণমূলের প্রত্যাশা ছিল উচ্চ। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তিন শীর্ষ নেতার কঠোর অবস্থান প্রার্থী বাছাইয়ের প্রশ্নে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। মাঠে নেতাকর্মীদের প্রতিক্রিয়াও এখন হাইকমান্ডের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।












