সাতকানিয়া-লোহাগাড়ায় ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি বসাচ্ছেন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা

চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনের ভোটকেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের দায়িত্ব পেয়েছেন নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের এক নেতা। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের আগে সংবেদনশীল এই কাজে মোহাম্মদ শহিদ নামের ওই নেতার সম্পৃক্ততায় স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
মোহাম্মদ শহিদ লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মনির আহমদের ছেলে এবং ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সক্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিত। তাঁর বড় ভাই সেলিম উদ্দিন উপজেলা যুবলীগ নেতা এবং সাবেক সংসদ সদস্য আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভীর ঘনিষ্ঠ অনুসারী। সম্প্রতি সাবেক এই সংসদ সদস্যের সাথে শহিদের বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
নির্বাচন কমিশন ও সরকার সারাদেশে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি স্থাপনের জন্য বিশেষ বরাদ্দ দিলেও সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া উপজেলায় সেই কাজ দেওয়া হয়েছে বিতর্কিত এই ব্যক্তিকে। এ বিষয়ে সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, "ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে আমি অবগত নই। উপজেলা প্রকৌশলী ও আইসিটি কর্মকর্তা বিষয়টি তদারকি করছেন।"
অন্যদিকে, লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, "তিনি ছাত্রলীগ করতেন তা আমাদের জানা ছিল না। সাতকানিয়ায় কাজ করেছেন দেখে আমরাও তাঁকে দায়িত্ব দিয়েছি। তবে আমাদের শক্তিশালী নিরাপত্তা টিম কাজ করছে।"
বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আসহাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, "উপজেলা প্রশাসনের উচিত দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে নিরপেক্ষ কাউকে দায়িত্ব দেওয়া।" ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জামায়াত নেতা শাহজাহান চৌধুরী বলেন, "এটি সত্যি হলে উদ্বেগজনক; আমরা প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করব।"
অভিযুক্ত মোহাম্মদ শহিদ দাবি করেছেন, লোহাগাড়া ও সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারাই তাঁকে এই কাজের দায়িত্ব দিয়েছেন। বর্তমানে দুই উপজেলায় সিসিটিভি স্থাপনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।











